চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বহুল আলোচিত জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ একাডেমি ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনার খবরে উচ্ছেদের আশঙ্কায় বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলমের এলাকা পরিদর্শন ও মতবিনিময়কালে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জুমার নামাজের পর জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর স্কুলে স্থানীয়দের সাথে এসপির মতবিনিময় সভায় যোগ দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে বহু মানুষ সেখানে সমবেত হন। বহু বছর ধরে নিজস্ব জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করা সত্ত্বেও, হঠাৎ সরকারি বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে ভিটেমাটি হারানোর শঙ্কা থেকেই স্থানীয়রা বিক্ষোভে নামেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক মিনিট ৩০ সেকেন্ডের এক ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা হাতে লিফলেট নিয়ে ‘নিজের টাকা দিয়ে জায়গা কিনেছি, সেই জায়গা ফেরত চাই’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও পুলিশের সামনে বেশ কিছু নারী ও পুরুষকে চরম ক্ষোভ প্রকাশ ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে বাগ্বিতণ্ডা ধস্তাধস্তিতে রূপ নিলে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেন, যার ফলে মুহূর্তেই আশপাশের সব দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত ও উদ্বিগ্ন বাসিন্দারা স্পষ্ট জানান, নিজেদের অর্জিত অর্থ দিয়ে জমি কিনে দীর্ঘকাল ধরে তারা এখানে বসতি স্থাপন করেছেন। কোনো অবস্থাতেই তাদের উচ্ছেদ করে পথে বসানো যাবে না। তাদের দাবি—উন্নয়ন কাজের বিরোধিতা না করলেও, জোরপূর্বক উচ্ছেদ বন্ধ করে সরকারি প্রয়োজনে জমি অধিগ্রহণ করতে হলে অবশ্যই বিধি অনুযায়ী উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
পরিস্থিতি সম্পর্কে জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, স্থানীয়দের মাঝে জমি উচ্ছেদ ও দখল নিয়ে এক ধরনের বিভ্রান্তি ও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে। সেখানে আগতদের আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে যে, কাউকে অন্যায্য বা বেআইনিভাবে উচ্ছেদ করা হবে না। সরকারি উদ্দেশ্যে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি প্রয়োজন হলে আইন মেনেই অধিগ্রহণ বা ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে, এবং খাসজমির ক্ষেত্রে সরকারি বিধি অনুসরণ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ৮ অক্টোবর সচিবালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর এলাকার শান্তি ও সুশাসন ফেরাতে রাজশাহীর সারদার আদলে একটি আন্তর্জাতিক মানের নতুন ‘পুলিশ একাডেমি’ এবং চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তর প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এর অংশ হিসেবে প্রায় ৭২ একর জমি নির্ধারণের পাশাপাশি সেখানে বিজিবি, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ক্যাম্পও স্থাপন করা হচ্ছে। সরকারি এই ঘোষণার পর থেকেই পুরো জঙ্গল সলিমপুরজুড়ে উচ্ছেদ-আতঙ্কে হাজার হাজার পরিবার শঙ্কার মধ্যে প্রহর গুণছে।
সময়ের আলো/এনএন