কয়েকটি অভ্যাস মেনে চললে জেট ল্যাগের প্রভাব কমানো সম্ভব। ছবি : সংগৃহীতদীর্ঘ বিমানযাত্রার পর গন্তব্যে পৌঁছেও ক্লান্তি কাটছে না? ঘুমের সময় বদলে যাচ্ছে, কাজে মন বসছে না? এসব হতে পারে জেট ল্যাগের লক্ষণ। একাধিক টাইম জোন পেরিয়ে ভ্রমণের কারণে শরীরের স্বাভাবিক ঘুম ও জাগরণের ছন্দে পরিবর্তন এলে এই সমস্যা দেখা দেয়। তবে কয়েকটি অভ্যাস মেনে চললে জেট ল্যাগের প্রভাব কমানো সম্ভব।
জেট ল্যাগ কেন হয়?
আমাদের শরীরে একটি স্বাভাবিক জৈবিক ঘড়ি রয়েছে, যা ঘুম, ক্ষুধা ও হরমোন নিঃসরণের মতো কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। দীর্ঘ বিমানযাত্রায় সময়ের বড় পরিবর্তন হলে শরীর নতুন সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে না। ফলে ঘুমের সমস্যা, দিনের বেলায় ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি এবং হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
জেট ল্যাগ এড়ানোর ৬ উপায়
১. আগে থেকেই ঘুমের সময় বদলান
ভ্রমণের কয়েক দিন আগে থেকে গন্তব্যের সময় অনুযায়ী ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন। এতে শরীর নতুন সময়ের সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে পারবে।
২. ফ্লাইটের সময় বুঝে নিন
গন্তব্যে কখন পৌঁছাবেন, তা বিবেচনা করে বিমানে ঘুমানোর পরিকল্পনা করুন। স্থানীয় সময় অনুযায়ী ঘুম ও জাগরণের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
৩. ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন
ভালো ঘুমের জন্য যাত্রার আগে অতিরিক্ত চা-কফি পান করবেন না। অ্যালকোহলও এড়িয়ে চলুন।
৪. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
বিমানযাত্রায় নিয়মিত পানি পান করুন। এতে পানিশূন্যতার ঝুঁকি কমবে। ভারী খাবারের বদলে হালকা খাবার বেছে নিন।
৫. সূর্যের আলোতে সময় কাটান
গন্তব্যে পৌঁছে দিনের বেলায় বাইরে হাঁটুন এবং সূর্যের আলোতে সময় কাটান। এতে শরীরের জৈবিক ঘড়ি নতুন সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য পাবে।
৬. ওষুধের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন
ঘুমের সমস্যা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিজে থেকে ঘুমের ওষুধ বা মেলাটোনিন গ্রহণ করবেন না।
জেট ল্যাগ পুরোপুরি এড়ানো সব সময় সম্ভব নয়। তবে আগে থেকে প্রস্তুতি, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস এর প্রভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে।
সময়ের আলো/এমকে