এআই ক্যামেরার মামলার তথ্য এসএমএসে পাঠাবে পুলিশ, থাকবে ভিডিও

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় এআই ক্যামেরায় শনাক্ত হওয়া যানবাহনের মালিকদের মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের

2026-10-20T17:45:43+00:00
2026-10-20T17:45:43+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬,
৪ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয়
এআই ক্যামেরার মামলার তথ্য এসএমএসে পাঠাবে পুলিশ, থাকবে ভিডিও
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৫ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় এআই ক্যামেরায় শনাক্ত হওয়া যানবাহনের মালিকদের মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। নতুন ব্যবস্থায় মামলার তথ্যের পাশাপাশি আইন লঙ্ঘনের ২৫ সেকেন্ডের ভিডিও দেখার সুযোগ থাকবে। এতে মামলার সত্যতা যাচাই করা সহজ হবে এবং বিআরটিএর নামে ভুয়া জরিমানার এসএমএস পাঠিয়ে প্রতারণা ঠেকানো সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ।

সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরায় বসবাসকারী একটি বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আনাম মাহফুজের মোবাইল ফোনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নাম ব্যবহার করে একটি এসএমএস আসে। বার্তায় বলা হয়, তার গাড়ি নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘন করায় জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। সঙ্গে ছিল অর্থ পরিশোধের একটি লিংক।

আনাম বলেন, ‘আমি মনে করেছি, আমার গাড়িচালক কোনো ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করেছেন। তাই লিংকে গিয়ে জরিমানার তিন হাজার টাকা পরিশোধ করি। পরে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে ফোন করে জানতে পারি, এসএমএসটি ভুয়া।’

এ ধরনের প্রতারণা ঠেকাতে ডিএমপি ও বিআরটিএ আলাদাভাবে সতর্কবার্তা দিলেও প্রতারক চক্রের তৎপরতা বন্ধ হয়নি। এ পরিস্থিতিতে বিআরটিএর পরিবর্তে পুলিশের পক্ষ থেকে এসএমএস পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বার্তার সত্যতা যাচাইয়ের জন্যও রাখা হবে একাধিক ব্যবস্থা।

ডিএমপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসএমএসে সংশ্লিষ্ট গাড়ির নম্বর, আইন লঙ্ঘনের স্থান ও বিবরণ, প্রযোজ্য আইন বা ধারা, প্রসিকিউশন কোড, জরিমানার পরিমাণ এবং অর্থ পরিশোধের সময়সীমা উল্লেখ থাকবে। প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য দেওয়া হবে পুলিশের অফিসিয়াল ফোন নম্বর।

বার্তার লিংকে প্রবেশ করলে মামলার কেস স্লিপের পিডিএফ ফাইল এবং আইন লঙ্ঘনের ২৫ সেকেন্ডের ভিডিও দেখা যাবে। ভিডিওটি দেখার সুযোগ থাকলেও ডাউনলোড বা বাণিজ্যিকভাবে অপব্যবহারের সুযোগ রাখা হবে না। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ভিডিও দেখে ঘটনার বিষয়ে ধারণা নেওয়ার পাশাপাশি মামলার সত্যতাও যাচাই করতে পারবেন।

তবে নতুন ব্যবস্থা চালু হলেও এসএমএসে পাওয়া কোনো লিংক যাচাই না করে অর্থ পরিশোধ না করার পরামর্শ দিয়েছেন ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা। সন্দেহজনক বার্তা পেলে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগে যোগাযোগ অথবা জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ডিএমপির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এআইভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় মামলা কার্যক্রম চার মাসের বেশি সময় ধরে চলছে। বর্তমানে মামলার তথ্য জানাতে সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকের ঠিকানায় চিঠি পাঠানো হয়। এ ক্ষেত্রে বিআরটিএতে যানবাহন নিবন্ধনের সময় দেওয়া ঠিকানা ব্যবহার করা হয়। সেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পাওয়া না গেলে নিবন্ধনের সময় দেওয়া মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়।

তবে অনেক ক্ষেত্রে মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকা বা পরিবর্তনের কারণে যোগাযোগে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধান এবং মামলা-সংক্রান্ত তথ্য দ্রুত জানাতে এসএমএস ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ডিএমপির সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট শারমিন আফরোজ বলেন, ‘নতুন এসএমএস সিস্টেম চালুর প্রয়োজনীয় কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। জনবলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা হালনাগাদ করার কাজ চলছে। আগামী মাস থেকে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘জরিমানা আদায় বা জরিমানার সংখ্যা বাড়ানো ট্রাফিক পুলিশের মূল লক্ষ্য নয়। নাগরিকরা স্বাভাবিকভাবে আইন মেনে চললে জরিমানা করার প্রয়োজনই হবে না।’


ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ মে ঢাকার বিভিন্ন মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে এআই ক্যামেরা স্থাপনের পর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে বাসের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, পিকআপ, লেগুনা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে।

বর্তমানে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ৪৬টি এআই ক্যামেরা সক্রিয় রয়েছে। এ সংখ্যা বাড়িয়ে ১২০টিতে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এআই ক্যামেরার মাধ্যমে স্টপ লাইন অতিক্রম, নির্ধারিত লেন না মানা, উল্টো পথে চলাচলসহ বিভিন্ন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করা হচ্ছে। ক্যামেরায় ধারণ করা দৃশ্য সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে অপরাধ শনাক্ত করা হয়। এরপর সে অনুযায়ী মামলা দেওয়া হচ্ছে।

ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এআইভিত্তিক নজরদারির আওতায় লাল বাতি অমান্য, স্টপ লাইন অতিক্রম, লেন পরিবর্তনের নিয়ম ভঙ্গ, উল্টো পথে চলাচল, জেব্রা ক্রসিং দখল, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো, সিটবেল্ট না পরা, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, অবৈধ পার্কিং এবং অনুমতি ছাড়া ভিআইপি লাইট ব্যবহারের মতো অপরাধ শনাক্ত করার উদ্যোগ রয়েছে।

বর্তমানে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে প্যান-টিল্ট-জুম (পিটিজেড) ও নম্বর প্লেট শনাক্তকরণ প্রযুক্তির (এনপিআর) ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। পিটিজেড ক্যামেরায় ধারণ করা ছবি এআইভিত্তিক সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে গাড়ির নম্বর ও অপরাধের ধরন শনাক্ত করা হয়। অন্যদিকে, এনপিআর ক্যামেরা সরাসরি গাড়ির নম্বর প্লেট শনাক্ত করতে পারে। এসব প্রযুক্তির ব্যবহারে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করা সহজ হচ্ছে। একই সঙ্গে চালকদের মধ্যে আইন মেনে চলার প্রবণতাও বাড়ছে বলে মনে করছে পুলিশ।

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে অতীতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি। এবার প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও ডিজিটাল মামলা ব্যবস্থার মাধ্যমে চালকদের আইন মানতে উৎসাহিত করার চেষ্টা করছে পুলিশ।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘এআই ক্যামেরায় আইন লঙ্ঘনের ঘটনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত হওয়ায় প্রতিটি মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের সরাসরি উপস্থিতির ওপর নির্ভরতা কমছে। এআই ক্যামেরা লাগানোর পরে চালক, যাত্রী ও পথচারীরা নিয়ম মানতে শুরু করেছেন। বর্তমানে প্রায় সব কয়টি ট্রাফিক সিগন্যালে নিয়ম মানতে দেখা যাচ্ছে চালকদের। যারা মানছেন না তাদের বিরুদ্ধে হচ্ছে মামলা।’

তিনি বলেন, ‘আমরা হয়তো আগামী মাস থেকে এআই মামলার তথ্য সংশ্লিষ্টদের মোবাইলে এসএমএসে দিতে পারবো। স্বয়ংক্রিয় এসএমএস ব্যবস্থা চালু হলে সড়কে নিয়ম ভাঙার প্রবণতা কমে আসবে। এসএমএসের লিংকে থাকবে একটি ২৫ সেকেন্ডের ভিডিও। এআই ক্যামেরা অন্যায়ভাবে মামলা দিচ্ছে না—এটা প্রমাণের জন্যই ভিডিও দেওয়া হবে।’

সময়ের আলো/এসএকে
  বিষয়:   এআই ক্যামেরা  মামলা  পুলিশ  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: