প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম
ছবি : সময়ের আলোটাঙ্গাইলের বাসাইলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সচিব ও ইউপি সদস্যদের সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ভুয়া অনলাইন ওয়ারিশান সনদ তৈরির অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলা করা হয়েছে। বাসাইল সদর, কাউলজানী ও কাশিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের করা পৃথক এজাহারের ভিত্তিতে বাসাইল থানা পুলিশ প্রতারণা ও জালিয়াতির ধারায় এ মামলাগুলো রুজু করে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাসাইল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রকৃত ওয়ারিশদের বাদ দিয়ে ভুয়া ওয়ারিশান সনদের ফটোকপি ব্যবহার করে নামজারির আবেদন করা হয়। পরে ভূমি অফিস থেকে অনলাইনে ওয়ারিশান সনদ যাচাই করতে গিয়ে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে।
বাসাইল সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল মিয়ার করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, নাইকানীবাড়ী গ্রামের ৫ জন এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা এক আসামির বিরুদ্ধে জাল ওয়ারিশান সনদ তৈরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। আসামিরা মৃত আমিনুল ইসলামের অন্য ওয়ারিশদের না জানিয়ে এবং তথ্য গোপন করে ইউপি সদস্য ও সচিবের স্বাক্ষর ও সিল জালিয়াতি করে সনদ তৈরি করে নামজারির চেষ্টা করে।
কাউলজানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউল গনি হাবিবের করা এজাহারে বলা হয়, কাউলজানী গ্রামের চার ভাই মিলে অন্য বৈধ ওয়ারিশদের বঞ্চিত করে জালিয়াতির মাধ্যমে ওয়ারিশান সনদ তৈরি করে নামজারির আবেদন জমা দেন।
কাশিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রমজান মিয়ার করা এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ৫ জন এজাহারনামীয় ও একজন অজ্ঞাতনামা আসামি মিলে প্রকৃত ওয়ারিশদের গোপন করে জাল সিল-স্বাক্ষর ব্যবহার করে প্রতারণামূলক ওয়ারিশান সনদ তৈরি করেন।
বাসাইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিয়ান মুনসীফ বলেন, জাল বা ভুয়া দলিল ও ওয়ারিশ সনদ ব্যবহার করে জমি দখলের যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ও ভূমি অফিস কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন অনুযায়ী ভূমি জালিয়াতির অপরাধে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদ- ও অর্থদ-ের বিধান রয়েছে। ইতিমধ্যে জমি সংক্রান্ত দলিল প্রস্তুত ও নামজারি আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জাল কাগজপত্র প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভূমির প্রকৃত মালিক ও বৈধ ওয়ারিশদের অধিকার রক্ষা এবং ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে উপজেলা ভূমি প্রশাসনের আইনগত পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
সময়ের আলো/এসএকে