প্রকাশ: রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০১ এএম
ছবি : সংগৃহীত পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজারের সরু গলিতে পুরোনো দালানকোঠার মাঝে ঝলমল করছে আলোকসজ্জা। ভেসে আসছে ঢাক ও শঙ্খের ধ্বনি। বাড়ির বারান্দা ও ছাদ থেকে প্রতিমা দর্শন করছেন বাসিন্দারা। পাশের তাঁতীবাজারেও বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। বড় মাঠ কিংবা প্রশস্ত সড়ক নয়, এসব ঘিঞ্জি গলিতেই শতবর্ষের বেশি সময় ধরে টিকে আছে দুর্গাপূজার ঐতিহ্য।
গত শুক্রবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। জায়গার সংকট ও পুরোনো ভবনের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও আয়োজকদের উদ্যোগে প্রতি বছর গড়ে ওঠে পূজামণ্ডপ। ধর্মীয় উৎসব ছাপিয়ে এটি হয়ে ওঠে মহল্লাবাসীর মিলনমেলা।
চলতি বছর শাঁখারীবাজার ও তাঁতীবাজার মিলিয়ে ২৩টি এবং সূত্রাপুর এলাকায় ২৫টি পূজামণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে। শাঁখারীবাজারে উৎসবের দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড়ে গলিতে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। তখন অনেকে বাড়ির বারান্দা ও ছাদ থেকে প্রতিমা দেখেন।
শাঁখারীবাজারের প্রবীণ বাসিন্দা ও পূজা আয়োজক বিপ্লব শাহ বলেন, তার বাবা ও ঠাকুরদার আমল থেকেই এ গলিতে পূজা হয়ে আসছে। জায়গা ছোট হওয়ায় চলাচলে অসুবিধা হলেও মানুষের আত্মিক টান ও আনন্দের তুলনা নেই।
তাঁতীবাজারের ব্যবসায়ী দীপক পাল জানান, একসময় ব্যবসায়ী ও কারিগররা রাত জেগে মণ্ডপ সাজাতেন। সময়ের সঙ্গে সাজসজ্জায় আধুনিকতা এলেও পুরোনো আমেজ ও পারিবারিক উষ্ণতা এখনও অটুট রয়েছে। লক্ষ্মীবাজার, সূত্রাপুরের মৈশুণ্ডি, ফরাসগঞ্জ ও বাংলাবাজারেও দুর্গাপূজার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে।
সূত্রাপুরের প্রবীণ বাসিন্দা বীরেন ঘোষ বলেন, পুরান ঢাকার গলির পূজা দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধন হিসেবে কাজ করছে। পূজাকে ঘিরে পুরো মহল্লার মানুষ একত্র হন।
ধানমন্ডি থেকে পরিবার নিয়ে শাঁখারীবাজারে আসা সুব্রত রায় বলেন, পুরোনো দালানের আলোকসজ্জা ও মানুষের ভিড় শৈশবের পূজার স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রিয়াঙ্কা সাহার মতে, এখানে পূজা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, সবার মিলনমেলা।
উৎসব নির্বিঘ্ন রাখতে মণ্ডপগুলোতে ২৪ ঘণ্টা পুলিশি পাহারা ও সিসি ক্যামেরা নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেএম রবিউল ইসলাম জানান, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিজয়া দশমীর বিসর্জন ঘিরেও থাকবে বিশেষ নজরদারি।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসএকে