অনর্থক কথাবার্তা থেকে বেঁচে থাকা

মুফতি আমিরুল ইসলাম

ইসলামের আলো

মানুষের মুখ-ভাষা ও বাকশক্তি আল্লাহ তায়ালার বিশেষ দান। মুখ ও ভাষার সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিটি মানুষ সর্বসাধারণের মাঝে নিজেকে ভালোবাসার

2020-02-15T00:00:00+00:00
2020-02-15T00:09:13+00:00
 
  রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬,
৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
ইসলামের আলো
অনর্থক কথাবার্তা থেকে বেঁচে থাকা
মুফতি আমিরুল ইসলাম
প্রকাশ: শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম  আপডেট: ১৫.০২.২০২০ ১২:০৯ এএম  (ভিজিট : ১০৬২০)
মানুষের মুখ-ভাষা ও বাকশক্তি আল্লাহ তায়ালার বিশেষ দান। মুখ ও ভাষার সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিটি মানুষ সর্বসাধারণের মাঝে নিজেকে ভালোবাসার পাত্ররূপে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। সমাজে নিজের অবদান ও গ্রহণযোগ্যতা ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়। সত্য কথা ও সঠিক কাজের মাধ্যমে সমাজ ও পরিবেশের সেবা করতে পারে। আল্লাহর নৈকট্যশীল ও প্রিয়পাত্র হওয়ার, আল্লাহর গুণগান ও নবী করিম  (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম প্রেরণের তওফিক লাভ করে। জিকির ও তেলাওয়াত, ঈমান ও ইসলামের দিকে মানুষকে আহ্বান করার মাধ্যমে নিজেকে করতে পারে জান্নাতের উপযুক্ত।

আল্লাহ তায়ালা বাচনশক্তি ও ভাষার নেয়ামত দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর ব্যবহার বিধিও আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন। বলে দিয়েছেন, কীভাবে ও কোন কথা বললে মুখ ও ভাষার সঠিক ব্যবহার হবে। আর কীভাবে বললে হবে অন্যায় ব্যবহার। কোন কাজ করলে আল্লাহ খুশি হবেন আর কোন কাজ করলে আল্লাহ শাস্তি দেবেন। কথাবার্তা বলার বিধানের একটি হলো, অনর্থক ও বেহুদা কথা থেকে বেঁচে থাকা। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এ ব্যাপারে অসংখ্য বর্ণনা এসেছে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমার বান্দাদের বলে দাও, তারা যেন এমন কথাই বলে, যা উত্তম। নিশ্চয় শয়তান মানুষের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। নিশ্চয় শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ৫৩)। অন্য আয়াতে প্রকৃত মুমিনদের পরিচয় বর্ণিত হয়েছে ‘তারা অনর্থক কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকে।’ (সুরা মুমিনুন : ৩)। আয়াতে ‘অনর্থক’ (লাগউন) শব্দ উল্লেখ হয়েছে। অর্থাৎ যেসব কথা ও কাজে কোনো ধর্মীয় উপকারিতা নেই। অনর্থক কথাবার্তায় লিপ্ত হওয়া অনেক বড় গুনাহ। এতে ধর্মীয় উপকারের বিপরীতে ক্ষতি বিদ্যমান। এ থেকে বিরত থাকা কর্তব্য।

আরেক আয়াতে জান্নাতবাসী বান্দাদের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে এভাবে, ‘তারাই রহমানের বান্দা, যারা অন্যায় কাজে শামিল হয় না এবং যখন কোনো অনর্থক কার্যকলাপের নিকট দিয়ে যায়, তখন আত্মসম্মান বাঁচিয়ে যায়।’ (সুরা ফুরকান : ৭২)
আয়াতে ‘অনর্থক কাজ’ দ্বারা শরিয়তের দৃষ্টিকোণে যেকোনো মিথ্যা ও বাতিল কাজ বোঝানো হয়েছে। বিধর্মীদের উৎসব, মেলা, নির্লজ্জতা, নৃত্য ও সঙ্গীত অনুষ্ঠান, মদের আসর, প্রচলিত খেলাধুলা ইত্যাদি সবই বাতিল কাজের অন্তর্ভুক্ত।

অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তারা যখন কোনো অনর্থক কথা শোনে, তা এড়িয়ে যায় আর বলে আমাদের জন্য আমাদের কর্ম এবং তোমাদের জন্য তোমাদের কর্ম। তোমাদেরকে সালাম। আমরা অজ্ঞদের সঙ্গে জড়িত হতে চাই না।’ (সুরা কাসাস : ৫৫)
অন্যত্র ঘোষিত হয়েছে, ‘মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে, তার জন্য একজন প্রহরী নিযুক্ত আছে, যে (লেখার জন্য) সদাপ্রস্তুত।’ (সুরা কাফ : ১৮)

হাদিস শরিফে এসেছে, হজরত আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অনর্থক কাজ ও কথা থেকে বেঁচে থাকে, তার ইসলাম পূর্ণাঙ্গ ও সুন্দর।’ (ইবনে মাজাহ : ৩৯৭৬)। হজরত আবু জুহাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবাদের জিজ্ঞাসা করলেন, আল্লাহর নিকট কোন আমল সবচেয়ে পছন্দনীয় তোমরা কি জানো? সবাই চুপ থাকলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) উত্তর দিলেন, সবচেয়ে পছন্দনীয় আমল হলো নিজের জবানকে হেফাজত করা।’ (বায়হাকি : ৪/২৪৫)

অন্য স্থানে বর্ণিত হয়েছে, হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) নিজ পুত্র আব্দুর রহমানকে (রহ.) বললেন, হে পুত্র! আমি তোমাকে অসিয়ত করছি, আল্লাহকে ভয় কর। নিজের ঘরে অবস্থান কর। আর কোনো গুনাহ হয়ে গেলে অশ্রæ ফেলে আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি কর এবং নিজের জবানকে আয়ত্তে রাখ।’ (শুয়াবুল ঈমান : ৪৬৪৫)

হজরত আনাস (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘বান্দা যতক্ষণ পর্যন্ত নিজের মুখকে হেফাজত না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানের গভীরতায় পৌঁছতে পারবে না।’ (শুয়াবুল ঈমান : ৪৬৫১)

মূলত আল্লাহর ভয় অন্তর থেকে কমে যাওয়ার ফলে মানুষ অযথা কাজ ও অহেতুক কথা বলে পাপাচারে লিপ্ত হয়। ইসলামে নিষিদ্ধ যেকোনো কাজ ও কথাই অনর্থক বলে বিবেচিত। চারদিকে বেহুদা ও অনর্থক বিষয়ের ছড়াছড়ি। অথচ বাজে কাজে সময় অপচয় না করে; জিকির, কোরআন পাঠ, ভালো কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখার মতো ইবাদতের কত সুবর্ণ সুযোগ আমাদের রয়েছে। সময় অনেক দামি, তার চেয়ে দামি নেয়ামত আমাদের কথা বলার অঙ্গ ও ভাষা।

এই নেয়ামতসমূহের মূল্য দেওয়া উচিত। অনর্থক কাজ ও কথা পরিহার করে সময় ও জীবনকে সঠিকভাবে আল্লাহর ইবাদতে ব্যয় করাই হবে বুদ্ধি ও বিবেকের দাবি। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও শাস্তি থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনা অবশ্যই পালন করতে হবে। আল্লাহ সবাইকে তওফিক দান করুন।

লেখক : শিক্ষক, ইমাম আজম ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, হাসনাবাদ, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, ঢাকা



Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: