প্রকাশ: রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১২ পিএম
ইমরান খান। ছবি : সংগৃহীতভারতে থাকার নির্দেশের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নেমেছেন বলিউড অভিনেতা ইমরান খান। দেশ ছাড়ার নির্দেশ এবং তার ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) নিবন্ধন বাতিলের উদ্যোগকে চ্যালেঞ্জ করে মুম্বাই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) আদালতে করা আবেদনে ইমরান খান দেশ ছাড়ার নোটিশকে ‘অসাংবিধানিক’, ‘স্বেচ্ছাচারী’ ও ‘অযৌক্তিক’ বলে উল্লেখ করেছেন। নোটিশটি বাতিলের পাশাপাশি মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এর কার্যকারিতা স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ না নেওয়ার নির্দেশনাও চেয়েছেন এই অভিনেতা।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১০ অক্টোবর। ওই দিন মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানের কাছে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নেন ইমরান খান। এর চার দিন পর, ১৪ অক্টোবর, তাকে আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ পাঠায় বিদেশি আঞ্চলিক নিবন্ধন কার্যালয় (এফআরআরও)। অভিবাসন ও বিদেশি নাগরিক আইন, ২০২৫ লঙ্ঘনের অভিযোগে তাকে এই নোটিশ দেওয়া হয়।
আদালতে ইমরান খানের যুক্তি, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ জানানোর কারণে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে তাঁকে ভারত ছাড়তে বাধ্য করা যায় না। তার অভিযোগ, নোটিশে ঠিক কোন বিধি লঙ্ঘনের কথা বলা হয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। কোনো শুনানির সুযোগ না দিয়েই এ ধরনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ইমরান খানের দাবি, দুই বছর বয়স থেকে তিনি ভারতে বসবাস করছেন। তার ওসিআই নিবন্ধন রয়েছে, যা তাকে ভারতে বসবাসের নির্দিষ্ট আইনি সুবিধা দেয়। তবে তার অভিযোগ, এফআরআরও তাকে মার্কিন নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই পদক্ষেপ ভারতের সংবিধানের ১৪ ও ২১ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত অধিকারের পরিপন্থী বলেও আবেদনে উল্লেখ করেছেন তিনি।
এদিকে, ইমরান খানের ওসিআই নিবন্ধন কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে পৃথক কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে এফআরআরও। ভারতের নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-এর ৭ডি(ই) ধারায় জারি করা এই নোটিশের জবাব দিতে তাকে ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারে।
দেশ ছাড়ার নির্দেশের বিরুদ্ধে ইমরান খানের আবেদনের জরুরি শুনানির জন্য সোমবার (১৯ অক্টোবর) আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি।
সময়ের আলো/জেডআই