বাইকচালকদের পকেট থেকে যাবে ৩৫০ কোটি টাকা

সালাহ উদ্দিন চৌধুরী

জাতীয়

দেশের প্রায় ৫০ লাখ নিবন্ধিত মোটরসাইকেলে সামনের নম্বর প্লেট লাগাতে মালিকদের ব্যয় হবে অন্তত ৩৫০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন

2026-10-23T01:48:05+00:00
2026-10-23T01:48:05+00:00
 
  শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬,
৭ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয়
গাড়ির সামনে নম্বর প্লেট লাগানোর নির্দেশ
বাইকচালকদের পকেট থেকে যাবে ৩৫০ কোটি টাকা
সালাহ উদ্দিন চৌধুরী
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৮ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
দেশের প্রায় ৫০ লাখ নিবন্ধিত মোটরসাইকেলে সামনের নম্বর প্লেট লাগাতে মালিকদের ব্যয় হবে অন্তত ৩৫০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এসব প্লেট লাগাতে হবে। হাতে সময় মাত্র এক মাস থাকায় হঠাৎ বেড়েছে চাহিদা। এতে নম্বর প্লেট তৈরি ও সংযোজনের খরচ বেড়েছে বলে অভিযোগ মালিকদের। 

এত অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক প্লেট তৈরির সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এই নির্দেশনাকে স্বাগত জানিয়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। তাদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ক্যামেরায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী মোটরসাইকেল শনাক্ত করতে সামনের নম্বর প্লেট কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সবার পক্ষে প্লেট লাগানো সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

রাজধানীর মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ ও মেরামতের অন্যতম বড় বাজার মিরপুর ১০ নম্বরে গতকাল সরেজমিন দেখা যায়, নম্বর প্লেট লাগাতে শত শত মোটরসাইকেল অপেক্ষা করছে। বাজারের প্রায় সব দোকানেই চলছে প্লেট তৈরি ও সংযোজনের কাজ। বাড়তি চাহিদা সামলাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কর্মচারীরা।

মমতাজ প্লাজা মার্কেটের পারভেজ সিট কভারের স্বত্বাধিকারী পারভেজ হাওলাদার জানান, নতুন নির্দেশনার পর নম্বর প্লেট তৈরির কাজ বেড়েছে। স্টেইনলেস স্টিলের ওপর খোদাই করা প্লেটের দাম ৪০০ টাকা এবং ওয়াটারপ্রুফ প্রিন্টের প্লেটের দাম ৩০০ টাকা। সংযোজন খরচ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। মোটরসাইকেলে প্লেট লাগাতে ক্ল্যাম্প প্রয়োজন হলে মডেলভেদে এতে আরও ২০০ থেকে ৮০০ টাকা লাগে। সব মিলিয়ে একটি প্লেট তৈরি ও সংযোজনে ৭০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হচ্ছে।

পল্লবী থেকে প্লেট লাগাতে আসা সাদিকের মোটরসাইকেলে সামনে প্লেট বসানোর ব্যবস্থা না থাকায় ক্ল্যাম্প তৈরি করতে হয়েছে। এতে তার খরচ হয়েছে ৭৫০ টাকা। তার অভিযোগ, চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়েছেন। আগে যে প্লেট ২০০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন সেটির দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।

অন্য মালিকরাও বাড়তি খরচের কথা জানিয়েছেন। তাদের মতে, অল্প সময়ে প্রায় ৫০ লাখ মোটরসাইকেলে প্লেট লাগানোর নির্দেশ ব্যবসায়ীদের বাড়তি মুনাফার সুযোগ তৈরি করেছে। এ জন্য তারা সময়সীমা বাড়ানোর দাবি জানান। তবে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন তারা।

বাজার ঘুরে তিন ধরনের নম্বর প্লেটের ব্যবহার দেখা গেছে। স্টেইনলেস স্টিলের প্লেট তৈরি ও সংযোজনে খরচ হচ্ছে ৭০০ থেকে এক হাজার টাকা। অ্যালুমিনিয়ামের প্লেটে ব্যয় ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা। আর অ্যাক্রিলিক শিট বা প্লাস্টিকের প্লেটে খরচ হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা। তবে বিআরটিএর নির্দেশনায় স্টেইনলেস স্টিল বা অ্যালুমিনিয়ামের প্লেট ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

দেশে আমদানি ও সংযোজন করা অনেক মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট বসানোর নির্দিষ্ট জায়গা নেই। ফলে প্লেট লাগাতে ক্ল্যাম্প তৈরি বা মোটরসাইকেলের কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। এতে বাড়তি অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়ছেন মালিকরা।

এ সমস্যা সমাধানে মোটরসাইকেল বিক্রেতা ও সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও উদ্যোগ নিচ্ছে। মিরপুর ৬০ ফুট এলাকার হোন্ডা ব্র্যান্ডের শোরুম বাইক ভ্যালির জ্যেষ্ঠ বিক্রয়কর্মী শুভ জানান, হোন্ডার বিভিন্ন মডেলের জন্য নম্বর প্লেটের ক্ল্যাম্প তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি মডেলের ক্ল্যাম্প তৈরি হয়েছে। পূজার ছুটির কারণে অন্য মডেলগুলোর কাজ কিছুটা পিছিয়েছে। শিগগিরই সব মডেলের ক্ল্যাম্প পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তারা।

গত ১৫ জুন সংসদে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৪৯ লাখ ৯৭ হাজার ৯০টি।


প্রতিটি মোটরসাইকেলে প্লেট তৈরি ও সংযোজনে গড়ে ৭০০ টাকা খরচ ধরলে মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা। খরচ এক হাজার টাকা হলে তা প্রায় ৫০০ কোটি টাকায় পৌঁছাবে। অর্থাৎ নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়নের পুরো ব্যয় বহন করতে হবে মোটরসাইকেল মালিকদের।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আনিছুর রহমান সময়ের আলোকে বলেন, জনস্বার্থেই মোটরসাইকেলের সামনে নম্বর প্লেট লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মোটরসাইকেল ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়। এআই ক্যামেরায় এসব মোটরসাইকেল সহজে শনাক্ত করতে সামনের নম্বর প্লেট জরুরি।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব মোটরসাইকেলে প্লেট লাগানো সম্ভব হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান এখন প্লেট তৈরি করছে। তাই সময়মতো কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশা করেন। তবে বাস্তবতার কারণে কেউ সময়ের মধ্যে প্লেট লাগাতে না পারলে বিআরটিএকে সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হতে পারে। মালিকদের সাড়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি জানান, এ উদ্যোগে সবাই ভালো সাড়া দিচ্ছেন।

গত ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বিআরটিএ জানায়, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী মোটরসাইকেল সহজে শনাক্ত করতে সামনের অংশেও নিবন্ধন নম্বর-সংবলিত প্লেট লাগাতে হবে। আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে নির্ধারিত মাপ, রং ও উপকরণ অনুসরণ করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্লেট সংযোজন করতে হবে। নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুটারের সামনের নম্বর প্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২০০ মিলিমিটার ও প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার। স্কুটার ছাড়া অন্য মোটরসাইকেলের প্লেটের দৈর্ঘ্য ২৮৫ মিলিমিটার ও প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার। উভয় ধরনের প্লেটে অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার হতে হবে।

প্লেট তৈরিতে স্টেইনলেস স্টিল বা অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করতে হবে। পটভূমি সাদা এবং অক্ষর ও সংখ্যা কালো রঙের হতে হবে। ব্যবহার করতে হবে বাংলা অক্ষর ও সংখ্যা। প্লেটে কোনো শোভাবর্ধক উপাদান বা নকশা রাখা যাবে না।


সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে
  বিষয়:   বাইকচালক  পকেট  যাবে  নম্বর প্লেট 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: