প্রকাশ: বুধবার, ৩ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০০ এএম (ভিজিট : ৪৮৬৫)
মেরাজের ইতিহাস বিশাল একটি অধ্যায়। মেরাজের রাতে নবীজি বিভিন্ন স্থানে নামাজ আদায় করে করেছিলেন। নবীজি (সা.) যখন বোরাকে আরোহণ করে যাচ্ছিলেন পথিমধ্যে অসংখ্য খেজুর বৃক্ষ চোখে পড়ল। তখন জিবরাইল (আ.) বললেন, এখানে অবতরণপূর্বক দুই রাকাত নামাজ আদায় করুন। সঙ্গে সঙ্গে নবীজি দুই রাকাত নামাজ পড়ে নিলেন। জিবরাইল (আ.) বললেন, আপনি কি জানেন কোন স্থান নামাজ পড়েছেন? নবীজি বললেন, না। জিবরাইল বললেন, মদিনায় নামাজ পড়লেন, যেখানে আপনি হিজরত করবেন। অতপর পুনরায় যাত্রা শুরু করলেন। অপর এক স্থানে এসে জিবরাইল (আ.) আবার অবতরণপূর্বক নামাজ আদায় করতে বললেন। তখনই নবীজি নেমে নামাজ আদায় করলেন। জিবরাইল বললেন, এ জায়গার নাম সিনা উপত্যকা। এখানে ছিল একটি বৃক্ষ। এর নিকট মুসা (আ.) আল্লাহর সঙ্গে কথা বলছিলেন। আপনি সেই বৃক্ষের কাছেই নামাজ আদায় করলেন। আবার আরেকটি জায়গা অতিক্রমকালে জিবরাইল (আ.) নবীজিকে নামাজ আদায় করতে বললে, সেখানে নেমে নামাজ পড়ে নিলেন। জিবরাইল বললেন, আপনি মাদায়ানে নামাজ পড়লেন। এ জায়গায় ছিল শোয়াইব (আ.)-এর বাসস্থান। আবার যাত্রা শুরু করলেন। আরেক স্থানে পৌঁছে জিবরাইল (আ.) পুনরায় নামাজ পড়তে বললেন। তখনই নবীজি নামাজ আদায় করে নিলেন। জিবরাইল বললেন, এটা বায়তুল লাহাম, যেখানে ঈসা (আ.) জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
এভাবে মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসায় পৌঁছা পর্যন্ত অনেক নবী-রাসুল এবং বেহেশত-দোজখের ঘটনাবলি নবীজি (সা.) প্রত্যক্ষ করেছিলেন। নবীজি (সা.) ও জিবরাইল (আ.) মসজিদে হারাম থেকে দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে বায়তুল মুকাদ্দাসে পৌঁছেন। অবশেষে নবী করিম (সা.) বায়তুল মুকাদ্দাসে পৌঁছে বোরাক থেকে নামলেন। অতঃপর তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসে প্রবেশ করে দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদের নামাজ পড়লেন। নবী করিম (সা.)-এর শুভাগমন উপলক্ষে অন্য নবীগণ সেখানে প্রতীক্ষিত ছিলেন। তন্মধ্যে ইবরাহিম (আ.), মুসা (আ.) ও ঈসা (আ.)ও উপস্থিত ছিলেন।
মুয়াজ্জিন আজান শেষে ইকামত দিতে লাগলেন। তখনই জিবরাইল (আ.) নবী করিমকে (সা.) হাতে ধরে সামনে ঠেলে দিলেন। নবীজি সেই জামাতের ইমামতি করলেন। নামাজ শেষে জিবরাইল নবীজিকে লক্ষ্য করে বললেন, আপনার ইমামতিতে কারা নামাজ পড়েছেন? নবীজি বললেন, আমি জানি না। জিবরাইল বললেন, প্রেরিত সমুদয় আম্বিয়াগণ এবং সপ্ত আকাশের সম্মানিত ফেরেশতাগণ আপনার পেছনে নামাজ আদায় করেছেন। আর এভাবেই সমস্ত নবীগণের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা অর্জন করলেন শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। (খাসায়েসুল কুবরা : ১/১৫৩; জুরকানি : ৬/৫; সিরাতে মুস্তফা : ১/২৯০)
লেখক : শিক্ষক, নাজিরহাট বড় মাদ্রাসা, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম