গাছ কেটে নেওয়ার পর এবার ওই জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন। ছবি : সময়ের আলোরাজবাড়ী সদর উপজেলার শহিদওহাবপুর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে জমি থেকে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা মূল্যের মেহগনি গাছ কেটে নেওয়ার পর এবার ওই জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বিএম আমিরুল ইসলাম আকাশ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। জমির মালিকপক্ষের দাবি, জমি দখলে নিতে তাদের ভয়ভীতি দেখানো ও নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। তাদের পক্ষে দাঁড়ানো স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম হোসেন ফরিদকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও উঠেছে।
এসব ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং জমি রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকালে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত আমিরুল ইসলাম আকাশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী রহিমা বেগম জানান, তার স্বামী হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক প্রয়াত মিজানুর রহমান ১৯৮৭ সালে রামপুর মৌজার ১৩৫ নম্বর দাগে থাকা ২ একর ১২ শতাংশ জমি আমিরুল ইসলাম আকাশের চাচা আব্দুল হামিদ বিশ্বাসের কাছ থেকে কিনেছিলেন। এরপর থেকে তারা ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন। জমির ৬৫ শতাংশে তার বাবা মেহগনি গাছ লাগিয়েছিলেন।
রহিমা বেগমের অভিযোগ, দীর্ঘদিন জমিটি নিয়ে কোনো বিরোধ না থাকলেও ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগে আমিরুল ইসলাম আকাশ ও তার সহযোগীরা বাগানের ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা মূল্যের মেহগনি গাছ কেটে বিক্রি করে দেন।
তিনি বলেন, গাছ কাটার সময় বাধা দিতে গেলে তারা আমাদের ওপর চড়াও হয়, গালিগালাজ করে এবং আমার শ্লীলতাহানি ঘটায়। আমাকে গলায় ধাক্কা দিয়ে বাগান থেকে বের করে দেয়। থানায় গেলে পিটিয়ে লাশ গুম করারও হুমকি দেয়।’
এ ঘটনায় তার ছেলে আব্দুর রব রাজবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
মিজানুর রহমানের মেয়ে জেসমিন নাহার বলেন, তাদের বাবার কেনা ও বিএস রেকর্ডভুক্ত জমি জোরপূর্বক দখলে নিতে আকাশ ও তার সহযোগীরা ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা করছেন। প্রায় এক বছর আগে জমির গাছ কেটে নেওয়ার পর এখন জমি দখলের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জেসমিন নাহারের ভাষ্য, বিষয়টি বুঝতে পেরে তারা নিজেদের জমিতে বেড়া দিতে গেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পরে পুলিশ স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম হোসেন ফরিদকে সেখানে যেতে বলে। এ সময় আমিরুল ইসলাম আকাশ ও তার লোকজন ঝামেলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে ফরিদ বাধা দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আকাশ তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন জেসমিন।
তিনি বলেন, ‘আমরা এই চক্রের ভয়ভীতি ও হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে চাই। জমি দখলের চেষ্টা ও গাছ কাটার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
এদিকে, নিজের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে বক্তব্য দিয়েছেন শহীদওহাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য গোলাম হোসেন ফরিদ। তিনি বলেন, ২০১১ সাল থেকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তিনি ওয়ার্ডবাসীর সেবা করে আসছেন। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি চিহ্নিত মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে।
ফরিদের দাবি, গত ১৫ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং পরে একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে তাঁকে জড়িয়ে ‘সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে জমি দখল’-এর অভিযোগ প্রকাশ করা হয়। এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং যুবসমাজকে রক্ষার চেষ্টা করায় চিহ্নিত মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত বিএম আমিরুল ইসলাম আকাশের রোষানলে পড়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ইউপি সদস্য বলেন, গত ৪ অক্টোবর জমির প্রকৃত মালিকেরা নিজেদের জমিতে খুঁটি পুঁতে বেড়া দেওয়ার সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পরে পুলিশ তাকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে সেখানে যেতে বলে। তিনি কেবল পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন।
ফরিদ আরও বলেন, পরে আকাশ ও তার সহযোগীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেন, তিনি নাকি মিজানুর রহমানের জমি দখলের চেষ্টা করছেন। এ ধরনের বানোয়াট সংবাদ ও অপপ্রচার বন্ধের পাশাপাশি মিথ্যা তথ্য প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান তিনি।
উল্লেখ্য, জমি দখল, গাছ কেটে নেওয়া ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগগুলো ভুক্তভোগী পরিবার ও ইউপি সদস্যের বক্তব্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত বিএম আমিরুল ইসলাম আকাশের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযুক্ত করা প্রয়োজন।
সময়ের আলো/জোই