মুনাফার দৌড়ে ঝুঁকিতে পর্যটকের জীবন

কক্সবাজার সংবাদদাতা

সারাদেশ

মুনাফার দৌড়ে কক্সবাজারে গড়ে উঠছে একের পর এক হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ। সমুদ্রের সৌন্দর্য আর দৃষ্টিনন্দন স্থাপনার আড়ালে গড়ে উঠছে

2026-10-19T00:53:56+00:00
2026-10-19T00:53:56+00:00
 
  সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬,
৩ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
কক্সবাজারে অগ্নিকাণ্ড
মুনাফার দৌড়ে ঝুঁকিতে পর্যটকের জীবন
কক্সবাজার সংবাদদাতা
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৩ এএম 
উখিয়ার পাটুয়ারটেকে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া টুপটুপ রিসোর্ট। ছবি : সংগৃহীত
মুনাফার দৌড়ে কক্সবাজারে গড়ে উঠছে একের পর এক হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ। সমুদ্রের সৌন্দর্য আর দৃষ্টিনন্দন স্থাপনার আড়ালে গড়ে উঠছে একের পর এক হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ; কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই নেই প্রয়োজনীয় অনুমোদন, অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা কিংবা পরিবেশের ছাড়পত্র। এরই ভয়াবহ পরিণতি দেখা গেল উখিয়ার পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায়। জেলায় প্রায় ৫ শতাধিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁর অনুমোদন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিসোর্টের মালিকসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, গ্রেফতার হয়েছেন ব্যবস্থাপক। কিন্তু স্বজনদের দাবি শুধু মামলা নয় বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের তথ্য বলছে, কক্সবাজার জেলা শহর, রামুর পেঁচারদ্বীপ, উখিয়ার ইনানিসহ পর্যটনকেন্দ্রিক এলাকাগুলোতে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ছয় শতাধিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ রয়েছে। এর অধিকাংশই সংশ্লিষ্ট পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়েই ব্যবসা করছে। ফলে অগ্নিকাণ্ডসহ যেকোনো দুর্ঘটনায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের শঙ্কা।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের লাইসেন্স শাখার কক্সবাজার ইন্সপেক্টর শফিকুল ইসলাম বলেন, চলতি বছরে মাত্র ৫০টি হোটেল ফায়ার লাইসেন্স নবায়ন করেছে। আবেদন জমা পড়েছে সর্বোচ্চ ১০০টির মতো। অথচ এর আগে প্রায় ২০০টি হোটেলের লাইসেন্স ছিল। তিনি বলেন, এ জন্য আমরা অধিকাংশ হোটেলকেই নোটিস দিয়েছি।’ জনবল সংকটের কারণে নিয়মিত অভিযান চালানো সম্ভব না হলেও লাইসেন্স নেওয়ার জন্য মালিকদের নোটিস দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার সময় ফায়ার লাইসেন্স আছে কি না সেটিও তদারকির বিষয়। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা সচেতন না হলে সব প্রতিষ্ঠানকে শতভাগ নিরাপত্তার আওতায় আনা সম্ভব নয়। 

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজারের উপপরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ বলেন, ‘ব্যাঙের ছাতার মতো হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। সঠিক পরিসংখ্যান কারও কাছে নেই।’ তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত টুপটুপ রিসোর্টকেও এর আগে দুবার নোটিস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সতর্ক হয়নি।

শুধু অগ্নিনিরাপত্তা নয়, অধিকাংশ হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁর বর্জ্য ও স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাপনাও প্রশ্নবিদ্ধ। অনেক প্রতিষ্ঠানেরই নেই পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র। পরিবেশ অধিদফতরের কক্সবাজারের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ মোর্শেদ বলেন, জেলার সর্বোচ্চ ৫০টি হোটেলের পরিবেশ ছাড়পত্র রয়েছে। ছাড়পত্র না থাকায় গত এক বছরে ৫৮টি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় দেড় কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সময়ে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন (ইসিএ) এলাকার শতাধিক হোটেলের বিরুদ্ধে ২৮টি মামলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, সাধারণত ২০ কক্ষের নিচের আবাসিক হোটেল এবং ৩০ লাখ টাকার নিচের রেস্তোরাঁর ক্ষেত্রে পরিবেশ ছাড়পত্রের প্রয়োজন হয় না। তবে এই সুযোগকে ব্যবহার করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিয়মের বাইরে থাকার চেষ্টা করছেন।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, অধিকাংশ হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ কউকের অনুমতি ছাড়াই গড়ে উঠেছে। তিনি বলেন, আমরা বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করেছি। এবার শক্ত অবস্থানে যাবে কউক। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী কক্সবাজারের দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছে। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকায় মাত্র ৫০টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাকিদের প্রয়োজনীয় কাগজ জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, কক্সবাজারের বেশিরভাগ রিসোর্ট ও কটেজের অনুমোদন নেই। তারা নিয়মনীতি মানে না বলেই অনেক প্রতিষ্ঠানকে সমিতির অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তবে প্রশাসনের উচিত এসব প্রতিষ্ঠানকে নিয়মের আওতায় এনে পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নেওয়া মত তার। কক্সবাজার সিভিল সোসাইটিজ ফোরামের সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, বছরের পর বছর অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে পর্যটননির্ভর এই জেলায় ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে? পর্যটকদের নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা ও পরিকল্পিত পর্যটন নিশ্চিত করতে হলে দুর্ঘটনার পর অভিযান নয়, বরং অনুমোদন, অগ্নিনিরাপত্তা, পরিবেশ ছাড়পত্র ও নির্মাণকাজের বৈধতা নিশ্চিত করে নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মালিকসহ ২৩ জনকে আসামি করে মামলা : কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। এর মধ্যে রিসোর্টের মালিক একজন মো. তানভীরকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে উখিয়া থানার উপপরিদর্শক আশিস সূত্রধর বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার রোববার সকালে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রিসোর্টের মালিক মো. তানভীর ও নেওয়াজ মোর্শেদের নাম রয়েছে। অন্যরা অজ্ঞাত আসামি। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিসোর্টের ব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম ওরফে সুমনকে গতকাল বিকালে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। তাকে মামলাটিতে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

এদিকে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। রোববার সকালে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। তদন্তের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাতের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

জবাবদিহিতার দাবি : কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সৈকতে টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে পুড়ে নিহত ১০ জনের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। মরদেহ বুঝে নিতে রোববার সকাল থেকে হাসপাতালের মর্গ এলাকায় অপেক্ষা করছেন স্বজনরা। কিন্তু মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় তাদের অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে। প্রিয়জনের মরদেহের অপেক্ষায় স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতালের পরিবেশ। শোকের পাশাপাশি তাদের মধ্যে রয়েছে ক্ষোভ। তাদের দাবি শুধু শোক প্রকাশ নয়, এই প্রাণহানির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা করে মরদেহ হস্তান্তর করে দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী নাসরিন আক্তার মুক্তাকে হারিয়েছেন দেওয়ান ফয়সাল। তার ধারণা উদ্ধার হওয়া ১০ মরদেহের মধ্যে তার স্ত্রীর মরদেহও রয়েছে। এ কারণে স্ত্রীর মরদেহ বুঝে নিতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে এসে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তিনি। সকালে হাসপাতালের করিডোরে কথা হয় দেওয়ান ফয়সালের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি জানি, আমার স্ত্রী নাসরিন আক্তার মুক্তাকে আর ফিরে পাব না। কিন্তু আমি চাই না, আর কোনো স্বামীকে এভাবে তার স্ত্রী হারাতে হোক, আর কোনো পরিবারকে প্রিয়জনের মরদেহ খুঁজতে হাসপাতালে ছুটতে হোক।’

দেওয়ান ফয়সাল ঢাকা জেলা (উত্তর) ছাত্রদলের সহ-সভাপতি। স্ত্রী নিয়ে তিনি থাকতেন ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায়। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া কোনো রিসোর্ট পরিচালিত হলে এবং কর্তৃপক্ষের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা হলে তার দায় কার? যাদের দায়িত্ব ছিল তদারকি করা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও আইন প্রয়োগ করা, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চেয়ে ফয়সাল বলেন, ‘আমাদের স্বজনদের ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা কারও নেই, কিন্তু বিচার নিশ্চিত করার ক্ষমতা রাষ্ট্রের আছে। আমার স্ত্রীকে ফিরে পাব না, কিন্তু তার মৃত্যু যেন আরেকটি পরিবারের মৃত্যুফাঁদ হয়ে না থাকে। আমরা শুধু শোক প্রকাশ নয়, জবাবদিহি চাই, বিচার চাই।’

‘ট্রমা’ কাটছে না স্বজনদের : স্ত্রী ও স্বজনদের নিয়ে গত বুধবার কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন ওরফে মাসুদ (৩০)। বৃহস্পতিবার সকালে ইনানির পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকতের কাছাকাছি টুপটুপ রিসোর্টে উঠেছিলেন তারা। দুদিন ঘোরাঘুরির পর শনিবার সকাল ১০টার বাসে তাদের ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তার আগে রিসোর্টে আগুন লেগে ইসমাইলের চার ভাগনি, এক ভাগনে ও এক নাতি মারা যান। জানালা দিয়ে লাফ দিয়ে কোনোমতে প্রাণে বেঁচে যান ইসমাইল ও তার স্ত্রী মেহেরুন নেছা। তবে মেহেরুনের শরীরের কিছু অংশ পুড়ে গেছে। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চোখের সামনে এতগুলো স্বজনের মৃত্যু ও স্ত্রীর দগ্ধ হওয়ার ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ইসমাইল হোসেন। কোনো কিছুতেই ‘ট্রমা’ কাটছে না তার। ঠিকমতো কারও সঙ্গে কথা বলছেন না।

ইসমাইল হোসেনের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দক্ষিণ ঠেটালিয়া গ্রামে। ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করায় স্ত্রী মেহেরুন নেছাকে নিয়ে থাকতেন ঢাকার দক্ষিণখান এলাকায়। রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ইসমাইলের ভাগনি লায়লা জাহান নাবিলা, ইসরাত জাহান মালিহা, ফারিয়া কবির ও মিলিতা মেহজাবীন; ভাগনে নাফিজ তেহামী এবং নাতি (ফারিয়া কবিরের শিশুপুত্র) ফাইজান নুর মারা গেছেন।

যশোরের একই পরিবারের চারজন নিখোঁজ : কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানিতে টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে যশোরের একই পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে কক্সবাজারে যাওয়া নাহিদুর রহমানের সন্ধানে তার পরিবার এখন পাগলপ্রায়। কিন্তু এখনও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।


নিখোঁজ চারজন হলেন, যশোরের মণিরামপুর পৌরসভার মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬) এবং তাদের দুই শিশুসন্তান রুজাইনা ইনায়া (৭) ও সুনাইনা ইহানা (৩)।

পারিবারিক সূত্র জানায়, নাহিদুর ঢাকায় শ্যামলীতে গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ছিলেন। পরিবার নিয়ে তিনি ঢাকার মিরপুর শ্যাওড়াপাড়াতে বসবাস করতেন। অগ্নিকাণ্ডের পর নাহিদুরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছেন পরিবারের সদস্য ও কর্মক্ষেত্রের সহকর্মীরা। তবে এখন পর্যন্ত তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। স্বজনদের আশঙ্কা, উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের মধ্যে তারাও থাকতে পারেন।

স্বজনরা জানান, নাহিদুর মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি ক্রিমিনোলজি ও পুলিশ সাইন্স বিভাগে পড়তেন। নাহিদুরের বড় ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স মণিরামপুর পৌর শহরে বসবাস করেন। নাহিদুর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি কক্সবাজারের হোটেলটির বুকিংয়ের বিলের ছবি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান। বিলের কপিতে দেখা যায়, নাহিদুর ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত রিসোর্টের একটি কক্ষ বুকিং করেছিলেন। নাহিদুর ১১ অক্টোবর রিসোর্ট বুকিং দিয়েছিলেন। ১৮ অক্টোবর দুপুর ১টায় তাদের রিসোর্ট ছাড়ার কথা ছিল।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 
  বিষয়:   মুনাফা  পর্যটক  কক্সবাজার  অগ্নিকাণ্ড  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: