ছবি : সংগৃহীতএকটা সময় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামলেই জয়ের আত্মবিশ্বাস থাকত বাংলাদেশের। প্রতিপক্ষকে বড় ব্যবধানে হারানো কিংবা সিরিজে আধিপত্য বিস্তার, সবই যেন ছিল নিয়মিত ঘটনা। সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র বদলেছে। এখন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই বারবার হোঁচট খাচ্ছে বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়, ওয়ানডেতে বড় দলগুলোর সমীহ আদায় কিংবা ঘরের মাঠে প্রতিপক্ষকে চাপে রেখে জেতার মতো অর্জনে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছিল টাইগাররা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই আত্মবিশ্বাসে যেন চির ধরেছে। বিশেষ করে জিম্বাবুয়ের কাছে একের পর এক হারে প্রশ্ন উঠছে বাংলাদেশের ওয়ানডে সামর্থ্য নিয়ে।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বাংলাদেশের জন্য স্বস্তিদায়ক নয়। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সবশেষ সাতটি ওয়ানডেতে পাঁচবার হেরেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে চলতি বছরের জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হার এবং আবুধাবিতে চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৯৯ রানের পরাজয় রয়েছে। সাত ম্যাচে দুটি জয় পেলেও সিরিজের ফলাফল বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের ধারাবাহিকতা নিয়ে নতুন করে ভাবাচ্ছে। একসময় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিয়মিত জয় পাওয়া বাংলাদেশ এখন তাদের বিপক্ষে জিততেই হিমশিম খাচ্ছে। সবশেষ দুই দ্বিপক্ষীয় সিরিজের ফলও সেই পরিবর্তনের সাক্ষী।
২০২২ সালের সফরে প্রথম দুই ওয়ানডেতে সমান পাঁচ উইকেটে হেরে সিরিজ খোয়ায় বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে ১০৫ রানের বড় জয় পেলেও হোয়াইটওয়াশ এড়ানো ছাড়া আর কিছু করার ছিল না টাইগারদের।
২০২৬ সালের জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফরেও একই ধরনের হতাশার মুখে পড়ে বাংলাদেশ। ৬ জুলাই প্রথম ওয়ানডেতে স্বাগতিকদের ১৪১ রানের জবাবে মাত্র ১১৬ রানে গুটিয়ে যায় টাইগাররা। হারতে হয় ২৫ রানে। ৯ জুলাই দ্বিতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ২৪৭ রানে আটকে রেখেও জয় পায়নি বাংলাদেশ। ১৩ রানের ব্যবধানে জিতে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা। ১১ জুলাই তৃতীয় ওয়ানডেতে অবশ্য ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের ১৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩৬ ওভারে তিন উইকেট হারিয়েই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় দল। সাত উইকেটের সেই জয় কিছুটা স্বস্তি দিলেও সিরিজ হার এড়ানো সম্ভব হয়নি।
এরপর আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। আবুধাবিতে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে সিকান্দার রাজাদের মুখোমুখি হয়ে ৫০ ওভারে আট উইকেটে ২৭১ রান হজম করে টাইগাররা। জবাবে মাত্র ১৭২ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। ৯৯ রানের এই পরাজয় আবারও সামনে এনেছে ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা। রান তাড়া করতে নেমে জুটি গড়তে না পারা, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট হারানো এবং চাপের মুখে ভেঙে পড়ার পুরোনো সমস্যাগুলোই ডুবিয়েছে দলকে। বাংলাদেশের বিপক্ষে সাম্প্রতিক চার ওয়ানডেতে তিনটি জয় পেয়েছে জিম্বাবুয়ে। এই সাফল্যকে কি সহজ মনে হচ্ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে নিজেদের অর্জনকে সহজ জয় হিসেবে দেখতে নারাজ জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক। বরং বাংলাদেশের অতীতের আধিপত্যের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিটি জয়ই লড়াই করে অর্জন করতে হয়।
তিনি বলেন, ‘কোনো ম্যাচই সহজ নয়। কোনো জয়ই সহজ নয়। এমনও সময় ছিল বাংলাদেশ ৮ ম্যাচের মধ্যে ৬ বারই আমাদের হারাতো। আমি নিশ্চিত তারাও বলবে যে কাজটা সহজ ছিল না। আমরা শেষ ৪ ওয়ানডে খেলে ৩ ম্যাচ জিতেছি, এর মানে এই নয় যে কাজটা একদম সহজ ছিল।’ জিম্বাবুয়ের অধিনায়কের এই বক্তব্যে উঠে এসেছে দুদলের সাম্প্রতিক লড়াইয়ের বদলে যাওয়া চিত্র। একসময় বাংলাদেশের কাছে নিয়মিত হারলেও এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে যাওয়ার পেছনে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং মাঠে ভালো লড়াই করাকেই গুরুত্ব দিচ্ছে তারা।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাফল্যের তালিকায় যোগ হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয় এবং ওয়ানডেতে বড় দলগুলোর বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলার মতো অর্জন। টি-টোয়েন্টিতেও ধারাবাহিকতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে দল। কিন্তু জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডেতে সাম্প্রতিক ব্যর্থতা সেই অগ্রগতির মাঝেই অস্বস্তি তৈরি করেছে।
বিশেষ করে ব্যাটিংয়ের ব্যর্থতা এখন বড় চিন্তার কারণ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৭২ রানে অলআউট হওয়া শুধু একটি ম্যাচের হার নয়, বরং চাপের মুখে দলের সামর্থ্য কাজে লাগানোর প্রশ্নও সামনে এনেছে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/টিকে