কক্সবাজারের পাটুয়ারটেক সৈকতে পুড়ে যাওয়া টুপটুপ রিসোর্ট। ছবি : সময়ের আলো কক্সবাজারের পাটুয়ারটেক সৈকতে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও এখনও কারও পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। নিখোঁজ রয়েছেন আরও একজন। মরদেহগুলো আগুনে এতটাই পুড়ে গেছে যে চেহারা দেখে শনাক্ত করার উপায় নেই। স্বজনরা হাত, গলা কিংবা পায়ে থাকা অলংকার দেখে প্রিয়জনকে চেনার চেষ্টা করেও নিশ্চিত হতে পারছেন না। পরিচয় শনাক্তে মরদেহগুলোর ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।
এদিকে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ নাহিদুর রহমান তুহিনের পরিবারের খোঁজে যশোরের মণিরামপুর থেকে স্বজনরা ছুটে এসেছেন। চার স্বজনকে হারানোর আশঙ্কায় শোকে স্তব্ধ তাদের পরিবার। অন্যদিকে ধ্বংসস্তূপে কেউ চাপা পড়ে আছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে নতুন করে তল্লাশি চালিয়েও কোনো মরদেহ পায়নি ফায়ার সার্ভিস। ফলে পরিচয় শনাক্ত ও নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানের অপেক্ষায় উৎকণ্ঠা বাড়ছে স্বজনদের।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে নিহত ব্যক্তিদের কয়েকটি পরিবারের ছবি ও পরিচয় প্রকাশিত হয়েছে। তবে ১০টি মরদেহের প্রকৃত পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি। গত রোববার সন্ধ্যায় মরদেহগুলোর ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। কক্সবাজারে এ পরীক্ষার ল্যাব না থাকায় নমুনা ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। পরীক্ষার পর পরিচয় শনাক্ত করে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ জন্য কিছু দিন সময় লাগবে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল আজাদ আনোয়ার বলেন, টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজের তালিকায় ১১ জন থাকলেও ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে ধ্বংসস্তূপের সব জায়গায় তল্লাশি চালানো সম্ভব হয়নি। কাঠের তৈরি ওপরের তলাগুলো ভেঙে নিচে পড়ায় কেউ চাপা পড়ে আছেন কি না, তা দেখতে গতকাল নতুন করে তল্লাশি চালানো হয়। তবে কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহান বলেন, নিখোঁজ একজন অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টের ভেতরে ছিলেন, নাকি বাইরে ছিলেন, তা নিশ্চিত হতে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ও তদন্তকারী দল কাজ করছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মুঠোফোন নম্বরের নেটওয়ার্ক লোকেশন ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়েই চিরবিদায় তুহিনের : দুই সন্তান আর স্ত্রীকে নিয়ে কক্সবাজার গিয়েছিলেন নাহিদুর রহমান তুহিন। সমুদ্রের নৈসর্গিক শোভা উপভোগ করে অবস্থান করছিলেন উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টে। আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাই হয়ে গেছে পরিবারটি।
একসঙ্গে চারটি প্রাণ এভাবে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়ায় তুহিনের গ্রামের বাড়ি যশোরের মণিরামপুর পৌরশহরের মোহনপুরে চলতে শোকের মাতম। হঠাৎ এমন মৃত্যু কোনভাবেই মেনে নিতে পারছে না তার পরিবার। ছেলে, পুত্রবধূ ও দুই নাতনিকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ বৃদ্ধ মতিয়ার রহমানও।
ঘটনার দুদিন পার হলেও তুহিনের পরিবারের সন্ধান পায়নি স্বজনরা। নিখোঁজ তুহিনের বড় ভাই জাহিদুর রহমান বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর থেকে ছোট ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী ও দুই ভাতিজির আর কোনো খোঁজ মিলছে না। তারা আগুনে পুড়ে যাওয়া অজ্ঞাতপরিচয়ের মরদেহগুলোর মধ্যে রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে তিনি সিলেট থেকে কক্সবাজারে পৌঁছাছেন। যে চারটি মরদেহ রয়েছে, তার মধ্যে দুটি শিশুর। তবে আমরা এখনও নিশ্চিত হতে পারছি না। চেহারা চেনার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। আহতদের মধ্যেও আমার ভাই ও তার স্ত্রী নেই। পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। চূড়ান্ত শনাক্তের জন্য আমার ডিএনএ নমুনা নেওয়া হয়েছে।’
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি