মাফিয়া পরিবারের উত্তরাধিকারী মাইকেল করলিওনে থেকে দুর্ধর্ষ গ্যাংস্টার টনি মন্টানা— বিচিত্র সব চরিত্রে অভিনয় করে ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা আল পাচিনো। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য স্মরণীয় চরিত্র উপহার দেওয়া এই বর্ষীয়ান অভিনেতা এবার পেতে যাচ্ছেন আজীবন সম্মাননা। ২০২৭ সালের ‘অ্যাক্টর অ্যাওয়ার্ডস’ অনুষ্ঠানে তাকে দেওয়া হবে ‘লাইফ অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন সাগ-আফট্রা (SAG-AFTRA) এ ঘোষণা দিয়েছে। ৮৬ বছর বয়সী আল পাচিনো হবেন সংগঠনটির দেওয়া এই সম্মাননার ৬২তম প্রাপক।
আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হবে ৩৩তম অ্যাক্টর অ্যাওয়ার্ডস। সেখানেই আল পাচিনোর হাতে তুলে দেওয়া হবে এই সম্মাননা। অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে নেটফ্লিক্সে।
আল পাচিনোর অভিনয়জীবনের অন্যতম মাইলফলক ১৯৭২ সালের ‘দ্য গডফাদার’। ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলার পরিচালনায় সিনেমাটিতে মাইকেল করলিওনে চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি এই অভিনেতাকে।
১৯৭৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘সারপিকো’ সিনেমায় বাস্তব জীবনের পুলিশ কর্মকর্তা ফ্র্যাঙ্ক সারপিকো চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসিত হন আল পাচিনো। ১৯৮৩ সালের ‘স্কারফেস’ সিনেমায় টনি মন্টানা চরিত্রে তার অভিনয়ও চলচ্চিত্রের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে। এ ছাড়া ২০১৯ সালে কোয়েন্টিন ট্যারান্টিনোর ‘ওয়ান্স আপন আ টাইম… ইন হলিউড’ সিনেমায় হলিউডের এজেন্ট মারভিন শোয়ার্জের চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।
১৯৪০ সালে নিউইয়র্কে জন্ম নেওয়া আল পাচিনোর পুরো নাম আলফ্রেডো জেমস পাচিনো। অভিনয়জীবনের শুরুতে কাজের সুযোগ পেতে দীর্ঘ সংগ্রাম করতে হয়েছিল তাকে। ষাটের দশকে মঞ্চে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে নিজের দক্ষতা গড়ে তোলেন তিনি। পরে ‘দ্য গডফাদার’-এর সাফল্য তাঁকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেয়।
এরপর চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও মঞ্চ—তিন মাধ্যমেই নিজের অভিনয়প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন আল পাচিনো। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একাডেমি অ্যাওয়ার্ড, এমি ও টনি অ্যাওয়ার্ডসহ অভিনয়জগতের গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার অর্জন করেছেন তিনি। এবার আজীবন সম্মাননা তার দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় অভিনয়জীবনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি হয়ে উঠতে যাচ্ছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ