দেশের বরেণ্য নাট্যজন ও প্রখ্যাত অভিনেতা মামুনুর রশীদের টাঙ্গাইল শহরের পলাশতলী এলাকার পৈতৃক বাড়িতে এক দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার (১০ অক্টোবর) এই ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা বাড়ির বারান্দার গ্রিলের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আলমারি, ওয়্যারড্রোব ও ফাইল ক্যাবিনেট ভেঙে মালামাল লুটপাট ও তছনছ করেছে।
এই ঘটনায় সোমবার (১২ অক্টোবর) মামুনুর রশীদের বোন আফিয়া খান বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল শহরের ময়মনসিংহ সড়কের পলাশতলী এলাকায় অবস্থিত ওই বাড়িটি দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন আফিয়া খানের পূর্বপরিচিত শফিকুর রহমান। কয়েক দিন আগে আফিয়া খান ঢাকায় যাওয়ার সময় তাকে বাড়িটি দেখভালের দায়িত্ব দিয়ে যান। গত শনিবার সকাল ৯টার দিকে শফিকুর রহমান বাড়িতে তালা দিয়ে ব্যক্তিগত কাজে বাইরে যান। বিকেল ৫টার দিকে ফিরে এসে তিনি বাড়ির বারান্দার গ্রিলের তালা ভাঙা দেখতে পান। ঘরে ঢুকে মেঝেতে বিভিন্ন জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখেন তিনি।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাড়ির তিনটি স্টিলের আলমারি ও একটি ফাইল ক্যাবিনেট ভাঙা এবং কাঠের একটি ওয়্যারড্রোব খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। ওই আলমারিগুলোতে মামুনুর রশীদসহ তার নয় ভাই-বোনের মূল্যবান জিনিসপত্র রাখা ছিল। তবে ঠিক কী কী জিনিস খোয়া গেছে, তা শনাক্ত করতে কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছে পরিবার।
এ ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে আফিয়া খান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বাড়িটি আমার প্রয়াত বাবা-মায়ের অত্যন্ত প্রিয় ছিল। এই ঘটনার পর থেকে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। দুর্বৃত্তরা বাড়ির অনেক বড় ক্ষতি করেছে।’
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বরেণ্য অভিনেতা মামুনুর রশীদ বলেন, ‘আমার প্রয়াত মা ওই বাড়িতে থাকতেন। চুরির ঘটনাটি শুনেছি। বাড়ির আলমারি ও ফাইল ক্যাবিনেট ভেঙে জিনিসপত্র এলোমেলো করে ছড়িয়ে রাখা হয়েছে। তবে কী কী জিনিস চুরি গেছে, তা আমার বোনেরা এখনো পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেননি।’
টাঙ্গাইল সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ভিক্টর ব্যানার্জী জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। মামুনুর রশীদের বোন আফিয়া খান অভিযোগটি করেছেন। অপরাধীদের শনাক্ত করতে এবং খোয়া যাওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশ ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।
সময়ের আলো/আতা