রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায়ে নির্ধারিত হতে পারে গাজা মামলার গতিপথও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার করা মামলার রায়ের দিকে তাকিয়ে বিশ্ব। গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার মামলাতেও পড়তে পারে এর প্রভাব।রোহিঙ্গাদের ওপর

2026-10-17T22:18:25+00:00
2026-10-17T22:18:25+00:00
 
  শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬,
১ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায়ে নির্ধারিত হতে পারে গাজা মামলার গতিপথও
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৮ পিএম 
রাখাইন রাজ্যের মংডাওয়ে আগুনে পুড়ছে একটি বাড়ি, ২০১৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তোলা। ছবি : এএফপি
মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার করা মামলার রায়ের দিকে তাকিয়ে বিশ্ব। গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার মামলাতেও পড়তে পারে এর প্রভাব। 

রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নিপীড়ন ও সহিংসতার অভিযোগে করা গণহত্যা মামলার রায় দিতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রত্যাশিত এই রায় শুধু রোহিঙ্গাদের ন্যায়বিচারের প্রশ্নেই নয়, গণহত্যা প্রমাণের আইনি মানদণ্ড নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলার ক্ষেত্রেও এই রায়ের তাৎপর্য থাকতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা।

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার করা মামলায় আদালত যদি দেশটিকে গণহত্যার জন্য দায়ী করেন, তাহলে কোনো রাষ্ট্রকে সরাসরি গণহত্যার জন্য দায়ী সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে এটি হবে আদালতের প্রথম রায়—এমনটাই জানিয়েছেন রোহিঙ্গা সাক্ষীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা লিগ্যাল অ্যাকশন ওয়ার্ল্ডওয়াইডের (ল) নির্বাহী পরিচালক আন্তোনিয়া মুলভি।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন মুলভি। জাতিসংঘের একটি তথ্যানুসন্ধানী মিশনের হয়ে কাজ করতে গিয়ে তিনি যৌন সহিংসতা ও শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধের তথ্য সংগ্রহ করেন। মুলভির ভাষ্য অনুযায়ী, নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি ন্যায়বিচারের প্রত্যাশাও জানিয়েছিলেন।

কয়েক দশকের নিপীড়ন, নাগরিকত্বহীন রোহিঙ্গারা

মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে কয়েক প্রজন্ম ধরে বসবাস করে আসছে প্রধানত মুসলিম জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গারা। ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনে তাদের স্বীকৃত জাতিগোষ্ঠীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে অধিকাংশ রোহিঙ্গা নাগরিকত্বহীন হয়ে পড়ে। মিয়ানমারের সরকার ও দেশটির আইনজীবীরা তাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন, যার মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অভিবাসী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের চলাচল, বিয়ে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপের তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। ১৯৭৮ সালে এবং ১৯৯১ ও ১৯৯২ সালে সহিংসতার কারণে কয়েক দফায় বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। ২০১২ সালে রাখাইনে সংঘর্ষে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়, যাদের অধিকাংশই ছিল রোহিঙ্গা।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার পর মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী উত্তর রাখাইনে তথাকথিত ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ শুরু করে। পরবর্তী কয়েক মাসে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। বর্তমানে কক্সবাজারের শরণার্থীশিবিরগুলোতে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে।

২০১৮ সালে জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধানী মিশন জানায়, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিপ্রায় ছিল—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো যথেষ্ট তথ্য রয়েছে। মিশনটি তৎকালীন সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংসহ মিয়ানমারের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের তদন্ত ও বিচারের আওতায় আনার সুপারিশ করে।

কীভাবে শুরু হলো গণহত্যা মামলা

জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধানী মিশনের প্রতিবেদনকে ভিত্তি করে ২০১৯ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সমর্থন নিয়ে করা মামলাটিতে গাম্বিয়া যুক্তি দেয়, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সামরিক অভিযান ছিল একটি জনগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য অংশকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত।

২০২০ সালের জানুয়ারিতে আইসিজে সর্বসম্মতভাবে মিয়ানমারকে গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে তার সামর্থ্যের মধ্যে থাকা সব ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ২০২১ সালে দেশটির সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করে। পরের বছর, ২০২২ সালের জুলাইয়ে, আদালত মামলাটির বিচারিক এখতিয়ার নিয়ে মিয়ানমারের আপত্তি খারিজ করে দেন। এর ফলে মূল মামলার শুনানির পথ খুলে যায়।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিন সপ্তাহ ধরে আদালতে শুনানি হয়। সেখানে রোহিঙ্গা তিনজন সাক্ষী রুদ্ধদ্বার কক্ষে তাদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তাদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও একজন নারী ছিলেন। তারা পরিবারের সদস্যদের হত্যা, যৌন সহিংসতা এবং রাখাইন থেকে পালিয়ে আসার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।

মুলভির ভাষ্য অনুযায়ী, সাক্ষ্য দেওয়ার সময় আদালতকক্ষে নীরবতা নেমে এসেছিল, শোনা যাচ্ছিল কান্নার শব্দও। রোহিঙ্গা সাক্ষীদের আইনজীবীদের পাশাপাশি কয়েকজন নির্যাতন থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিও আদালতের কার্যক্রমে অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন একজন হিজড়া, যিনি আশা প্রকাশ করেন, রায় হলে তা যেন পুরো রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পথ তৈরি করে।

গণহত্যা প্রমাণের আইনি মানদণ্ড কী

১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত গণহত্যা সনদ অনুযায়ী, কোনো জাতীয়, জাতিগত, বর্ণগত বা ধর্মীয় গোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস করার অভিপ্রায়ে নির্দিষ্ট ধরনের কর্মকাণ্ড সংঘটিত হলে তা গণহত্যা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

২০০৭ সালে বসনিয়া ও সার্বিয়ার মধ্যকার মামলায় আইসিজে বলেছিলেন, গণহত্যার অভিপ্রায় প্রমাণের ক্ষেত্রে জনগোষ্ঠীর অন্তত একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্য থাকতে হবে। শুধু সাংস্কৃতিক পরিচয় নষ্ট করা নয়, বরং শারীরিক বা জৈবিকভাবে জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করার অভিপ্রায় প্রমাণ করতে হবে। এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে আদালত ‘পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত’ প্রমাণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

গণহত্যার অভিপ্রায় সরাসরি পাওয়া প্রমাণের মাধ্যমে কিংবা ঘটনাপ্রবাহের ধরন থেকে অনুমান করা যেতে পারে। তবে ২০১৫ সালে ক্রোয়েশিয়া ও সার্বিয়ার মামলায় আদালত বলেন, কোনো কর্মকাণ্ডের ধরন থেকে গণহত্যার অভিপ্রায় অনুমান করতে হলে সেটিই হতে হবে ওই কর্মকাণ্ডের একমাত্র যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা।

সামরিক দমনপীড়নের পর মিয়ানমার থেকে গণহারে দেশত্যাগের বার্ষিকী উপলক্ষে 'গণহত্যা স্মরণ দিবস' র‍্যালিতে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা চিত্রকর্ম হাতে ধরে আছেন। ছবি : এএফপি

গাম্বিয়ার আইনজীবীরা বলছেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানে এই মানদণ্ড পূরণের মতো প্রমাণ রয়েছে। মামলায় গাম্বিয়ার আইনজীবী ফিলিপ স্যান্ডস আদালতে বলেন, ২০১৭ সালের অভিযানের আগে উত্তর রাখাইনের তিনটি এলাকায় ৮ লাখ ১৫ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করতেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৭ লাখ বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। তাঁর মতে, বিপুলসংখ্যক মানুষের বাড়িঘর ধ্বংস এবং তাদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করার ঘটনাও গণহত্যার অভিপ্রায় মূল্যায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

স্যান্ডস আরও অভিযোগ করেন, মিয়ানমার হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ, এমনকি গণকবরের তথ্যও ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে। তার বক্তব্য, গণহত্যা নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিহত মানুষের নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নেই; বরং অপরাধের ধরন ও উদ্দেশ্য গুরুত্বপূর্ণ।

সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের যুক্তি মিয়ানমারের

মিয়ানমারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আরসার হামলার জবাবে বৈধ সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালানো হয়েছিল। দেশটির আইনজীবীরা যুক্তি দেন, সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্য রোহিঙ্গাদের ধ্বংস করা নয়, বরং তাদের এলাকা থেকে বিতাড়িত করা ছিল।

গাম্বিয়ার আইনজীবী পল রাইখলার এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চলছিল—এটি কেবল ঘটনার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে, সামরিক বাহিনীর উদ্দেশ্য প্রমাণ করে না। তাঁর মতে, নারী, শিশু ও বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা, যৌন সহিংসতা এবং পালিয়ে যাওয়া মানুষের ওপর গুলি চালানোর ঘটনাগুলোকে শুধু জনগোষ্ঠীকে বিতাড়িত করার প্রচেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না।

মিয়ানমার অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির দাবি, আরসার হামলার জবাবে পরিচালিত অভিযান ছিল আইনসম্মত।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলায়ও পড়তে পারে প্রভাব

আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মিয়ানমারের মামলায় আইসিজের সিদ্ধান্ত গণহত্যার অভিপ্রায় কীভাবে প্রমাণ করা যায়, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলাতেও।

ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিনের আন্তর্জাতিক আইনের অধ্যাপক মাইকেল বেকার বলেন, এই মামলা গণহত্যা আইনের ব্যাখ্যা ও বিকাশের ক্ষেত্রে আইসিজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। বিশেষ করে ঘটনাপ্রবাহ থেকে গণহত্যার অভিপ্রায় অনুমান করার মানদণ্ড কী হবে, তা স্পষ্ট করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বেকারের মতে, মিয়ানমারের মামলায় আদালত যদি এ যুক্তি গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করেন যে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান একই সঙ্গে গণহত্যার উদ্দেশ্যেও পরিচালিত হতে পারে, তাহলে তা দক্ষিণ আফ্রিকার মামলায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। গাজায় সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলও যুক্তি দিয়ে আসছে, হামাসের সঙ্গে সশস্ত্র সংঘাত চলার কারণে দেশটির কর্মকাণ্ডকে ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীকে শারীরিকভাবে ধ্বংসের অভিপ্রায় হিসেবে দেখা যায় না।


২০২৩ সালের নভেম্বরে কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্য গাম্বিয়ার মামলার পক্ষে আদালতে যৌথ বক্তব্য জমা দেয়। তারা সতর্ক করে বলে, গণহত্যার অভিপ্রায় প্রমাণের ক্ষেত্রে ‘একমাত্র যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা’ পরীক্ষাটি এত কঠোরভাবে প্রয়োগ করা উচিত নয়, যাতে গণহত্যা প্রমাণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কারণ, কোনো রাষ্ট্র সাধারণত লিখিতভাবে একটি জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করার অভিপ্রায় প্রকাশ করে না।

ওই দেশগুলো আরও যুক্তি দেয়, নিহত মানুষের সংখ্যা দিয়ে গণহত্যা নির্ধারণ করা উচিত নয়। ধর্ষণ, যৌন সহিংসতা ও শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করার মতো কর্মকাণ্ডের কোনো সামরিক প্রয়োজন না থাকলে সেগুলো গণহত্যার অভিপ্রায়ের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হতে পারে।

রোহিঙ্গাদের কাছে ন্যায়বিচারের অর্থ নাগরিকত্ব

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কাছে এই মামলার গুরুত্ব শুধু অপরাধীদের শাস্তি বা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। লিগ্যাল অ্যাকশন ওয়ার্ল্ডওয়াইডের কক্সবাজারের শিবিরে বসবাসরত প্রায় ৫০০ শরণার্থীর ওপর চালানো এক জরিপে ৮৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, ন্যায়বিচারের জন্য নাগরিকত্ব এবং নিজেদের রোহিঙ্গা হিসেবে পরিচয় দেওয়ার অধিকার প্রয়োজন।

তাঁদের অনেকে মনে করেন, নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়া গেলে শিক্ষা, চলাচল, কাজের সুযোগ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের পথ খুলবে। গাম্বিয়া আদালতের কাছে অপরাধীদের বিচারের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন, সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়া এবং পূর্ণ ও সমান নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে।

তবে আইসিজের রায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আদালতের রায় বাধ্যতামূলক হলেও তা কার্যকর করার নিজস্ব ব্যবস্থা নেই। কোনো রাষ্ট্র রায় মানতে অস্বীকৃতি জানালে বিষয়টি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যেতে পারে। সেখানে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের ঘনিষ্ঠ অংশীদার চীন ও রাশিয়ার ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রায় বাস্তবায়ন কঠিন হলেও মিয়ানমার গণহত্যা সনদ লঙ্ঘন করেছে বলে আদালত সিদ্ধান্ত দিলে দেশটির ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে গণহত্যার অভিযোগে করা মামলাগুলোতে কী ধরনের প্রমাণ প্রয়োজন, তা নির্ধারণেও এই রায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। 

সূত্র : মিডিল ইস্ট আই 

সময়ের আলো/জেডি    
  বিষয়:   রোহিঙ্গা গণহত্যা  মামলা  রায়  আন্তর্জাতিক আইন  ব্যাখ্যা  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: