ট্রাম্পের পর আর কেউ পাবেন না ফিফার শান্তি পুরস্কার?

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলা

বেশ ঘটা করেই শান্তি পুরস্কার চালু করেছিল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। প্রথমবারের মতো দেওয়া সেই পুরস্কার পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট

2026-10-17T08:56:34+00:00
2026-10-17T08:58:04+00:00
 
  শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬,
১ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
খেলা
ট্রাম্পের পর আর কেউ পাবেন না ফিফার শান্তি পুরস্কার?
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৬ এএম  আপডেট: ১৭.১০.২০২৬ ৮:৫৮ এএম
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ছবি : সংগৃহীত
বেশ ঘটা করেই শান্তি পুরস্কার চালু করেছিল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। প্রথমবারের মতো দেওয়া সেই পুরস্কার পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে, পুরস্কার চালুর এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই এর ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। বিতর্কের মুখে ফিফার ভেতরে পুরস্কারটি বাতিল করা কিংবা রাজনীতিবিদদের জন্য অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব উঠেছে। ফলে, ট্রাম্পই হয়ত ফিফার শান্তি পুরস্কার পাওয়া প্রথম ও শেষ ব্যক্তি হয়ে থাকবেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে পুরস্কারটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে কয়েকজন সদস্য পুরস্কারটি বাতিলের পক্ষে মত দেন। অন্যদের প্রস্তাব, পুরস্কার চালু থাকলেও রাজনীতিবিদদের যেন এর আওতার বাইরে রাখা হয়।

তবে, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পুরস্কারটি চালু রাখা হবে কি না, চালু থাকলে কারা এটি পাওয়ার যোগ্য হবেন এবং বিজয়ী নির্বাচনের প্রক্রিয়া কী হবে- এসব বিষয় পর্যালোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফিফার ফুটবল সামাজিক দায়বদ্ধতা কমিটিকে। আগামী ডিসেম্বরে ফিফা কাউন্সিলের পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

২২ সদস্যের এই কমিটির সভাপতি মিয়ানমারের ফুটবল কর্মকর্তা জাও জাও। সহসভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন আর্জেন্টিনা ও ইন্টার মিলানের সাবেক তারকা হাভিয়ের জানেত্তি। আগামী ১৬ ডিসেম্বর কাতারের দোহায় ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকের আগে কমিটির সুপারিশ জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।


ফিফার সহসভাপতি ও ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডেবি হিউইট বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘শান্তি পুরস্কারটি পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এমন একটি পুরস্কার আদৌ থাকা উচিত ছিল কি না, কিসের ভিত্তিতে এটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং ভবিষ্যতে আরেকটি পুরস্কার দেওয়া হবে কি না, এসব প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক দায়বদ্ধতা কমিটি বিষয়গুলো খতিয়ে দেখবে।’

২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর প্রথমবারের মতো শান্তি পুরস্কার চালুর ঘোষণা দেয় ফিফা। সংস্থাটির উদ্দেশ্য ছিল, বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে অসাধারণ অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মান জানানো। প্রতিবছর এ পুরস্কার দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিল তারা।

ঘোষণার এক মাস পর, ৫ ডিসেম্বর ওয়াশিংটনের কেনেডি সেন্টারে ২০২৬ বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে প্রথম পুরস্কারটি ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। পুরস্কারের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে একটি স্মারক পদক ও সনদও দেওয়া হয়।

কিন্তু ট্রাম্পকে পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত শুরু থেকেই সমালোচনার জন্ম দেয়। দ্য অ্যাথলেটিক-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফা কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই প্রথম বিজয়ী নির্বাচন করেছিলেন ইনফান্তিনো। কাদের বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল কিংবা কোন পদ্ধতিতে ট্রাম্পকে বিজয়ী করা হয়, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এতে ফিফার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা এবং সংস্থাটির শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থা হিসেবে ফিফার এমন পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়।


দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফা কাউন্সিলের কয়েকজন সদস্য মনে করছেন, বর্তমান কাঠামোয় পুরস্কারটি চালিয়ে যাওয়া ঠিক হবে না। তাদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে অন্য কোনো রাজনৈতিক নেতাকে এ পুরস্কার দেওয়া হলে নতুন করে বিতর্ক কিংবা কূটনৈতিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

এ কারণে পুরস্কারটির ধরন পরিবর্তনের প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। কাউন্সিলের এক সদস্য দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন, ফুটবলের মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি ও দায়িত্বশীলতা প্রতিষ্ঠায় অসাধারণ অবদান রাখা ব্যক্তিদের জন্য পুরস্কারটি নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

এই প্রস্তাব কার্যকর হলে রাজনীতিবিদেরা আর পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য থাকবেন না। পাশাপাশি বিজয়ী মনোনয়ন ও নির্বাচনের জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠেছে। তবে, এসব প্রস্তাব এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।

শান্তি পুরস্কার নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব নিয়ে একটি বিনিয়োগ পরিকল্পনা কাউন্সিল সদস্যদের সঙ্গে যথাযথভাবে আলোচনা না করায় ক্ষমা চান তিনি।

‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামের ওই পরিকল্পনায় বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক স্বত্ব পরিচালনার জন্য নতুন একটি প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব ছিল। তবে, ব্যাপক সমালোচনার মুখে পরিকল্পনাটি প্রত্যাহার করা হয়। ফিফা জানিয়েছে, এটি আর ফিরিয়ে আনা হবে না।

বাণিজ্যিক স্বত্ব নিয়ে ওই পরিকল্পনার পাশাপাশি ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্তও ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন বাড়িয়েছে। সংস্থাটির ভেতরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করার দাবিও জোরালো হচ্ছে।

সব মিলিয়ে ফিফার শান্তি পুরস্কারের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। পুরস্কারটি বাতিল হবে, নাকি নতুন নীতিমালার আওতায় চালু থাকবে- তা নির্ভর করছে সামাজিক দায়বদ্ধতা কমিটির পর্যালোচনা ও সুপারিশের ওপর। আগামী ডিসেম্বরে ফিফা কাউন্সিলের সিদ্ধান্তেই স্পষ্ট হবে, ট্রাম্পের হাতেই কি এই পুরস্কারের যাত্রা শেষ হচ্ছে, নাকি নতুন কোনো কাঠামোয় তা টিকে থাকবে।

সময়ের আলো/মহু
  বিষয়:   ট্রাম্প  ফিফা  শান্তি পুরস্কার  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: