মার্কিন অবরোধের মধ্যেও এলপিজি ও জেট জ্বালানি রফতানি করছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

মার্কিন নৌ অবরোধের মধ্যেও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও জেট জ্বালানির কয়েকটি চালান রফতানি করতে পেরেছে ইরান। জাহাজ চলাচলের গোয়েন্দা

2026-10-16T22:25:53+00:00
2026-10-16T22:25:53+00:00
 
  শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬,
৩১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
মার্কিন অবরোধের মধ্যেও এলপিজি ও জেট জ্বালানি রফতানি করছে ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৫ পিএম 
এলপিজি বহনকারী জাহাজ। সংগৃহীত ছবি
মার্কিন নৌ অবরোধের মধ্যেও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও জেট জ্বালানির কয়েকটি চালান রফতানি করতে পেরেছে ইরান। জাহাজ চলাচলের গোয়েন্দা তথ্য, স্যাটেলাইটের ছবি এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের তথ্যের ভিত্তিতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।  

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় থেকে অন্তত আটটি গ্যাসবাহী জাহাজ ইরানের এলপিজি নিয়ে ওমান উপসাগর ছেড়ে গেছে। এ ছাড়া, সেপ্টেম্বরে ইরানের জেট জ্বালানিবাহী আরেকটি জাহাজ মিয়ানমারে পৌঁছেছে বলে সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা সিনম্যাক্সের স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে জানা গেছে।  

ইরান-সংশ্লিষ্ট ট্যাংকার চলাচল পর্যবেক্ষণকারী মার্কিন সংস্থা ইউনাইটেড অ্যাগেইনস্ট নিউক্লিয়ার ইরানির (ইউএএনআই) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এলপিজিবাহী জাহাজগুলোতে মোট প্রায় ৪১ লাখ ব্যারেল জ্বালানি ছিল। তবে ইরানের আগের জ্বালানি রফতানির তুলনায় এই পরিমাণ কম। এসব জাহাজের মধ্যে ছয়টি এবং জেট জ্বালানিবাহী জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। 

সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ওমানের শিনাস ও সোহর শহরের উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় ইরানের জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে জ্বালানি স্থানান্তর করা হয়েছে। কয়েকটি জাহাজ ওমান উপসাগরে অপেক্ষা করার পর মার্কিন অবরোধ অতিক্রম করে। পরে অধিকাংশ চালান মালয়েশিয়ার পূর্বাঞ্চলের বহির্বন্দর এলাকায় পৌঁছে অন্য জাহাজে স্থানান্তর করা হয়। এসব জ্বালানির সম্ভাব্য গন্তব্য চীন।


ইউএএনআইয়ের জ্যেষ্ঠ গবেষণা বিশ্লেষক জেমিমা শেলি মনে করেন, এসব চালান ইরানের জ্বালানি রফতানির নতুন কোনো কৌশলের চেয়ে বরং বিদ্যমান সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের জ্বালানিবাহী অধিকাংশ জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত ১৪ জুলাই পুনরায় চালু করা নৌ অবরোধ কঠোরভাবে কার্যকর রয়েছে। ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে সংস্থাটি জানায়, অবরোধ কার্যকরের তিন মাসে চারটি বাণিজ্যিক জাহাজকে চলাচলের অযোগ্য করা হয়েছে এবং ১৩৫টি জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।  

অন্যদিকে, মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জাহাজ চলাচল-সংক্রান্ত তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার দাবি, জাহাজগুলো নিজেদের অবস্থানের তথ্য জাল করতে পারে অথবা পণ্য বোঝাইয়ের সময় মিথ্যা পরিচয় ব্যবহার করতে পারে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে দেশটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক টরবিয়র্ন সল্টভেডের মতে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের বিমান চলাচল খাত চাপে থাকায় উদ্বৃত্ত জেট জ্বালানি রপ্তানি দেশটির জন্য লাভজনক বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।  

জ্বালানি তথ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি শূন্যে নেমে আসে। ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি তথ্য সংগ্রহ শুরু করার পর এই প্রথম কোনো মাসে ইরানের অপরিশোধিত তেলের চালান শনাক্ত করা যায়নি। 


সময়ের আলো/ইউএমএইচ

  বিষয়:   মার্কিন অবরোধ  এলপিজি  জেট  জ্বালানি  রফতানি  ইরান 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: