প্রকাশ: রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৮ পিএম
মো. জাবেদ উদ্দিন নয়ন। ছবি : সংগৃহীতচট্টগ্রামের আনোয়ারায় অটোরিকশায় দুই নারীর স্প্রে করার পর অচেতন হয়ে ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা খুইয়েছেন মো. জাবেদ উদ্দিন নয়ন (২১) নামে যুবক।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের হাজীগাঁও এলাকার মনুমিয়ার দিঘীর পাড়ে সড়কের পাশে তাঁকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
নয়ন উপজেলার জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি মো. মুসার ছেলে। পেশায় শিক্ষার্থী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
ভুক্তভোগী নয়ন জানান, তাঁর প্রবাসী বড় ভাইয়ের পাঠানো ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা নিয়ে আনোয়ারার চাতরী চৌমুহনী এলাকা থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন তিনি। ওই অটোরিকশায় আগে থেকেই বোরকা পরা দুই নারী ও এক পুরুষ যাত্রী ছিলেন। পথে ওই পুরুষ যাত্রী নেমে যাওয়ার পর চালকের কথায় পেছনের আসনে বসেন নয়ন।
একপর্যায়ে দুই নারীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে অটোরিকশা থেকে লাফ দিয়ে নামার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় ওই দুই নারী তাঁকে টেনে ধরে মুখে স্প্রে করেন বলে অভিযোগ করেন নয়ন। এরপর তাঁর কাছে থাকা টাকা নিয়ে তাঁকে অচেতন অবস্থায় সড়কের পাশে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। পরে কী ঘটেছিল, তা স্পষ্ট মনে করতে পারছেন না তিনি।
আনোয়ারা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার মো. মুজিবুর রহমান বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনের দায়িত্ব পালন শেষে শনিবার রাতে ফেরার পথে হাজীগাঁও এলাকার মনুমিয়ার মসজিদের কাছে সড়কের পাশে এক যুবককে মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। পরে তাঁকে উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাবউদ্দিন চৌধুরী বলেন, শনিবার রাতে নয়নকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, চেতনানাশক কোনো পদার্থ খাওয়ানো বা স্প্রে করার কারণে তাঁর এমন অবস্থা হয়ে থাকতে পারে। হাসপাতালে আনার সময় তাঁর শরীর কাঁপছিল।
সময়ের আলো/এনএন