জলসিঁড়ি সেন্ট্রাল পার্ক। ছবি : সংগৃহীত দূরে কোথাও যাওয়ার জন্য দীর্ঘ ছুটির প্রয়োজন নেই। সকালে বেরিয়ে দিনভর ঘুরে সন্ধ্যার মধ্যে বাড়ি ফেরার পরিকল্পনাও করা যায়। শিশুদের নিয়ে বাইরে সময় কাটানো বয়স্কদের সঙ্গে গল্প করা কিংবা পরিবারের সবাই মিলে কিছু ছবি তোলার জন্য এমন একটি জায়গা হতে পারে ছুটির দিনের ভালো গন্তব্য। ঢাকার ব্যস্ততা, যানজট আর প্রতিদিনের কর্মচাঞ্চল্য থেকে একটু বিরতি নিতে চান? তা হলে এই ছুটিতে পরিবার নিয়ে এক দিনের জন্য ঘুরে আসতে পারেন জলসিঁড়ি সেন্ট্রাল পার্কে।
রাজধানীর কাছেই নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের ১৩ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত এই পার্ক। সবুজ পরিবেশ, লেক, হাঁটার পথ ও খোলামেলা জায়গা মিলিয়ে এখানে রয়েছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ। পার্কে ঢুকেই চোখে পড়বে খোলামেলা পরিবেশ। চারপাশে সবুজ ঘাস, গাছপালা আর লেকের পানিতে তৈরি হয় মনোরম আবহ। শহরের কোলাহল থেকে কিছুটা দূরে বসে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে লেকের ধার হতে পারে পছন্দের জায়গা। লেকের পাশের হাঁটার পথ ধরে ধীরে ধীরে ঘুরে বেড়ানো যায়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গল্প করতে করতে হাঁটতে হাঁটতে কখন যে সময় কেটে যাবে, তা টেরই পাওয়া যাবে না।
পার্কটির অন্যতম আকর্ষণ নৌকাভ্রমণ। লেকে নৌকায় ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ থাকলে শিশুদের কাছে তা হয়ে উঠতে পারে বিশেষ আনন্দের অভিজ্ঞতা। তবে নৌকায় ওঠার ক্ষেত্রে নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা এবং শিশুদের প্রতি বাড়তি নজর রাখা জরুরি।
পরিবার নিয়ে বেড়াতে গেলে শিশুদের বিনোদনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। জলসিঁড়ি সেন্ট্রাল পার্কে শিশুদের খেলার জায়গা, গোলকধাঁধা এবং বিভিন্ন বিনোদনমূলক ব্যস্ততায় পরিবারের সবাই একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ কমে যায়। তাই সরকারি ছুটির একটি দিন এমনভাবে কাটানো যেতে পারে, যেখানে কেনাকাটা বা অন্য কোনো কাজের তাড়া থাকবে না, থাকবে শুধু নিজেদের মতো করে সময় কাটানোর আনন্দ।
ঢাকার যেকোনো এলাকা থেকে প্রথমে বুড়িল বিশ্বরোডে এসে পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ের দিকে যেতে পারেন। সেখান থেকে জলসিঁড়ি স্টপেজে নেমে অটোরিকশায় পার্কে পৌছানোর সুযোগ রয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়েও যাওয়া যায়। যাত্রার আগে নিজের অবস্থান অনুযায়ী পথ ও যানজটের পরিস্থিতি দেখে নিলে সময় বাঁচবে।
আয়োজনের ব্যবস্থা আছে। এ ছাড়া রয়েছে উন্মুক্ত মঞ্চ ও কৃত্রিম জলপ্রপাত। তবে সব আয়োজন ও সুবিধা প্রতিদিন ঢালু থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। যাওয়ার আগে সবকিছু জেনে নেওয়া ভালো। শুধু শিশুদের জন্য নয়, বড়দের জন্যও এখানে রয়েছে অবসর কাটানোর সুযোগ। কেউ লেকের পাশে বসে সময় কাটাতে পারেন, কেউ হাঁটতে পারেন, আবার কেউ পরিবারের সঙ্গে ছবি তুলে দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে পারেন। দৈনন্দিন
সকালে তুলনামূলক তাড়াতাড়ি রওনা দিলে দিনের বেশিরভাগ সময় পার্কে কাটানো সম্ভব। সঙ্গে শিশু থাকলে প্রয়োজনীয় ওষুধ, পানির বোতল, টিস্যু এবং রোদ থেকে সুরক্ষার সামগ্রী রাখতে পারেন। খাবারের বিষয়ে আগে খোঁজ নিন, কারণ পার্কের ভেতরে বাইরের খাবার নেওয়ার নিয়মে বিধিনিষেধ থাকতে পারে। পার্কের নিজস্ব খাবারের ব্যবস্থা সম্পর্কে জেনে বাজেট ঠিক করাও ভালো। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সামনে সরকারি ছুটিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে আগেই পার্কের খোলার সময়, প্রবেশমূল্য এবং ছুটির দিনের প্রবেশনীতি নিশ্চিত করে নিন।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি