প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৯ পিএম
সংগৃহীত ছবিমেট্রোরেলে শাহবাগ থেকে উত্তরা ফেরার পথে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে এক শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। শেওড়াপাড়া স্টেশনের কাছাকাছি এ ঘটনা ঘটে। মৃত ওই ব্যক্তির নাম ড. মুহম্মদ নাজিবুর রহমান। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। মৃত্যুর আগে শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করে পাশে থাকা যাত্রীদের কাছে বসার জন্য জায়গা চেয়েছিলেন তিনি। তবে কেউ তাকে বসার সুযোগ দেননি বলে অভিযোগ করেছেন তার ছেলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য নাকিবুর রহমান।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে বাবার মৃত্যুর বিষয়টি তুলে ধরেন এই এনসিপি নেতা।
একই সঙ্গে চলাফেরার সময় বয়স্ক ও প্রবীণ নাগরিকদের প্রতি সহানুভূতিশীল ও বন্ধুসুলভ আচরণের আহ্বান জানান।
পোস্টে তিনি লেখেন, আপনি আজকে যাকে ইগনোর করলেন, সে আপনার বাবা না হলেও, অন্য কারও বাবা।
ফেসবুক পোস্টে নাকিবুর রহমান লেখেন, ২৪ অক্টোবর দুপুরে মেট্রোরেলে শাহবাগ থেকে উত্তরা ফেরার পথে তার বাবা স্ট্রোক করে মারা যান। শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করায় তিনি আশপাশের লোকজনের কাছে বসার সুযোগ চেয়েছিলেন। কিন্তু কেউ তাকে জায়গা ছেড়ে দেননি। পরে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় স্ট্রোক করে নিচে পড়ে যান তিনি।
বাবার মৃত্যুর কথা উল্লেখ করে নাকিবুর লেখেন, আল্লাহ তার বাবার মৃত্যুকে সহজ করে নিয়ে গেছেন। তবে সন্তান হিসেবে বিষয়টি মেনে নেওয়া তার জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। এ ঘটনায় কারও প্রতি রাগ বা অভিমান নেই বলেও জানান তিনি।
একই সঙ্গে মেট্রোরেলে যাতায়াতের নিয়ম বা ঘটনাটি নিয়ে কাউকে দোষারোপ করে মন্তব্য না করার অনুরোধ জানান তিনি। চলাচলের সময় আশপাশের মানুষের স্বাচ্ছন্দ্য ও প্রয়োজনের বিষয়টি বিবেচনায় রাখার আহ্বান জানান। বাবার জন্য সবার কাছে দোয়াও চান তিনি।
নাকিবুর রহমানের ওই ফেসবুক পোস্ট ইতোমধ্যে চারশতাধিক নেটিজেন শেয়ার করেছেন। কমেন্টে তাকে সমবেদনা জানিয়েছেন অনেকে।
মেট্রোরেলে মারা যাওয়া ড. মুহাম্মদ নজীবুর রহমান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর। তার মৃত্যুতে এক শোকবার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
তিনি রাজধানীর উত্তরা ৫ নম্বর সেক্টরে বসবাস করতেন। তার গ্রামের বাড়ি বরিশালের গৌরনদী এলাকায়। জানাজা শেষে তাকে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
সময়ের আলো/কেএইচও