প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীততায়কোয়ান্দোপ্রেমীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ও মর্যাদাপূর্ণ ব্ল্যাক বেল্ট টেস্ট কঠোর নিয়ম এবং শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়। হোয়াইট বেল্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন কালার বেল্টের ধাপ পেরিয়ে একজন শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ দক্ষতার মূল্যায়ন করতে এই পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, ব্ল্যাক বেল্ট টেস্ট কেবল শারীরিক শক্তির পরীক্ষা নয়, এটি মূলত একজন শিক্ষার্থীর ধৈর্য, মানসিক দৃঢ়তা এবং মার্শাল আর্টের প্রকৃত দর্শনের এক অপূর্ব সমন্বয়।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের তায়কোয়ান্দোতে ব্ল্যাক বেল্ট টেস্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এ বিষয়টি মাথায় রেখে বাংলাদেশ তায়কোয়ান্দো ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জিমনেশিয়ামে আজ থেকে শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী ব্ল্যাক বেল্ট টেস্ট। দেশের বিভিন্ন জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও তায়কোয়ান্দো ক্লাবের ৩০০ প্রতিযোগী এবারের ব্ল্যাক বেল্ট টেস্টে অংশ নেবেন। গতকাল সময়ের আলোকে এমন তথ্যই জানান ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম রানা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা ১১টায় প্রতিযোগিতার উদ্বোধন হবে। তায়কোয়ান্দো ফেডারেশনের সহ-সভাপতি আব্দুস শাকুর চৌধুরী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। বিএনপির মিডিয়া সেল সদস্য, সময়ের আলো পত্রিকার উপদেষ্টা সম্পাদক, তায়কোয়ান্দো ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ব্ল্যাক বেল্ট প্রতিযোগিতার টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান শায়রুল কবির খান বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। দেশের তায়কোয়ান্দো খেলাকে আরও সুসংগঠিত, গতিশীল ও মানসম্মত করার পাশাপাশি দক্ষ ও যোগ্য খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্যে এ পরীক্ষার আয়োজন।
ব্ল্যাক বেল্ট টেস্ট মূল্যায়ন পর্বে পরীক্ষার্থীদের বেশ কয়েকটি কঠিন ধাপে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হয়েছে। পুমসে : নিখুঁত শারীরিক ভঙ্গি, ভারসাম্য ও শক্তির সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে ফর্মস প্রদর্শন। কিরোগি : আত্মরক্ষা ও আক্রমণের কৌশল প্রদর্শনের জন্য স্পারিং বা কুস্তি পর্ব। গিয়োকপা : কাঠের বোর্ড বা টাইলস ভেঙে শক্তির বিস্ফোরণ ও ফোকাস প্রদর্শন। হোশিনসুল : অপ্রত্যাশিত আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষার বাস্তবমুখী আত্মরক্ষা কৌশল।
তায়কোয়ান্দোর সুদীর্ঘ ইতিহাস, কোরিয়ান পরিভাষা এবং মার্শাল আর্টের দর্শন সম্পর্কিত জ্ঞান যাচাই-সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষক ও বিশেষজ্ঞরা জানান, ব্ল্যাক বেল্ট অর্জন কোনো যাত্রার শেষ নয়, বরং এটি একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত মার্শাল আর্ট শিক্ষার শুভসূচনা মাত্র। নিয়মিত অনুশীলন, কঠোর পরিশ্রম এবং সঠিক নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নতুন প্রজন্ম এই মর্যাদাপূর্ণ ব্ল্যাক বেল্ট অর্জনে নিজেদের প্রস্তুত করবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/টিকে