বুয়েটে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নির্মম নির্যাতনে নিহত বুয়েটের ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র আবরার ফাহাদের গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। ছেলের মৃত্যুর খবরে মা ছালেহা খাতুন বারবার মুর্ছা যাচ্ছে। এমন হত্যাকাণ্ড মেনে নিতে পারছে না পরিবারের সদস্যসহ প্রতিবেশীরা। চোখের পানিতে এখন তারা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাইছেন। এলাকাবাসী এবং আবরারের পরিবারের দাবি, স্কুলজীবন থেকেই সে মেধাবী, কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামের ব্র্যাকের সাবেক কর্মকর্তা বরকতউল্লাহর দুই ছেলের মধ্যে বড় আবরার ফাহাদ, ছোট থেকেই মেধাবী হওয়ায় মা-বাবার স্বপ্ন ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ার বানানো। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। লাশ হয়ে ফিরে আসছে মায়ের কোলে। ছেলেকে রোববার বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় নিজ হাতে খাওয়ায়ে বিদায় জানান মা, সেই ছেলের মৃত্যুর খবর কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি। তাই বারবার মুর্”ছা যাচ্ছেন এবং বিলাপ করছেন।
আবরার ফাহাদের ছোটভাই আবরার ফাইয়াজ জানান, কি কারণে এই হত্যাকাণ্ড সেটাও ধারণা করতে পারছে না তার পরিবারের লোকজন। আজ সকাল ১০টায় আবরারের পিতা বরকতউল্লাহর কাছে ফোন করেন ফাহাদের এক রুমমেট। প্রথমে ফোন করে অসুস্থতার কথা জানালেও কিছুক্ষণ পরে ফোন দিয়ে আবরার ফাহাদের মৃত্যুর খবর দেয় সে। প্রতিবেশীরা জানান, আবরার অত্যন্ত শান্ত প্রকৃতির ছেলে ছিল, পড়াশোনা ছাড়া অন্য কিছুর সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না, তারপরেও এমন মৃত্যুতে বিক্ষুব্ধ প্রতিবেশীরা।