সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা সমাজের ঐতিহ্য

ড. মো. আনোয়ার হোসেন

মতামত

পারস্পরিক বিশ্বাস ও ভালোবাসার মাধ্যমেই যেকোনো অপশক্তিকে রুখে দেওয়া সম্ভব। উৎসব হোক সবার জন্য নিরাপদ ও আনন্দময়। সমাজে শান্তি ও

2026-10-18T06:25:10+00:00
2026-10-18T06:25:10+00:00
 
  রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬,
২ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
মতামত
শারদীয় দুর্গোৎসব
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা সমাজের ঐতিহ্য
ড. মো. আনোয়ার হোসেন
প্রকাশ: রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৫ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
পারস্পরিক বিশ্বাস ও ভালোবাসার মাধ্যমেই যেকোনো অপশক্তিকে রুখে দেওয়া সম্ভব। উৎসব হোক সবার জন্য নিরাপদ ও আনন্দময়। সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই হোক এই উৎসবের অঙ্গীকার। আমরা বিশ্বাস করি, সব ভেদাভেদ ভুলে মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়াবে। যেকোনো ধর্মীয় উৎসব আমাদের শেখায় কীভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে হয়। এই সম্প্রীতির চেতনা যেন উৎসবের পরও আমাদের মাঝে চিরকাল জাগ্রত থাকে।

শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর কাশবনের দোলা জানান দেয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দেবীদুর্গার আগমনি বার্তা। বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এবং আনন্দময় ধর্মীয় উৎসব হলো এই শারদীয় দুর্গাপূজা। আনন্দঘন পরিবেশে এই উৎসব উদযাপনের জন্য প্রয়োজন যথাযথ প্রস্তুতি। শান্তি, সৌহার্দ ও নিñিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এই উৎসবকে সফল করতে প্রশাসন, পূজা উদযাপন কমিটি এবং সাধারণ জনগণকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।

শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আবহ তৈরি হয় প্রকৃতির এক অপরূপ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে। চারদিকের স্নিগ্ধ পরিবেশ পূজা উদযাপনকারীদের মনকে এক স্বর্গীয় আনন্দে ভরিয়ে তোলে। মহালয়ার পুণ্যলগ্নে দেবীর আবাহনের মাধ্যমে শুরু হয় উৎসবের আনুষ্ঠানিক ক্ষণগণনা। প্রতিটি মণ্ডপে ঢাকের আওয়াজ, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনি এক অভাবনীয় পরিবেশের সৃষ্টি করে। এই আবহ বাঙালি সংস্কৃতির এক চিরন্তন ও অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

দুর্গাপূজার গুরুত্ব কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর সামাজিক তাৎপর্যও অপরিসীম। এটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দৃষ্টিতে মূলত অন্যায়, অবিচার এবং আসুরিক শক্তির বিরুদ্ধে কল্যাণ ও বিজয়ের প্রতীক। তারা মনে করেন দেবীদুর্গা দশ হাতে দশটি অস্ত্র নিয়ে মর্ত্যে আসেন শান্তি ও মানবতা প্রতিষ্ঠা করতে, এই উৎসব মানুষকে সৎপথে চলার এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রেরণা জোগায়, অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে শুভ শক্তির জয়গান গাওয়াই এর মূল দর্শন।

উৎসবে আনন্দের কোনো কমতি থাকে না, চারদিকে বিরাজ করে এক মহামিলনের মহোৎসব। নতুন পোশাকে সেজে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা মেতে ওঠেন মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানোর অনাবিল আনন্দে। আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের বাড়িতে যাতায়াত এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক সৌহার্দ বৃদ্ধি পায়। উপবাস, আরতি, অঞ্জলি প্রদান এবং সুস্বাদু প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে আনন্দের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায়। এই আনন্দ তাদের প্রতিটি প্রাণকে নতুন করে উজ্জীবিত করে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দৃষ্টিতে দুর্গাপূজার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর অনন্য ও সর্বজনীন রূপ। এটি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকে না। ধর্ম, বর্ণ ও জাতি নির্বিশেষে সব স্তরের মানুষ এই উৎসবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শামিল হন। মণ্ডপগুলোতে সব মানুষের উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার উৎসবকে এক বিশাল মিলনমেলায় পরিণত করে।

এই সর্বজনীন রূপ বাঙালি সংস্কৃতির উদারতার এক শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। যুগ যুগ ধরে এই উৎসব সব ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে এক সুতায় বেঁধে রেখেছে। পারস্পরিক মৈত্রী ও ভালোবাসার বন্ধনকে দৃঢ় করতে দুর্গাপূজা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উৎসবের এই মহতী রূপ আমাদের সমাজকে আরও সুন্দর ও মানবিক করে তোলে। এটি জাতি হিসেবে আমাদের একতাবদ্ধ এবং শক্তিশালী হতে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করে।

উৎসবের আনন্দকে মøান হতে না দিতে নিñিদ্র নিরাপত্তার গুরুত্ব অপরিসীম। একটি সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা যেকোনো উৎসবের সফলতার প্রধান শর্ত। বিপুল জনসমাগমের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা, বিশৃঙ্খলা বা নাশকতা এড়াতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেই কেবল মানুষ নির্ভয়ে উৎসবে মেতে উঠতে পারে। নিরাপত্তার অভাব মানুষের মনে ভীতি ও শঙ্কার সৃষ্টি করতে পারে। উৎসবের দিনগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সার্বক্ষণিক নজরদারি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। শান্তি বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টাকে কঠোর হস্তে দমন করার জন্য পূর্বপ্রস্তুতি থাকা বাঞ্ছনীয়। 

বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাইবার অপরাধ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানো এক বড় হুমকি। যেকোনো উসকানিমূলক বার্তা বা মিথ্যা তথ্য উৎসবের শান্তি বিনষ্ট করতে পারে। তাই তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং নজরদারি বাড়ানো অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও দেশের একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে ওঠে। এটি প্রমাণ করে যে দেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা বিদ্যমান। তাই উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে সর্বাত্মক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই বললেই চলে।

উৎসবকে নিরাপদ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। দেশের প্রতিটি মণ্ডপকে কেন্দ্র করে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা উচিত। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য কন্টিনজেন্ট ফোর্স এবং বিশেষ টিম প্রস্তুত রাখতে হবে। পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার সদস্যদের সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করা এখন সময়ের দাবি।

মণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। প্রবেশ ও বাহির পথে মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশির ব্যবস্থা রাখা দরকার। ট্রাফিক ব্যবস্থা সচল রাখতে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন ট্রাফিক বিভাগের। 

ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্স বিভাগকে যেকোনো অগ্নিকাণ্ড বা জরুরি উদ্ধারকাজে প্রস্তুত রাখা যেতে পারে। মণ্ডপগুলোতে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা ও অ্যাম্বুলেন্সের সুবিধাও নিশ্চিত করা উচিত। বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে বিদ্যুৎ বিভাগকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে। যেকোনো ধরনের লোডশেডিং এড়াতে বিকল্প জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

স্থানীয় প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ মণ্ডপগুলো পরিদর্শন করতে পারেন। যেকোনো আইন অমান্যকারীর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা যেতে পারে। নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নারী পুলিশ দল সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। প্রশাসনের এই তৎপরতা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মনে গভীর আস্থা ও নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করবে বলে মনে করি।

পূজা উদযাপনকালীন যেকোনো ধরনের জরুরি সেবার জন্য জাতীয় হেল্পলাইন নম্বরগুলো চালু রাখতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক পোস্ট বা গুজব প্রতিরোধে সাইবার ক্রাইম ইউনিট সক্রিয় থাকতে হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষ সমন্বয় সভা করে সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা যেতে পারে। পূজা উদযাপন কমিটির নিজস্ব উদ্যোগে একটি দক্ষ ও প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করা যেতে পারে। অপরিচিত বা সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর দিকে তারা কড়া নজর রাখবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে তারা তথ্য আদান-প্রদান করবে।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যদের সুনির্দিষ্ট পোশাক বা পরিচয়পত্র থাকা বাঞ্ছনীয়। তারা বয়স্ক, শিশু ও প্রতিবন্ধী দর্শনার্থীদের মণ্ডপে প্রবেশে বিশেষ সহায়তা প্রদান করতে পাবেন। মণ্ডপের ভেতরে যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা হুড়োহুড়ি না হয় তা তারা নিশ্চিত করবেন। উৎসবের দিনগুলোতে ২৪ ঘণ্টা শিফটের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও নিষ্ঠা উৎসবকে সুন্দর করে তুলবে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করা আমাদের সমাজের অন্যতম একটি মহান ঐতিহ্য। দুর্গাপূজা এই সম্প্রীতিকে আরও দৃঢ় করার একটি অন্যতম সুবর্ণ সুযোগ। সব ধর্মের মানুষের পারস্পরিক সৌহার্দ ও শ্রদ্ধাবোধের মধ্য দিয়ে এই সম্প্রীতি বজায় থাকে। উৎসবের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে বৈষম্যহীন সমাজ গঠন করা সম্ভব। একে অপরের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা আমাদের নাগরিক দায়িত্ব।

জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে যেকোনো ধরনের সামাজিক বিশৃঙ্খলা সহজেই এড়ানো সম্ভব। উৎসবের সময় অতিরিক্ত আতশবাজি বা উচ্চশব্দে মাইক বাজানো থেকে বিরত থাকতে হবে। এতে অসুস্থ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের যেন কোনো অসুবিধা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। দর্শনার্থীদেরও মণ্ডপের নিয়মকানুন মেনে চলা উচিত হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো কিছু শেয়ার করার আগে সচেতন হতে হবে।

সম্প্রীতি রক্ষায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সব ধর্মের প্রতিনিধিদের নিয়ে সম্প্রীতি কমিটি গঠন করা যেতে পারে। এই কমিটিগুলো সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কোনো ধরনের গুজব ছড়ালে তাতে কান না দিয়ে প্রশাসনকে দ্রুত জানাতে হবে। পারস্পরিক বিশ্বাস ও ভালোবাসার মাধ্যমেই যেকোনো অপশক্তিকে রুখে দেওয়া সম্ভব। উৎসব হোক সবার জন্য নিরাপদ ও আনন্দময়।

সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই হোক এই উৎসবের অঙ্গীকার। আমরা বিশ্বাস করি, সব ভেদাভেদ ভুলে মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়াবে। যেকোনো ধর্মীয় উৎসব আমাদের শেখায় কীভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে হয়। এই সম্প্রীতির চেতনা যেন উৎসবের পরেও আমাদের মাঝে চিরকাল জাগ্রত থাকে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শারদীয় দুর্গোৎসব হয়ে উঠুক এক স্মরণীয় উৎসব।

লেখক : প্রাবন্ধিক
মতামত লেখকের নিজস্ব

সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসএকে
  বিষয়:   সাম্প্রদায়িক  সম্প্রীতি  ঐতিহ্য  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: