রাজবাড়ীতে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও গর্ভবতী হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ফারুক হোসেন নামে আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুকে আসামির সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি এবং উত্তরাধিকারী হিসেবে তার সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে রায় দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১১ই অক্টোবর) দুপুরে রাজবাড়ীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. তহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ফারুক হোসেন রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বাবুপাড়া এলাকার আহম্মদ খার ছেলে।
মামলার আরজি থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩০মে রাতে একই এলাকার নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে খোকসায় আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যান ফারুক। সেখানে প্রায় দুই মাস ধরে তাকে ধর্ষণ করে ফারুক। পরে বিয়ের কাগজপত্র তৈরির কথা বলে ওই নারীকে ঢাকায় নিয়ে যান তিনি। সেখানে তিনটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার পর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আবারও ধর্ষণ করেন।
একপর্যায়ে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ফারুক বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয় বলেও মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। পরে ২০১৮ সালের ২৯শে সেপ্টেম্বর কৌশলে সেখান থেকে বের হয়ে বাড়িতে ফিরে স্বজন ও সাক্ষীদের কাছে ঘটনার বিবরণ দেন ওই নারী।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হয়। পরে সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই নারী আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে পাংশা থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
তদন্তের অংশ হিসেবে ওই নারীকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হলে রিপোর্টে সে ১০ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরবর্তীতে ওই নারী একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।
রাজবাড়ী নারী ও শিশু নির্যাতনের দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট জাহিদ উদ্দিন মোল্লা বলেন, দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত রোবরার (১১ই অক্টোবর) দুপুরে এ মালার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ফারুক হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, জন্ম নেওয়া শিশুটিকে ফারুক হোসেনের সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন আদালত। শিশুটির উত্তরাধিকারী হিসেবে তার সম্পত্তির অধিকারও নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি শিশুটির ২১ বছর বয়স পর্যন্ত ভরণপোষণের ব্যয় সরকার বহন করবে বলে আদালতের সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
এ রায়ের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন এই আইনজীবী।
সময়ের আলো/এনএন