রাস্তার পাশে পুরি-পিঁয়াজুর দোকানেরও লাগবে নিবন্ধন

সময়ের আলো ডেস্ক

জাতীয়

দেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং খাদ্য ব্যবসায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় নতুন নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য

2026-10-22T12:27:00+00:00
2026-10-22T12:36:38+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬,
৬ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয়
রাস্তার পাশে পুরি-পিঁয়াজুর দোকানেরও লাগবে নিবন্ধন
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৭ পিএম  আপডেট: ২২.১০.২০২৬ ১২:৩৬ পিএম
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। ছবি : সংগৃহীত
দেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং খাদ্য ব্যবসায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় নতুন নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। আগামী ১ নভেম্বর থেকে নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার নিবন্ধন এবং বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক হচ্ছে। একই সঙ্গে খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে বিএফএসএর নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করতে হবে।

‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’-এর আওতায় এ ব্যবস্থা কার্যকর হবে। কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে প্রণীত প্রবিধানমালাটি গত ১৬ জুলাই সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়। নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য ব্যবসায়ীদের ১ নভেম্বর থেকে প্রযোজ্য নিবন্ধন ও লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে বলেছে কর্তৃপক্ষ।

নতুন নিয়মের আওতায় রাস্তার পাশের পিঠা, পুরি-পিঁয়াজুর দোকান থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান, ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠান, দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী, প্যাকেটজাত খাবার উৎপাদনকারী, খাদ্য সংরক্ষণাগার ও কোল্ড স্টোরেজ আসবে। এ ছাড়া নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীদেরও নিবন্ধন নিতে হবে।

প্রবিধানমালায় নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার প্রথমবার নিবন্ধন বিনামূল্যে করা হবে। তবে বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, আমদানি ও বিপণনের ক্ষেত্রে ব্যবসার ধরন অনুযায়ী লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে হবে। নিবন্ধন বা লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করলে তা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

নতুন ব্যবস্থায় খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে বিএফএসএর নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করাও বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এতে উৎপাদক ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করা সহজ হবে। ভোক্তারাও প্যাকেটে থাকা নম্বরের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং প্রয়োজনে অভিযোগ জানানোর সময় নম্বরটি ব্যবহার করতে পারবেন। তবে শুধু নিবন্ধন নম্বর থাকলেই খাদ্যপণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না; পণ্যের মান বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন ও বিধিবিধানও মানতে হবে।


প্রবিধানমালায় কিছু বিশেষ খাদ্যপণ্যের জন্য পৃথক অনুমোদনব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শিশুদের ফর্মুলা দুধ, বয়স্ক ব্যক্তি ও নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত মানুষের জন্য তৈরি বিশেষ খাদ্য, স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্য এবং নিউট্রাসিউটিক্যাল। এসব পণ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, আমদানি ও বিপণনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য লাইসেন্স নিতে হবে।

এ ছাড়া জিনগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত খাদ্য, জৈব খাদ্য, কিরণ-সম্পাতকৃত খাদ্য, অভিনব খাদ্য, পুষ্টিসমৃদ্ধ বা ফোর্টিফায়েড খাদ্য এবং স্বাস্থ্য সহায়ক কিংবা রোগের ঝুঁকি কমানোর দাবি-সংবলিত পণ্যের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট শর্ত অনুযায়ী নিবন্ধন ও লাইসেন্স নিশ্চিত করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে শুধু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন যথেষ্ট নাও হতে পারে; পণ্যের ধরন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম অনুযায়ী অতিরিক্ত অনুমোদন নিতে হবে।

প্রতিষ্ঠানের আয়তন অনুযায়ী লাইসেন্স ফিও নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রবিধানমালা অনুযায়ী, ১০০ বর্গমিটার বা তার কম আয়তনের প্রতিষ্ঠানের প্রিমিসেস লাইসেন্সের ফি ১০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, ১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি আয়তনের প্রতিষ্ঠানের নতুন লাইসেন্সের ফি ৬০ হাজার টাকা।

আবেদনের আগে প্রবিধানমালার তফসিল-১০-এ উল্লেখিত ফি এবং নিজ নিজ ব্যবসার জন্য প্রযোজ্য শর্ত যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয় থেকে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আবেদন করা যাবে। পর্যায়ক্রমে শতভাগ অনলাইনে আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থাও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর। মেয়াদ শেষ হলে তা নবায়ন করতে হবে।

কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে খাদ্য ব্যবসাকে নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর আওতায় আনা, উৎপাদন ও বিপণনে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং ভোক্তাদের অভিযোগের ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হবে।

সময়ের আলো/কেএইচও
  বিষয়:   রাস্তা  পুরি-পিঁয়াজু  দোকান  নিবন্ধন  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: