প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩৬ পিএম
এক দুর্ঘটনায় পরিবারের ছয় সদস্যকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছে স্বজনদের পুরো পরিবার। ছবি : সংগৃহীতকক্সবাজারের উখিয়ার টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে একমাত্র ছেলে, মেয়ে ও নাতিকে হারিয়ে শোকে নির্বাক জিয়াদুল কবির ও তার স্ত্রী কাজল রেখা। একই ঘটনায় কাজল রেখার দুই বোনের তিন মেয়েও প্রাণ হারিয়েছেন। এক দুর্ঘটনায় পরিবারের ছয় সদস্যকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছে স্বজনদের পুরো পরিবার।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) কান্নাজড়িত কণ্ঠে জিয়াদুল কবির বলেন, ‘আমার একমাত্র ছেলে নাসির সিয়াম, একমাত্র মেয়ে ফারিহা কবির ও নাতি ফাইজান নূর উখিয়ার টুপটুপ রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছে। আমার এখন বেঁচে থেকে লাভ কী? কী নিয়ে আমি বাঁচব? সব তো আমার শেষ হয়ে গেছে।’
জিয়াদুল কবির বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের কালিপুরা গ্রামের বাসিন্দা। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পূজার ছুটিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উখিয়ার পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ওঠেন তারা। সেখানে অগ্নিকাণ্ডে পরিবারের ছয়জন মারা যান।
নিহত নাসির সিয়াম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ভাষা শিক্ষা বিষয়ে স্নাতক শেষ করে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তরের শেষ বর্ষে পড়ছিলেন। তার বোন ফারিহা কবিরের ছেলে ফাইজান নূরের বয়স ছিল ছয় বছর।
শুক্রবার সকালে জরুরি কাজে চুয়াডাঙ্গায় ফিরে যান ফারিহার স্বামী নূর আলম। স্ত্রী, সন্তান ও শ্যালককে কক্সবাজারে রেখে যাওয়ায় তিনি প্রাণে বাঁচলেও আগুনে তাদের হারিয়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডে কাজল রেখার দুই বোনের মেয়ে মালিহা, নাভিলা ও আলভীও মারা গেছেন। তাদের মধ্যে মালিহা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এবং নাভিলা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ বছর স্নাতকোত্তর শেষ করেছিলেন। আলভী নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কাজল রেখা বলেন, ‘ছেলে, মেয়ে, নাতি সব শেষ অইয়া গেছে। আমরা আর দুনিয়ায় বাঁইচ্যা থাইক্যা কী করমু? ও আল্লাহ, আমাদেরও এখন নিয়া যাও।’
একই ঘটনায় দুই মেয়েকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন ঢাকার বনশ্রীর মুনসুর রশীদ ও তার স্ত্রী রোকসানা আক্তার রীনা। স্বজন হারানোর এই শোক ছাপিয়ে গেছে তাদের জীবনের সব হিসাব-নিকাশ।
সময়ের আলো/এমকে