বাগদাদে ঐতিহাসিক ‘আবু হানিফা মসজিদ’

মোস্তফা কামাল গাজী

ইসলামের আলো

ইরাকের বাগদাদ। মুসলমানদের তীর্থস্থান। ঐতিহাসিক পুণ্যভ‚মি। এখানে জন্ম নিয়েছেন ক্ষণজন্মা অসংখ্য মুসলিম মনীষী। তাদের স্মৃতিবিজড়িত এই ভ‚মির পরতে পরতে ছড়িয়ে

2020-02-28T22:39:00+00:00
2020-02-28T16:37:52+00:00
 
  শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬,
৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
ইসলামের আলো
বাগদাদে ঐতিহাসিক ‘আবু হানিফা মসজিদ’
মোস্তফা কামাল গাজী
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১০:৩৯ পিএম  আপডেট: ২৮.০২.২০২০ ৪:৩৭ পিএম
ইরাকের বাগদাদ। মুসলমানদের তীর্থস্থান। ঐতিহাসিক পুণ্যভ‚মি। এখানে জন্ম নিয়েছেন ক্ষণজন্মা অসংখ্য মুসলিম মনীষী। তাদের স্মৃতিবিজড়িত এই ভ‚মির পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে মুসলমানদের হাজারো ঐতিহ্যের নিদর্শন। তাদের নামে নির্মিত হয়েছে অসংখ্য স্থাপনা। এমনই একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা হলো ‘আবু হানিফা মসজিদ’। হজরত আবু হানিফা (র.)-এর নামানুসারে এর নামকরণ। মসজিদটি বাগদাদে অবস্থিত সুন্নি মসজিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। মসজিদের পাশেই হজরত ইমাম আবু হানিফা (র.)-এর মাজার। তার মৃত্যু ও এই মাজার হওয়ার পেছনেও রয়েছে নির্মম এক ইতিহাস। আবু জাফর আল মনসুর তখন বাগদাদের খলিফা। তিনি হজরত আবু হানিফাকে (র.) প্রধান বিচারপতি হওয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু তিনি একজন জালেম শাসকের অধীনে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানান। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তার ওপর নেমে আসে অমানসিক নির্যাতন। গ্রেফতার করে প্রেরণ করা হয় কারাগারে। প্রতিদিন ১১০ বার চাবুক দ্বারা আঘাত করা হতো তাঁকে। ক্ষতবিক্ষত আর রক্তাক্ত করা হতো তাঁর দেহ। আল মনসুর তাকে এমন ফতোয়া জারি করার আদেশ দেন, যা খলিফার কর্তৃত্বকে আরও শক্তিশালী করবে। তার এ প্রস্তাবও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। এর ফলে তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।
দীর্ঘ একটা সময় কারাগারে বন্দি জীবন অতিবাহিত করার পর অসুস্থ হয়ে তিনি ১৫০ হিজরিতে বাগদাদে মৃত্যুবরণ করেন। অগণিত লোক তার জানাজায় শরিক হয়। পরে আসর পর্যন্ত আরও ছয়বার জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং আসরের নামাজের পর তার অয়াসিয়ত অনুযায়ী ‘খায়জরান’ কবরস্থানে দাফন করা হয়। আব্বাসীয় খলিফা বুয়াহিদের শাসনের সময় (৩৭৫ হিজরি) সামসাম আল দাউলার আদেশে হজরত আবু হানিফা (র.)-এর মাজারের পাশেই মধ্যম আয়তনের মসজিদটি নির্মাণ করা হয়।
ষাটের দশকে ইরাকের মামলুক সাম্রাজ্যের শাসনামলে সুলেমান পাশা মসজিদটি পুনঃসংস্কার করেন এবং মসজিদের ওপর একটি গম্বুজ নির্মাণ করেন। ১২১৭ সালে মসজিদের বেশ কিছু অংশ প্রায় ভেঙে পড়ে; যার কারণে মসজিদের স্থাপত্য শিল্পের অনেক কিছুই ধ্বংস হয়ে যায়। এরপর পুনরায় মসজিদটি সংস্কার করা হয়। সোনালি রঙের প্রলেপ দেওয়া হয় মসজিদের মিনারটিতে।
বাগদাদের বড় একটি রাস্তার পাশে মসজিদটি অবস্থিত। মসজিদের দুপাশে রয়েছে বিশালাকৃতির দুটো মিনার। একটি মিনারে বড় বড় দুটো ঘড়ি লাগানো আছে। নানা রঙের বাতি দ্বারা সজ্জিত পুরো মসজিদ। সন্ধ্যায় রঙ-বেরঙের আলোয় জ্বলজ্বল করে মসজিদের আঙিনা। মসজিদে প্রবেশ করতে হলে বিশাল এক গেটে আশ্রয় নিতে হয়। ভেতরে খোলা বেসমেন্ট। রয়েছে বিশাল বারান্দা। ভেতরে প্রবেশ করার সময় স্থানীয় পুলিশ প্রত্যেককে চেকিং করে নেয়। ভেতরটা বেশ ছিমছাম আর সুন্দর। মসজিদের একপাশে শুয়ে আছেন চার মাজহাবের প্রথম ইমাম হজরত আবু হানিফা (র.)। তার মাজারটি কাঠের প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। যে যার মতো এসে কবর জিয়ারত করে যায়।
মসজিদের সম্পূর্ণ আয়তন হলো ১০ হাজার মিটার। মসজিদে প্রায় পাঁচ হাজার লোক একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারে। শুক্রবারে প্রায় এক হাজার জন নামাজ আদায় করে। আর সপ্তাহের অন্যান্য দিনগুলোতে ২০০-২৫০ জন মুসল্লি নিয়মিতভাবে নামাজ আদায় করে থাকে।

Loading...
Loading...
ইসলামের আলো- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: