নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রতিদিন ভোর থেকে নিরলসভাবে কাজ করেন হরিজন সম্প্রদায়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। তাঁদের শ্রমে পরিচ্ছন্ন থাকে শহরের পথঘাট। অথচ নগর পরিচ্ছন্ন রাখার এই কারিগরদের অনেক সময়ই থাকতে হয় অবহেলিত। এবার শারদীয় দুর্গাপূজার আনন্দ তাঁদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে ব্যক্তিগত অর্থায়নে প্রায় ৩০০ জনকে ২ হাজার টাকা করে পূজার বোনাস দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে টাঙ্গাইল সার্কিট হাউসে হরিজন সম্প্রদায়ের সদস্যদের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন তিনি।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সবাই যেন আনন্দের সঙ্গে উৎসবটি উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এই বোনাস দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘দুই মাস আগেও আপনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলাম। তখন বলেছিলাম, আপনাদের যেকোনো সুবিধা-অসুবিধায় পাশে থাকব। গত পূজায় আপনাদের শাড়ি দিতে গিয়েছিলাম। এবার বোনাস দেওয়ার কথা দিয়েছিলাম। সেই কথা অনুযায়ী আজ আপনাদের হাতে নগদ অর্থ তুলে দিচ্ছি।’
হরিজন সম্প্রদায়ের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারাই শহরটাকে পরিষ্কার রাখেন। আমরা প্রতিদিন যে পরিচ্ছন্ন নগরী দেখতে পাই, তার পেছনে আপনাদের নিরলস পরিশ্রম রয়েছে। অথচ আপনাদের বেতনের পরিমাণ খুবই কম। ভবিষ্যতে যাতে বেতন বাড়ে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।’
তিনি আরও বলেন, হরিজন সম্প্রদায়ের জন্য আধুনিক আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। তাঁদের পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে কিংবা অন্য কোনো সমস্যায় পড়লে তিনি পাশে থাকবেন। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজের সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। অন্য কেউ যাতে তাঁদের কাজের সুযোগ কেড়ে নিতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আপনাদের যেকোনো প্রয়োজনে সহযোগিতা করব। আপনারা আমাদের ওপর আস্থা রাখবেন। আল্লাহর রহমতে আমরা যা বলি, তা করার চেষ্টা করি। আমরা চাই, সবাই মিলে পরিচ্ছন্ন টাঙ্গাইল ও নিরাপদ টাঙ্গাইল গড়ে তুলব।’
এ সময় পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তুলতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানান সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। পাশাপাশি মাদক থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, মাদক মানুষের জীবন ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে পরিবারের ওপরও।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. সেলিম মিঞা, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়া, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দুর্জয় হোড় শুভসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং হরিজন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা।
সময়ের আলো/এসএকে