ছবি : সংগৃহীতমানুষের জীবন অমূল্য। একটি প্রাণের মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের স্বপ্ন ও সম্ভাবনা শেষ করে না, সমাজেও গভীর একটা ক্ষত তৈরি করে। ইসলামের দৃষ্টিতে অন্যায়ভাবে মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবজীবনের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাকে গুরুত্ব দেওয়া ইসলাম নিরপরাধ মানুষ হত্যাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে।
পবিত্র কোরআনে অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যার ভয়াবহতা এবং এর পরিণতি সম্পর্কে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা সুরা ফুরকানে তার প্রিয় বান্দাদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, তারা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে উপাস্য হিসেবে ডাকে না এবং যথার্থ কারণ ছাড়া এমন কোনো প্রাণ হত্যা করে না, যাকে হত্যা করা আল্লাহ হারাম করেছেন। যারা এসব অপরাধে লিপ্ত হয়, তাদের জন্য রয়েছে শাস্তি। কিয়ামতের দিন তাদের শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে এবং তারা লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে থাকবে। (সুরা ফুরকান : ৬৭-৬৯)
এই আয়াতে অন্যায়ভাবে প্রাণ নেওয়ার অপরাধকে আল্লাহর অধিকার লঙ্ঘন এবং গুরুতর নৈতিক বিচ্যুতি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়, মানুষের জীবন রক্ষার দায়িত্ব কেবল সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় বিষয় নয়; এটি ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্বেরও অংশ।
মানুষের জীবনের গুরুত্ব বোঝাতে সুরা মায়িদার ৩২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বনি ইসরাইলের প্রতি দেওয়া একটি বিধানের কথা উল্লেখ করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, কেউ যদি হত্যার বদলা নেওয়া কিংবা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টির মতো বৈধ কারণ ছাড়া কাউকে হত্যা করে, তবে সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করল। আর কেউ একজন মানুষের প্রাণ রক্ষা করলে, সে যেন সমগ্র মানবজাতির প্রাণ রক্ষা করল।
এই আয়াতের শিক্ষা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একজন মানুষের জীবনও যে কতটা মূল্যবান, তা এখানে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করা যেমন মানবতার বিরুদ্ধে ভয়াবহ অন্যায়, তেমনি মানুষের জীবন রক্ষা করাও মানবকল্যাণের এক মহৎ দৃষ্টান্ত।
অন্যায় হত্যার পরিণতি শুধু দুনিয়াতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং আখিরাতেও এ অপরাধের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। তাই ব্যক্তিগত বিরোধ, প্রতিশোধ, ক্রোধ কিংবা অন্য কোনো অজুহাতে নিরপরাধ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধ দমনের ক্ষেত্রেও ব্যক্তিগত প্রতিশোধের পরিবর্তে বৈধ বিচারব্যবস্থার ওপর নির্ভর করা জরুরি।
ইসলাম মানুষকে কেবল অপরাধ থেকে বিরত থাকার নির্দেশই দেয় না, বরং মানবিকতা, সহমর্মিতা, ন্যায়বিচার ও শান্তির চর্চায়ও উদ্বুদ্ধ করে। তাই একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে প্রত্যেক মানুষের উচিত অন্যের জীবনের মর্যাদা উপলব্ধি করা, সহিংসতা পরিহার করা এবং অন্যায়ভাবে প্রাণহানির বিরুদ্ধে সচেতন ভূমিকা রাখা। মানুষের জীবন রক্ষা ও মানবতার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই ইসলামের এই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলন ঘটতে পারে।
সময়ের আলো/এসএকে