প্রকাশ: রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪২ এএম
ছবি : সংগৃহীত নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মুখোশ পরে মুদি দোকানে ঢুকে মিজানুর রহমান ওরফে মিজান (৩৪) নামে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করেছে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার আমানউল্যাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জিনু মার্কেটের মিজান স্টোরে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ মিজানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
আহত মিজান আমানউল্যাপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব জয়নারায়ণপুর গ্রামের আহাম্মদ উল্যাহর ছেলে। তিনি স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে নিজের মুদি দোকানে বেচাকেনায় ব্যস্ত ছিলেন মিজান। এ সময় মুখোশ পরা ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল দোকানে ঢোকে। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা খুব কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় মিজানকে প্রথমে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
বেগমগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মো. আবু জায়েদ বলেন, মিজান তাঁদের পরিচিত এবং জামায়াতের একজন সমর্থক। ২০২০ সালেও নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ওই ব্যবসায়ীর ওপর হামলা চালিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। সে সময় তাঁকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল বলে জানান আবু জায়েদ।
তিনি আরও বলেন, এবার মুখোশ পরে দোকানে ঢুকে মিজানকে গুলি করা হয়েছে। হামলাকারীরা মুখোশ পরে থাকায় তাঁদের শনাক্ত করা যায়নি। এ ঘটনায় নিষিদ্ধ সংগঠনের লোকজন জড়িত থাকতে পারেন বলে ধারণা তাঁর।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, ছররা গুলিতে ওই ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা পুলিশ সুপার এন এম নাসির উদ্দীন বলেন, অবৈধ অস্ত্রধারী ও অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
সময়ের আলো/এসএকে