চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সরকারি সড়কের জায়গা দখল করে বাড়িঘর ও দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ৫ নম্বর বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের মধ্যম মাহমুদাবাদ ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাহারিয়ার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। জামে মসজিদসংলগ্ন সাহেবানি সড়কে দীর্ঘদিন ধরে দখলদারত্ব চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না উপজেলা প্রশাসন। একাধিক লিখিত অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সড়কের জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী জানে আলম বাবুলের বিরুদ্ধে। তিনি ওই এলাকার মৃত এরশাদ উল্যা সেরাংয়ের ছেলে। সড়কটি দখলমুক্ত করার দাবিতে স্থানীয় যুবক মো. ইব্রাহিম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারি নকশা অনুযায়ী সড়কটির প্রস্থ ২৪ ফুট। তবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সংস্কারকাজের সময় সঠিকভাবে পরিমাপ না করায় জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
তাঁদের দাবি, প্রকৃত নকশা অনুযায়ী সড়কটি পরিমাপ না করে উত্তর পাশের জমির মালিকদের অংশের ওপর দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এতে বাহারিয়ার পাড়া জামে মসজিদ থেকে জলদাশ পাড়া পর্যন্ত সড়কের দক্ষিণ পাশে ১০ থেকে ১২ ফুট জায়গা দখল হয়েছে। ওই জায়গায় স্থায়ী বাড়ি ও দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সরকারি ডিজিটাল জরিপের মাধ্যমে সড়কটি পুনরায় পরিমাপ করলে প্রকৃত সীমানা চিহ্নিত করা সম্ভব। তবে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক চাপের কারণে অনেকে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। এর আগে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় স্থানীয়দের মধ্যে একাধিক মামলা-মোকদ্দমা ও সামাজিক বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে বলেও দাবি তাঁদের।
বারবার লিখিত অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার না পাওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।
অভিযোগের বিষয়ে জানে আলম বাবুল বলেন, ‘আমি আমার কেনা জায়গার ওপরই বাড়ি ও দেয়াল নির্মাণ করছি। সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিনে এসে আমার জায়গা পরিমাপ করে দিয়েছেন। আমি কারও জায়গা দখল করিনি।’
তবে তাঁর এ বক্তব্যের বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফজলে রাব্বি বলেন, সড়ক দখল বা পরিমাপের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
অন্যদিকে উপজেলা প্রকৌশলী মো. আলমগীর বাদশা বলেন, ‘সরকারি সড়ক দখল উচ্ছেদ করা আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। এমনকি আমার কাছে সড়কের কোনো সঠিক ম্যাপ বা নকশাও নেই। এটি উদ্ধারের দায়িত্ব স্থানীয় এলাকাবাসীর।’
এদিকে, সরকারি সড়ক দখল বেআইনি হলেও ইউএনও কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেছেন মো. ইব্রাহিম। প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
সময়ের আলো/এনএন