উপকূল রক্ষা না করলে শত বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি : এডিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকাগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিতে রয়েছে। কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

2026-10-21T18:07:37+00:00
2026-10-21T18:07:37+00:00
 
  বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬,
৫ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
অর্থনীতি
উপকূল রক্ষা না করলে শত বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি : এডিবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৭ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকাগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিতে রয়েছে। কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ২০৫০ সালের মধ্যে এ অঞ্চলে উপকূলীয় বন্যায় বার্ষিক আর্থিক ক্ষতি বর্তমানের তুলনায় ছয় গুণেরও বেশি বাড়তে পারে। তবে সময়মতো অভিযোজন ও উপকূলীয় সুরক্ষায় বিনিয়োগ করা গেলে সম্ভাব্য ক্ষতির তুলনায় ২০ গুণ পর্যন্ত বেশি সুফল পাওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত এডিবির ‘এশিয়া-প্যাসিফিক ক্লাইমেট রিপোর্ট ২০২৬ : কোস্টাল রিস্কস অন দ্য রাইজ—অ্যাকশনস ফর এ রেজিলিয়েন্ট ফিউচার’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। ম্যানিলায় অবস্থিত সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। এর প্রভাব অর্থনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে। যথাযথ অভিযোজন ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ২০৫০ সালের মধ্যে উপকূলীয় বন্যায় বার্ষিক আর্থিক ক্ষতি ছয় গুণেরও বেশি বাড়তে পারে। আর ২১০০ সাল নাগাদ এ ক্ষতির পরিমাণ বর্তমানের তুলনায় প্রায় ২০ গুণে পৌঁছাতে পারে।

৩০টি উপকূলীয় অর্থনীতির ওপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে এ অঞ্চলে বন্যার কারণে বছরে প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হচ্ছে। ২০৫০ সাল নাগাদ এই ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে ১৭২ বিলিয়ন থেকে ১৯৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। শতাব্দীর শেষ নাগাদ, অর্থাৎ ২১০০ সালে বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৫২০ বিলিয়ন থেকে ৭৩৯ বিলিয়ন ডলারে।

তবে উপকূলীয় সুরক্ষায় যথাযথ বিনিয়োগের মাধ্যমে এই ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব বলে মনে করছে এডিবি। সংস্থাটির হিসাবে, এ খাতে বছরে ৯ বিলিয়ন থেকে ১৯ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা গেলে তা থেকে বার্ষিক ১৭৮ বিলিয়ন থেকে ৩৬০ বিলিয়ন ডলারের বন্যাজনিত ক্ষতি এড়ানোর সুফল পাওয়া যেতে পারে।

এডিবির ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট বিভাগের মহাপরিচালক ইয়েভগেনি জুকোভ বলেন, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি এর উপকূলীয় এলাকাগুলো। কিন্তু সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও তীব্র প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এসব এলাকার ভূমি ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে।


তিনি বলেন, অঞ্চলটি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। মানুষের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষিত রাখা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে এখনই দীর্ঘমেয়াদি, অভিযোজনযোগ্য ও ঝুঁকিমুক্ত সমাধান গ্রহণ করা জরুরি।

এডিবির সদস্য দেশগুলোর উপকূলীয় এলাকাগুলোতে বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব দেশের ৪০ কোটিরও বেশি মানুষ সমুদ্র উপকূলের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে বসবাস করেন, যা প্রতি ১০ জনে একজনেরও বেশি। এসব এলাকা শুধু জনবসতির কেন্দ্র নয়; গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর, বাণিজ্যিক কেন্দ্র, পর্যটন গন্তব্য ও বিশ্ব ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উপকূলীয় বন্যায় বড় অর্থনীতির দেশগুলো বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। তবে ক্ষুদ্র প্রবালপ্রাচীরবেষ্টিত দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। উচ্চ কার্বন নিঃসরণের পরিস্থিতিতে ২১০০ সালের মধ্যে এসব ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রে বার্ষিক বন্যাজনিত ক্ষতির পরিমাণ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

ব্যাংকক, জাকার্তা, কলকাতা ও মুম্বাইয়ের মতো বড় শহরগুলো উপকূলীয় বন্যার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব শহরে যে ধরনের ভয়াবহ উপকূলীয় বন্যা আগে ১০০ বছরে একবার ঘটত, শতাব্দীর শেষ নাগাদ তা প্রতিবছর ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া উপকূলীয় বন্দরগুলোতে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে স্থবিরতা ও অন্যান্য বিঘ্নের কারণে বছরে প্রায় ৪০ বিলিয়ন থেকে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ও বাণিজ্য ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এতে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উপকূলীয় এলাকার প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে এডিবি সরকারগুলোর জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে। সংস্থাটির মতে, অভিযোজন পরিকল্পনাকে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। পাশাপাশি চারটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

এগুলো হলো—সাধারণ উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে জলবায়ু অভিযোজনকে অন্তর্ভুক্ত করা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও সুশাসন জোরদার করা, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং কার্যকর বাস্তবায়নের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব ও মালিকানা বজায় রাখা।

প্রতিবেদনে উপকূলীয় অভিযোজন খাতে অর্থায়নের ঘাটতির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উপকূলীয় দেশগুলোতে আন্তর্জাতিক অভিযোজন অর্থায়ন ২০১৫ সালে ৫ বিলিয়ন ডলার ছিল। ২০২২ ও ২০২৩ সালে তা বেড়ে বার্ষিক গড়ে ১১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। তবে প্রয়োজনের তুলনায় এ অর্থায়ন এখনো অপর্যাপ্ত।

দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু সরকারি অর্থের ওপর নির্ভর না করে সরকারি সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ ও অনুকূল শর্তে অর্থায়নসহ বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে এডিবি। সংস্থাটির মতে, সমন্বিত অর্থায়ন ও কার্যকর অভিযোজন পরিকল্পনার মাধ্যমে উপকূলীয় জনগোষ্ঠী, অবকাঠামো ও অর্থনীতিকে ভবিষ্যতের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

সময়ের আলো/এসএকে
  বিষয়:   উপকূল  বিলিয়ন ডলার  এডিবি  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: