দেশে আমদানি কার্যক্রমে গতি ফিরতে শুরু করেছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় সামগ্রিকভাবে ঋণপত্র বা এলসি খোলা বেড়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ। তবে খাতভিত্তিক হিসাবে ভোগ্যপণ্য আমদানিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হলেও শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে প্রবৃদ্ধি ছিল নামমাত্র। পাশাপাশি শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির এলসি নিষ্পত্তিও কমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে মোট ১ হাজার ৩৯৪ কোটি ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১৮২ কোটি ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এলসি খোলা বেড়েছে ১৭ দশমিক ৯২ শতাংশ।
একই সময়ে এলসি নিষ্পত্তি বেড়েছে ১০ দশমিক ৭৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ১ হাজার ২৪৬ কোটি ৬০ লাখ ডলারের এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১২৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ভোগ্যপণ্য আমদানির জন্য ১২৫ কোটি ৯০ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১০০ কোটি ৩০ লাখ ডলার। ফলে এ খাতে এলসি খোলা বেড়েছে ২৫ দশমিক ৫০ শতাংশ।
তবে ভোগ্যপণ্যের এলসি নিষ্পত্তি বেড়েছে তুলনামূলক কম হারে। এ সময়ে ১০১ কোটি ৭০ লাখ ডলারের এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। ভোগ্যপণ্যের বিপরীতে শিল্পের কাঁচামাল আমদানির এলসি খোলায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ২১ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে এ খাতে ৪২১ কোটি ৬০ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৪২০ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
অন্যদিকে এ খাতে এলসি নিষ্পত্তি কমেছে ২ দশমিক ১৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ৩৮০ কোটি ২০ লাখ ডলারের এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩৮৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
যন্ত্রপাতিতে এলসি খোলা বাড়লেও নিষ্পত্তি কম
শিল্পের সম্প্রসারণ ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির এলসি খোলা বেড়েছে ১২ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এ সময়ে ৩৫ কোটি ৭০ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। তবে নিষ্পত্তি কমেছে ৫ দশমিক ৫২ শতাংশ।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রবাসী আয় বৃদ্ধি ও ডলার সংকট কিছুটা কমে আসায় আমদানিকারকদের এলসি খোলা এবং নিষ্পত্তির সক্ষমতা বেড়েছে। তবে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির বিপরীতে শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির এলসি নিষ্পত্তি কমে যাওয়ার বিষয়টি লক্ষণীয়।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে