ছবি : সংগৃহীত বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনার পর তার প্রথম ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। ছবিতে অভিনেতার হাতে ব্যান্ডেজ এবং কাঁধ ও বুকে ড্রেসিং দেখা গেছে। তবে গুলির আঘাতে নয়, বরং বারুদ ও ভাঙা কাচের টুকরার আঘাতে তিনি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে ভারতের মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে পাঁচটি গুলি ছোড়া হয়। এ ঘটনায় অভিনেতার গাড়িচালকসহ দুজন আহত হয়েছেন।
ঘটনার পর টাইগার শ্রফের বাসায় গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন একনাথ শিন্ডে। এ সময় অভিনেতার মা আয়েশা শ্রফও উপস্থিত ছিলেন। শিন্ডে জানান, গুলিবর্ষণের সময় বারুদ ও ভাঙা কাচের টুকরার আঘাতে টাইগারের হাতে ক্ষত হয়েছে। তবে তিনি গুলিবিদ্ধ হননি।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মুম্বাইয়ের জুহু এলাকার পুষ্পা পার্কে একটি ফুটবল ক্লাব থেকে গাড়িতে করে ফিরছিলেন টাইগার শ্রফ। এ সময় অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা তার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায়। মোট পাঁচটি গুলি ছোড়া হয় বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় টাইগারের গাড়িচালক ও এক অটোরিকশাচালক আহত হন। প্রতিবেদনে গাড়িচালকের গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
টাইগার শ্রফের সঙ্গে দেখা করার পর গুলিবর্ষণের ঘটনাকে গুরুতর বলে উল্লেখ করেন একনাথ শিন্ডে। তিনি জানান, পাঁচটি গুলি ছোড়া হলেও সৌভাগ্যক্রমে অভিনেতা নিরাপদে আছেন। তার গাড়িচালক আহত হয়েছেন। এ ঘটনাকে নিন্দনীয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শিন্ডে বলেন, ‘মুম্বাইয়ে কারও দাদাগিরি চলবে না।’ হুমকি বা সহিংসতার মাধ্যমে কাউকে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
উপমুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, জনপরিচিত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে হুমকি দেওয়ার ঘটনা সরকার সহ্য করবে না। এ পরিস্থিতিতে টাইগার শ্রফ ও তার পরিবারকে রাজ্য সরকারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
মুম্বাইয়ে নব্বইয়ের দশকের গ্যাং-সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে শিন্ডে বলেন, সে সময় এ ধরনের সংঘাত প্রায়ই ঘটত। তবে ১৯৯৫ সালে মুম্বাই পুলিশ এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। শহরে আবারও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে দেওয়া হবে না বলেও জানান শিন্ডে।
টাইগার শ্রফের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন (এআইসিডব্লিউএ)। সংগঠনটির মতে, চলচ্চিত্র অঙ্গনের ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে বারবার হামলার ঘটনা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে।
এক বিবৃতিতে সংগঠনটি প্রশ্ন তুলেছে, টাইগার শ্রফের পর হামলার পরবর্তী লক্ষ্য কে হবেন? মুম্বাইয়ের মতো শহরে একজন তারকা নিরাপদ না থাকলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেছে তারা।
বিবৃতিতে সালমান খানের বান্দ্রার বাসভবনের বাইরে গুলিবর্ষণ, সাইফ আলী খানের বাসায় ছুরিকাঘাত, নির্মাতা রোহিত শেঠির বাসভবনের বাইরে গুলিবর্ষণ এবং কৌতুক অভিনেতা কপিল শর্মার ক্যাফেতে হামলার ঘটনাগুলোও উল্লেখ করা হয়েছে।
সংগঠনটি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের কাছে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, হামলার নির্দেশদাতাদের শনাক্ত, চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং চলচ্চিত্র অঙ্গনের ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থতার দায় নির্ধারণেরও আহ্বান জানিয়েছে তারা।
গুলিবর্ষণের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে মুম্বাই পুলিশ। পুলিশের উপকমিশনার মোহিত গার্গের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, ফুটবল ক্লাব থেকে গাড়িতে করে বের হওয়ার সময় টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।
তবে হামলাকারীদের পরিচয় এবং ঘটনার পেছনের কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সূত্র : এনডিটিভি
সময়ের আলো/এসএকে