দোয়ার আদব ও শর্ত

মাওলানা আব্দুর রহমান

ইসলামের আলো

দোয়া আল্লাহর কাছে অত্যন্ত পছন্দনীয় একটি আমল। কোরআনে আল্লাহ বিভিন্ন স্থানে দোয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন। নবীজি (সা.) বলেছেন, দোয়া ইবাদতের

2020-01-07T00:00:00+00:00
2020-01-07T00:34:12+00:00
 
  সোমবার, ৮ জুন ২০২৬,
২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
ইসলামের আলো
দোয়ার আদব ও শর্ত
মাওলানা আব্দুর রহমান
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম  আপডেট: ০৭.০১.২০২০ ১২:৩৪ এএম  (ভিজিট : ১৪৩৮)
দোয়া আল্লাহর কাছে অত্যন্ত পছন্দনীয় একটি আমল। কোরআনে আল্লাহ বিভিন্ন স্থানে দোয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন। নবীজি (সা.) বলেছেন, দোয়া ইবাদতের মগজস্বরূপ। তাই খুব বেশি বেশি দোয়া করা এবং দোয়া কবুল হওয়ার শর্ত ও আদবের প্রতি খেয়াল রাখা।

উপার্জন হালাল হওয়া : দোয়া কবুল হওয়ার জন্য পানাহার, পোশাক, বাসস্থান ইত্যাদি হালাল উপার্জন থেকে হওয়া। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি দীর্ঘ সফর করে এলোমেলো চুল ও ধূসর দেহ নিয়ে আসমানের দিকে দুই হাত তুলে বলতে থাকে হে আমার রব! হে আমার রব! অথচ তার পানাহার, পোশাক-পরিচ্ছদ সবই হারাম। তাহলে তার দোয়া কীভাবে কবুল হবে?’ (মুসলিম: ১০১৫)

অধৈর্য না হওয়া : বাহ্যিকভাবে কবুল হতে বিলম্ব হচ্ছে মনে হলে অধৈর্য না হওয়া। এ কথা না বলা যে, এত দোয়া করছি কিন্তু কবুল হচ্ছে না! নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের দোয়া কবুল হবে যদি না তোমরা তাড়াহুড়া কর। এবং এ কথা না বল যে, আমি দোয়া করলাম কিন্তু তা কবুল হলো না!’ (মুসলিম : ২৭৩৫)

জায়েজ জিনিস চাওয়া : অনেক সময় আল্লাহর কাছে বান্দা প্রার্থনা করে, কিন্তু প্রার্থিত বিষয় জায়েজ না নাজায়েজ সেদিকে লক্ষ করা হয় না। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলমান যখন কোনো দোয়া করে তখন আল্লাহ তায়ালা তাকে হয়তো তার কাক্সিক্ষত বস্তুটি দান করেন অথবা তার থেকে অনুরূপ অনিষ্টতা দূর করে দেন, যদি না সে কোনো গুনাহের জন্য অথবা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার দোয়া করে।’ (তিরমিজি : ৩৪৬৮; মুসনাদে আহমদ : ১১১৩৩)

পরিপূর্ণ বিশ্বাস রাখা : আল্লাহ তায়ালার প্রতি পরিপূর্ণ বিশ্বাস ও আস্থা রাখা যে, আল্লাহ অবশ্যই দোয়া কবুল করবেন। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা দোয়া কবুল হওয়ার বিশ্বাস নিয়ে দোয়া কর। জেনে রাখো, আল্লাহ তায়ালা অবহেলাকারী ও অমনোযোগী অন্তরের দোয়া কবুল করেন না।’ (বুখারি : ৬৩৩৯; মুসলিম : ২৬৭৮)

শুরুতে ও শেষে আল্লাহর প্রশংসা : দোয়ার শুরুতে ও শেষে আল্লাহ তায়ালার হামদ ও প্রশংসামূলক আয়াত বা হাদিস ইত্যাদি পাঠ করা। হজরত ফাজালা বিন উবায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘এক দিন রাসুল (সা.) বসা ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে নামাজ আদায় করল, এরপর দোয়া করল, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে মাফ করে দাও, তুমি আমাকে রহম কর। তখন রাসুল (সা.) বললেন, হে নামাজি! তুমি বেশ তাড়াহুড়া করে ফেলছ। তুমি নামাজ আদায় করে যখন বসবে তখন আগে আল্লাহর যথোপযুক্ত প্রশংসা করবে, আমার ওপর দরুদ পড়বে। এরপর আল্লাহর কাছে দোয়া করবে।’ (তিরমিজি : ৩৪৭৬)

আশপাশের লোকদের প্রতি খেয়াল : নিজে যেমন সবসময় নেক আমল করা, তেমনি আশপাশের লোকজনও নেক আমল করছে কি না সেদিকে খেয়াল রাখা। যদি এমন হয় যে, নিজে অনেক নেক আমলে কিন্তু আশপাশে অনেক পাপচারিতা দেখেও সৎ কাজের আদেশ করা হচ্ছে না, তখনও দোয়া কবুল না হওয়ার ভয় থাকে।

নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘হে লোক সকল! আল্লাহ তায়ালা তোমাদের বলেছেন, তোমরা সৎ কাজের আদেশ কর এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ কর এমন সময় আসার আগে, যখন তোমরা আমাকে ডাকবে কিন্তু আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব না। তোমরা আমার নিকট কিছু চাইবে কিন্তু আমি তা পূর্ণ করব না। তোমরা শত্রুর বিরুদ্ধে আমার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করবে কিন্তু আমি তোমাদের সাহায্য করব না।’ (ইবনে হিব্বান : ২৯০)





Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: