ইতেকাফের ঐতিহাসিকগুরুত্ব ও তাৎপর্য

ড. মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ

ইসলামের আলো

ইতেকাফ আরবি শব্দ। আভিধানিক অর্থ অবস্থান করা, আবদ্ধ রাখা ইত্যাদি। শরিয়তের পরিভাষায় আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় কোনো মুসলিমের নির্দিষ্ট নিয়ম

2019-05-24T00:00:00+00:00
2019-05-24T00:00:00+00:00
 
  রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬,
১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
ইসলামের আলো
ইতেকাফের ঐতিহাসিকগুরুত্ব ও তাৎপর্য
ড. মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ মে, ২০১৯, ১২:০০ এএম 
ইতেকাফ আরবি শব্দ। আভিধানিক অর্থ অবস্থান করা, আবদ্ধ রাখা ইত্যাদি। শরিয়তের পরিভাষায় আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় কোনো মুসলিমের নির্দিষ্ট নিয়ম কানুন মেনে মসজিদে অবস্থান করাকে বোঝায়। এটি সুন্নতে মুয়াক্কাদা অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিয়মিত পালনীয় সুন্নতগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো এটি। সাধারণত রমজান মাসে ইতেকাফ করা হলেও বছরের যেকোনো সময় এটি পালন করা যায়। যেকোনো মুসলিম ইতেকাফের নিয়তে মসজিদে প্রবেশ করলে ওই ব্যক্তি যতক্ষণ মসজিদে থাকবেন ততক্ষণ তার আমল নামায় সওয়াব লেখা হবে। উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের পূর্ব পর্যন্ত প্রত্যেক রমজানের শেষ দশকে ইতেকাফ করতেন। তারপর তার স্ত্রীগণও ইতেকাফ পালন করতেন।’ (বুখারি : হাদিস ২৭১)
যদিও আমাদের মাঝে এ কথা বেশি প্রসিদ্ধ যে, এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আমল এবং রোজা ফরজ হওয়ার পর থেকে রমজান মাসের শেষ দশ দিন তিনি প্রত্যেক বছর ইতেকাফ করতেন। কিন্তু কোরআনের বর্ণনায় রাসুল (সা.)-এর পূর্বেও ইতেকাফ করার ব্যাপারে ইঙ্গিত রয়েছে। যে বিষয়টি এ গুরুত্বপূর্ণ আমলকে আরও বেশি তাৎপর্য ও কার্যকরী করে। আল্লাহ বলেন, ‘আমি ইবরাহিম ও ইসমাঈলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, ইতেকাফকারী ও রুকু-সেজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখ।’ (সুরা বাকারা : ১২৫)
এ আয়াতে কাবাকে পবিত্র রাখার উদ্দেশ্য বর্ণনায় ইতেকাফকারী অর্থাৎ এখানে অবস্থানকারীদের কথা উল্লেখ করার মাধ্যমে এ কথা প্রমাণিত হয় যে, ইতেকাফ বা মসজিদে অবস্থান করার ঐতিহাসিক ভিত্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পালনীয় আমলে শুধু নয় তার পূর্ববর্তীরাও এটি পালন করতেন। তবে, রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশকে নিয়মিত যে ইতেকাফ পালন করতেন বলে আমরা আয়েশা (রা.)সহ বিভিন্ন রাবির বর্ণনা থেকে জানতে পারি, সে রকম নির্দিষ্টভাবে অন্য কোনো নবী-রাসুল এবং তাদের উম্মত পালন করেছিল কি নাÑ তা সত্যাসত্যভাবে জানা যায়নি।
রাসুলুল্লাহ (সা.) শুধু নিজে ইতেকাফ করেননি বরং অন্যদেরকেও, মুসলিম নারী ও পুরুষ উভয়কেই এটি পালন করার ব্যাপারে তাগিদ দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একদিন ইতেকাফ করে আল্লাহ তার এবং জাহান্নামের মাঝখাতে তিন খন্দক পরিমাণ দূরত্ব সৃষ্টি করে দেন। আর এক খন্দকের দূরত্ব জমিন ও আসমানের দূরত্বের সমান। (আত তারগিব ওয়া আত তাহরিব : পৃ. ৯৬)
আমরা হাদিসে রাসুল (সা.) থেকে এটিও জানতে পারি যে, তার (সা.) রমজানের শেষ দশদিন ইতেকাফ থাকার অন্যতম কারণ ছিল মহিমান্বিত ‘লাইলাতুল কদর’ রাতকে পাওয়া। যে রাতটি হাজার মাসের চেয়েও উত্তম হিসেবে বিবেচিত বলে কোরআনে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে সবাই ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, লাইলাতুল কদর রমজান মাসের শেষ দশরাতের যেকোনো একটি বেজোড় রাত। সুতরাং যে ব্যক্তি রমজানের শেষ দশদিন ইতেকাফে থাকবেন তার জন্যে ‘লাইলতুল কদর’ বা ‘ভাগ্য রজনী’ পাওয়া নিশ্চিত হয়ে যায়।
আল্লাহ সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে দুনিয়ার সব কাজ কর্ম, চিন্তা-চেতনা থেকে নিজেকে মুক্ত রেখে মসজিদে অবস্থান করার মধ্য দিয়ে ব্যক্তির যে সাধনা প্রকাশ পায় তা তাকে তার চ‚ড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে। একজন মুমিনের চ‚ড়ান্ত লক্ষ্য হলো জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাতে প্রবেশ করা। ইতেকাফ সেই চ‚ড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছানোর অন্যতম একটি মাধ্যম। সুতরাং আমাদের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার উচিত ইতেকাফ পালন করা। সে ক্ষেত্রে পুরুষদের জন্য মসজিদে ইতেকাফ করা যেমন শর্ত তেমনি নারীরা মসজিদ কিংবা নিজ বাসার নির্দিষ্ট, পবিত্র, নিরিবলি এমন জায়গায় করবেন যেখানে সে নিজেকে দুনিয়াবী সব কিছু থেকে মুক্ত রেখে ইবাদতে মশগুল থাকতে পারবেন।

লেখক : পিএইচডি, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, মালয়েশিয়া


ইতেকাফ : কেন করব, কীভাবে করব

Loading...
Loading...
ইসলামের আলো- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: