প্রকাশ: রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩২ এএম
ছবি : সংগৃহীত ইনিংসের অর্ধেক উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশের ভরসা হয়ে উঠেছিলেন সাইফ হাসান। কিন্তু থিতু হয়েও বড় ইনিংস খেলতে পারলেন না এই ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত মাথা নিচু করে যখন প্যাভিলিয়নের পথে হাঁটছিলেন, তখন যেন ফুটে উঠছিল ম্যাচে বাংলাদেশের অসহায় আত্মসমর্পণের ছবিটাই।
ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। ২৭২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৩৩.৪ ওভারে ১৭২ রানেই গুটিয়ে যায় তাওহীদ হৃদয়দের ইনিংস। আগামী ২১ অক্টোবর নিজেদের পরের ম্যাচে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ফাইনালে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখতে সেই ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই। তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এমন ব্যাটিংয়ের পর সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জই অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের জন্য।
আবুধাবির উইকেটে লক্ষ্যটা সহজ ছিল না, তবে অসম্ভবও নয়। শুরুটাও ভালো করেছিল বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটিতে ৬.৩ ওভারে ৪৭ রান যোগ করেন তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকার। কিন্তু ৯ রান করে সৌম্য ফিরতেই ছন্দপতন ঘটে বাংলাদেশের ইনিংসে। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দল। নাজমুল হোসেন শান্ত, হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত কিংবা নুরুল হাসান সোহান—কেউই দলের বিপর্যয়ে হাল ধরতে পারেননি। শেষ ১২৫ রানের মধ্যে ৯ উইকেট হারিয়ে অলআউট হয় বাংলাদেশ।
ব্যাট হাতে বাংলাদেশের হয়ে একাই লড়েছেন তামিম। নিউম্যান নিয়াম্বুরির বলে রায়ান বার্লের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৪৬ রান করেন এই ওপেনার। ২৬ রান করে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রাহক সাইফ। শেষ দিকে রিশাদ হোসেনের ২৩ রান কেবল হারের ব্যবধান কমিয়েছে। বাংলাদেশের ব্যাটিং ধস নামাতে বড় ভূমিকা রেখেছেন ব্রাড ইভান্স। ৪৫ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন জিম্বাবুয়ের এই পেসার।
বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের বিপরীতে জিম্বাবুয়ের ইনিংসে ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। ২৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ার পর দলের হাল ধরেন ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিন। চতুর্থ উইকেটে দুজনের ১৫০ রানের জুটি বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়। প্রথম ১০ ওভারে মাত্র ৩০ রান করা জিম্বাবুয়ে ৪০ ওভার শেষে পৌঁছে যায় ২০১ রানে। অর্থাৎ মাঝের ৩০ ওভারে ১৭১ রান যোগ করেন টেলর ও আরভিন।
ভয়ংকর হয়ে ওঠা এই জুটি ভাঙেন সাইফ হাসান। ৩৭তম ওভারে বোলিংয়ে এসে টেলরকে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। ১০১ বলে ১০টি বাউন্ডারিতে ৭৫ রান করে টেলর ফিরলে থামে ১৫০ রানের জুটি।
টেলর ফিরলেও সেঞ্চুরির পথে এগোচ্ছিলেন আরভিন। তবে নব্বইয়ের ঘরে থেমে যায় তার ইনিংস। শরীফুল ইসলামের বলে নুরুল হাসান সোহানের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ১০৬ বলে ৯৩ রান করেন তিনি, ইনিংসে ছিল ৯টি চার। এরপর ওয়েসলে মাধেভেরে ১৭ ও সিকান্দার রাজা ৪ রান করে ফিরলে আবারও চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে।
শেষ দিকে নিউম্যান নিয়াম্বুরি ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ৩৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলের সংগ্রহ নিয়ে যান ২৭১-এ। দুজনই ২১ রানে অপরাজিত থাকেন। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৭১ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ৪৪ রানে ৩ উইকেট নেন।
সময়ের আলো/এসএকে