ঋণ মূল্যায়ন ও সুশাসন ঘাটতিতে বাড়ছে খেলাপির ঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

ঋণ দেওয়ার আগে গ্রাহকের আর্থিক সক্ষমতা যথাযথভাবে যাচাই না করা, ঋণ অনুমোদনে জবাবদিহির ঘাটতি এবং বিতরণের পর তদারকির দুর্বলতা ব্যাংকিং

2026-10-20T22:25:56+00:00
2026-10-20T22:25:56+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬,
৪ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
অর্থনীতি
বিআইবিএমের গবেষণা
ঋণ মূল্যায়ন ও সুশাসন ঘাটতিতে বাড়ছে খেলাপির ঝুঁকি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৫ পিএম 
রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটরিয়ামে ‘বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ : নীতিগত প্রত্যাশা ও বাজারের বাস্তবতা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা। ছবি : সংগৃহীত
ঋণ দেওয়ার আগে গ্রাহকের আর্থিক সক্ষমতা যথাযথভাবে যাচাই না করা, ঋণ অনুমোদনে জবাবদিহির ঘাটতি এবং বিতরণের পর তদারকির দুর্বলতা ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি ঋণখেলাপি হওয়ার পরও সময়মতো তা শনাক্ত ও স্বীকৃতি না দেওয়ার প্রবণতা ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক পরিস্থিতি আড়াল করতে পারে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গবেষণায় এসব দুর্বলতা উঠে এসেছে।

গবেষণায় অংশ নেওয়া ৬৮ দশমিক ৮ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, ঋণ মূল্যায়নের সময় প্রায়ই যথাযথভাবে নগদ প্রবাহ বিশ্লেষণ করা হয় না। এ ছাড়া ৮০ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, নিয়ন্ত্রক নীতিতে শিথিলতা ও ঘন ঘন পরিবর্তন ব্যাংকিং খাতে ঋণ শৃঙ্খলা দুর্বল করে।

সোমবার রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটরিয়ামে ‘বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ : নীতিগত প্রত্যাশা ও বাজারের বাস্তবতা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। এতে ব্যাংকার, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা অংশ নেন। বিআইবিএমের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, খেলাপি ঋণের উচ্চ হার মূল সমস্যার একটি উপসর্গ। এর পেছনের কারণগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সংস্কার গ্রহণ করা জরুরি। ঋণ মূল্যায়ন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা, ঋণ বিতরণ-পরবর্তী তদারকি এবং ঋণ আদায় প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়েও গবেষণায় প্রশ্ন উঠেছে।


গবেষণায় অংশ নেওয়া ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ উত্তরদাতা শিল্প ও খাতভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণে ঘাটতির কথা উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি ঋণের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা, নির্ভরযোগ্য আর্থিক তথ্য সংগ্রহ এবং ঋণগ্রহীতার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিয়মিত পরিদর্শনের ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা উঠে এসেছে।

ঋণের কিস্তি বকেয়া পড়া, অস্বাভাবিক লেনদেন, নগদ প্রবাহ কমে যাওয়া এবং ঋণের অর্থ অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়াকে সম্ভাব্য ঝুঁকির আগাম সংকেত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব লক্ষণ শনাক্ত করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে গবেষণাটি।

এদিকে গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের ৬০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ঋণ দেওয়া বড় সমস্যা হিসেবে দেখেছেন। ঋণখেলাপি হওয়ার পরও যথাসময়ে তা স্বীকৃতি না দেওয়ার পেছনে প্রভিশন সংরক্ষণের চাপ, ব্যবস্থাপনার জবাবদিহি নিয়ে উদ্বেগ এবং ব্যাংকের সম্পদের মান ভালো দেখানোর প্রবণতাকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঋণ পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রেও প্রকৃত ব্যবসায়িক পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি খেলাপি ঋণ ও প্রভিশন-সংক্রান্ত সূচক ভালো দেখানোর প্রবণতা কাজ করতে পারে বলে গবেষণায় বলা হয়েছে।

খেলাপি ঋণ কমাতে ঋণগ্রহীতার নগদ প্রবাহ বিশ্লেষণ, ঋণ বিতরণের পর নিয়মিত তদারকি এবং ঋণ অনুমোদনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে বিআইবিএম। পাশাপাশি ঋণ আদায়ে আলোচনা, পুনর্গঠন, জামানত নগদায়ন ও আইনি পদক্ষেপ কার্যকরভাবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে গবেষণায় উল্লেখিত পরিসংখ্যান উত্তরদাতাদের মতামতভিত্তিক। এগুলো পুরো ব্যাংকিং খাতে সংশ্লিষ্ট সমস্যার প্রকৃত ব্যাপকতার সরাসরি পরিমাপ নয়।


সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে
  বিষয়:   ঋণ  মূল্যায়ন  সুশাসন  ঘাটতি  খেলাপি  ঝুঁকি 


Advertisement
Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: