প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৩ এএম আপডেট: ২০.১০.২০২৬ ৮:৩৪ এএম
ট্রলার বুডিতে নিখোঁজ মেয়ের মরদেহ উদ্ধার। ছবি : সংগৃহীত পিরোজপুরের কালিগঙ্গা নদীতে অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বোঝাই ট্রলারডুবির ঘটনায় ৯ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির মা রিনা বেপারী (৩৫) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে নাজিরপুর ও নেছারাবাদ উপজেলার সীমান্তবর্তী শ্রীরামকাঠী-ভরতকাঠী ফেরিঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু আদ্রিতা বেপারী ও নিখোঁজ রিনা বেপারী নেছারাবাদ উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের ভরতকাঠী গ্রামের বাসিন্দা। তারা শংকর বেপারীর পরিবারের সদস্য। দুর্গাপূজার ছুটিতে পরিবার নিয়ে গ্রামে এসে শ্রীরামকাঠী এলাকায় পূজা দেখতে গিয়েছিলেন শংকর বেপারী। সেখান থেকে ট্রলারে করে বাড়ি ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, নাজিরপুরের শ্রীরামকাঠী বন্দর থেকে ৫০ জনের বেশি যাত্রী ও ছয়টি মোটরসাইকেল নিয়ে ট্রলারটি ভরতকাঠী ফেরিঘাটের উদ্দেশে রওনা হয়। অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বোঝাইয়ের কারণে ট্রলারটি ভারসাম্য হারিয়ে ঘাট ছাড়ার পরপরই নদীতে ডুবে যায়।
এ সময় অধিকাংশ যাত্রী সাঁতরে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় নদীর তীরে উঠতে সক্ষম হন। তবে রিনা বেপারী ও তার মেয়ে আদ্রিতা নিখোঁজ হন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে পিরোজপুর ফায়ার সার্ভিসের নেতৃত্বে বরিশাল থেকে আসা ডুবুরি দল দুই দফা অভিযান চালিয়ে শিশু আদ্রিতার মরদেহ উদ্ধার করে।
দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও উদ্ধার অভিযান তদারকি করেন নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ তমা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আহসান হাবিব এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন জাহান। এ ছাড়া পিরোজপুর জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক রায়হানুর আশরাফ এবং নাজিরপুর ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক সোয়াইব হোসেন মুন্সির নেতৃত্বে উদ্ধারকাজ পরিচালিত হয়।
নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ তমা ও ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক রায়হানুর আশরাফ জানান, রাতে উদ্ধার অভিযান চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আপাতত তা স্থগিত রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে নিখোঁজ রিনা বেপারীকে উদ্ধারে পুনরায় অভিযান শুরু করা হয়।
সময়ের আলো/জোই