প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ছবি : সংগৃহীতকম শুল্কের পণ্য আমদানির ঘোষণা দিয়ে উচ্চ শুল্কের প্রসাধনী, গাড়ির যন্ত্রাংশ ও বিভিন্ন শিল্পপণ্য আনার মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা ধরা পড়েছে। চীন, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ড থেকে আসা পণ্যের চালানে এসব অনিয়ম শনাক্ত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস।
আটটি ঘটনায় পণ্যের মিথ্যা ঘোষণা, অতিরিক্ত পণ্য আমদানি এবং কাস্টমসের লক করা কনটেইনারের সিল পরিবর্তনের অপচেষ্টার তথ্য পাওয়া গেছে। শনিবার এনবিআরের এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
এনবিআর জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরে কয়েকটি কনটেইনার খুলে পরীক্ষার সময় ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের বড় ধরনের অমিল দেখা যায়। কৃষিযন্ত্র, টুথপিক, হিট ট্রান্সফার পেপার ও স্টেইনলেস স্টিলের ঘোষণা দেওয়া চালানে পাওয়া যায় নামি ব্র্যান্ডের প্রসাধনী, নিষিদ্ধ ক্রিম, গাড়ির যন্ত্রাংশ, বিয়ারিং, নাট-বল্টু ও স্ক্রুসহ উচ্চ শুল্কের পণ্য।
ঢাকার ফরচুন গ্লোবাল ট্রেডিংয়ের একটি চালানে পাওয়ার স্প্রেয়ারের পরিবর্তে বিভিন্ন প্রসাধনী ও ইলেকট্রনিক পণ্য পাওয়া যায়। এতে আনুমানিক আড়াই কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা হয়েছে। কাফ করপোরেশনের টুথপিকের চালানে প্রসাধনীসহ অন্যান্য পণ্য পাওয়ায় সম্ভাব্য রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
এইচআর এন্টারপ্রাইজের চালানে গাড়ির বিভিন্ন দামি যন্ত্রাংশ পাওয়ায় ৪৪ লাখ টাকা এবং নিউ ট্রাস্ট ট্রেডার্সের চালানে পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার পাওয়ায় প্রায় ৪০ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া মোহাম্মাদীয়া ট্রেডের চালানে নাট-বল্টু ও স্ক্রু এবং নিউ রনি এন্টারপ্রাইজের চালানে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও বিয়ারিং পাওয়া যায়। এসব ঘটনায় যথাক্রমে প্রায় ৩২ লাখ ও ৪২ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।
কাফ করপোরেশনের আরেকটি কনটেইনার কাস্টমসের ডিজিটাল ব্যবস্থায় লক থাকার পরও গত ১৯ সেপ্টেম্বর সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তদন্তে মূল সিল পরিবর্তন এবং কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জালের তথ্য পাওয়া গেছে। পরে কনটেইনারটি জব্দ করে নিরাপত্তা হেফাজতে নেওয়া হয়।
এনবিআর জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন ২০২৩-এর ৩৩ ও ১৭১ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে