প্রকাশ: বুধবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০০ এএম
এই পৃথিবী ও বিশ্বজগতের সৃষ্টিকর্তা শুধু একজন। তিনি এক ও অদ্বিতীয়। তিনি সবচেয়ে বড়। সবচেয়ে ক্ষমতাবান। তিনি ছাড়া আর কোনো স্রষ্টা নেই। তার হুকুমেই সব কিছু হয়। একটি শিশির বিন্দুও তার হুকুমের বাইরে নয়। তার বড়ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব তার সৃষ্টিতেই বিদ্যমান। শুকনো মাটি। তার মধ্যে বীজ বপন করা হয়। অতঃপর পানি বর্ষণ। শুকনো মাটিতে গাছ বেড়ে ওঠে। কতক ফল দেয়। কতক ফুল দেয়। ফল আমাদের পুষ্টির যোগান দেয়। ফুল শোভা বৃদ্ধি করে। মনকে প্রশান্তি দেয়। সৃষ্টিকর্তার এই যে নিপুণ সৃষ্টি। এসব নিয়ে আমরা কখনও ভেবে দেখেছি কি? সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি নিয়ে গবেষণা করা উত্তম। ঈমান বৃদ্ধিতে সহায়ক। আল্লাহ নিজেই তার সৃষ্টি নিয়ে বলেনÑ ‘আমি জমিনের ওপর বৃষ্টি বর্ষণ করি। তখন তা আলোড়িত হয়, স্ফীত হয় ও সর্বপ্রকার চোখ জুড়ানো উদ্ভিদ উৎপন্ন করে।’ (সুরা হজ : আয়াত ৫)
আল্লাহর সৃষ্টি প্রত্যেকটি উদ্ভিদ স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। কোনোটার সঙ্গে কোনোটার মিল নেই। দেখতে যেমন ভিন্ন ভিন্ন, তেমনি ফলের স্বাদও ভিন্ন। আল্লাহর সৃষ্টি নিখুঁত। কোথাও চুল পরিমাণ খুঁত নেই। অসামজ্ঞস্যতা নেই। তিনি সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন এবং বলেছেন, ‘তুমি করুণাময় আল্লাহর সৃষ্টিতে কোনো অসামজ্ঞস্য দেখতে পাবে না। বারবার দৃষ্টি ফেরাও কোনো খুঁত দেখতে পাও কি? তুমি বারবার তাকিয়ে দেখ। তোমার দৃষ্টি ব্যর্থ ও পরিশ্রান্ত হয়ে তোমার নিজের দিকেই ফিরে আসবে।’ (সুরা মুলক : ৩-৪)
মানুষের কথাই ধরা যাক। কীভাবে সে এই ধরায় এলো। কে তাকে আনলেন। হাত-পা, চোখ, কান, নাক সব অঙ্গ দিলেন। সুন্দর একটি অবয়ব দান করলেন। আল্লাহ বলেন, ‘মানুষ কি দেখে না, আমি তাকে সৃষ্টি করেছি বীর্য থেকে? অথচ সে এখন বাগাড়ম্বর করে।’ (সুরা ইয়াসিন : ৭৭-৭৯)। সামান্য এক ফোঁটা নাপাক পানি দিয়ে যে মানুষের সৃষ্টি সে কীভাবে তার সৃষ্টিকর্তাকে ভুলে যায়? আল্লাহ এটা জানতেন। মানুষের মধ্যে একদল সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টিকে অস্বীকার করবে। তাই কোরআনে একাধিক আয়াতে আল্লাহ মানব সৃষ্টি রহস্য বলে দিয়েছেন। যাতে মানুষ তার প্রভুকে ভুলে না যায়। আল্লাহ বলেন, ‘আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি তবুও কেন তোমরা সত্যতা স্বীকার কর না। তবে কি তোমরা ভেবে দেখেছ, তোমরা যে বীর্যপাত করছ সে সম্পর্কে? ওটা তোমরা সৃষ্টি কর, নাকি আমি সৃষ্টি করি? আমি তোমাদের মৃত্যু নির্ধারিত করেছি আর আমি অক্ষম নই যে, আমি তোমাদের আকৃতি পরিবর্তন করব এবং তোমাদের সৃষ্টি করব এমন আকৃতিতে যা তোমরা জান না এবং তোমরা নিশ্চিতভাবে প্রথমবার সৃষ্টি সম্পর্কে জেনেছ তাহলে কেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর না? (সুরা ওয়াকেয়া : ৫৭-৬২)