কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে মাদকের আড্ডায় বিরোধের জেরে আরিফ মিয়া ওরফে সালমান (১৯) নামের এক তরুণকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার বন্ধুদের বিরুদ্ধে। হত্যার পর মরদেহ নরসুন্দা নদীতে ফেলে গুম করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিখোঁজের প্রায় পাঁচ মাস পর শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নদী থেকে তার কঙ্কাল ও হাড়ের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।
নিহত সালমান হোসেনপুর উপজেলার সাহেদুল ইউনিয়নের দক্ষিণ কুড়িমারা গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ সুপার জানান, গত ১৮ মে সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে বাড়ি থেকে বের হন সালমান। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরদিন তার বাবা ফজলুর রহমান হোসেনপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পুলিশের কাছে তথ্য ছিল, মাদকের আড্ডায় বিরোধের জেরে সালমানকে হত্যা করে মরদেহ গুম করা হয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে তার বন্ধুদের গতিবিধি, মোবাইলফোনে কথোপকথন ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাকিব, মাফি, রফিক ও রমজান আলীকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার দুপুরে হোসেনপুর উপজেলার বালুরচর এলাকায় নরসুন্দা নদীতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে সালমানের মরদেহের কঙ্কাল ও হাড়ের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়।
কিশোরগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহার মিয়া জানান, এ ঘটনায় সালমানের বাবা বাদী হয়ে শুক্রবার হোসেনপুর থানায় হত্যা মামলা করেছেন। গ্রেফতার চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সময়ের আলো/জোই