রাজাপুরের ঐতিহ্যবাহী খানবাড়ি মসজিদ

ইসলামের আলো

ঝালকাঠি সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে রাজাপুর উপজেলার আঙ্গারিয়া গ্রামে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী খানবাড়ি জামে মসজিদ। যেখানে মূল মসজিদের দুপাশে

2020-04-17T00:00:00+00:00
2020-04-17T00:00:00+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬,
১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
ইসলামের আলো
রাজাপুরের ঐতিহ্যবাহী খানবাড়ি মসজিদ
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২০, ১২:০০ এএম 
ঝালকাঠি সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে রাজাপুর উপজেলার আঙ্গারিয়া গ্রামে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী খানবাড়ি জামে মসজিদ। যেখানে মূল মসজিদের দুপাশে রয়েছে মসজিদের মতোই কারুকাজ করা দুটি ঘর। এক সাড়িতেই ৩টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। মধ্যের এক গম্বুজ বিশিষ্ট বড় ঘরটিতে বর্তমানে নামাজ আদায় করে থাকেন মুসল্লিরা। যেখানে ৩ কাতারে ২১ জন মানুষ নামাজ আদায় করতে পারেন। ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছেÑ প্রচণ্ড গরমেও মসজিদের ভেতরটা থাকে প্রশান্তিদায়ক শীতল। জুমা ও রমজানের তারাবি নামাজে বেশ লোক হওয়ায় মুসল্লিদের জন্য মসজিদের সামনে ব্যবস্থা করা হয়।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, আনুমানিক ১৮ শতকের প্রথমার্ধ্বে আসর খাঁ ও কিশোর খাঁ ইসলাম প্রচারের জন্য ঝালকাঠির রাজাপুরে আগমন করেন। পরে কিশোর খাঁ এক গম্বুজ বিশিষ্ট তিনটি মসজিদ নির্মাণ করেন। খানবাড়ি মসজিদ কমপ্লেক্সটিতে ক্রমানুসারে দক্ষিণ দিক থেকে উত্তর দিক পর্যন্ত রয়েছে ছোট থেকে বড় আকারের তিনটি পাকা ঘর (মসজিদ)। যার প্রত্যেকটি একটি করে গম্বুজ ও প্রতিটি ঘরের চারকোনে ৪টি মিনার। গম্বুজ ও মিনারের ওপরে রয়েছে অলঙ্কৃত শীর্ষচূড়া। এ ছাড়াও মসজিদগুলোর বাহিরের দেওয়াল জুড়ে বিভিন্ন নকশা সজ্জিত করা রয়েছে। প্রতিটি মসজিদ ঘরের দেওয়ালের পূর্বে একটি করে প্রবেশপথ রয়েছে। যার প্রত্যেকটি প্রবেশপথে তিন ধাপের সিঁড়ি রয়েছে। অর্ধবৃত্তাকার খিলানযুক্ত এ প্রবেশপথগুলোর বাহির দেওয়ালেও অলঙ্করণ রয়েছে। এদিকে বড় মসজিদ ঘরটির উত্তর ও দক্ষিণ দিকে অধর্বৃত্তাকার খিলানযুক্ত দুটি জানালার মতো অংশ রয়েছে। পশ্চিমদিকে তিনটি ও বাকি দেওয়ালগুলোতে ছোট আকারের ছোট ৬টি মিহরাব রয়েছে। এ ছাড়া মসজিদের পাশেই রয়েছে একটি কবরস্থান। আর পূর্ব দিকে প্রাচীন আমলের ঘাট বাঁধানো পুকুর।
মসজিদের ইমাম হাফেজ মো. নোমান খান দৈনিক সময়ের আলোকে বলেন, খানবাড়ি জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে একই আদলে নির্মিত তিনটি মসজিদ। প্রতিষ্ঠার পর বড় মসজিদটিতে নিয়মিত সবাই মিলে  নামাজ আদায় করতেন। আর একই রকম দেখতে ছোট অপর দুটি মসজিদে ঈমামসহ বুজুর্গ ব্যক্তিরা বিশেষ ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকতেন। যদিও মাঝারি ও ছোট আকারের মসজিদ দুটি এখন ব্যবহার করা হয় না।
মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি মঈনুল ইসলাম বলেন, ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদটি দেখতে অনেকই আসেন। অনেকে এখানে নামাজ আদায়ও করেন। তবে সবেচেয়ে ভালো দিক, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে এ মসজিদের ভেতরটা শীতলই থাকে। তিনি আরও বলেন, এখানে একই রকম দেখতে যে তিনটি মসজিদের ঘর রয়েছে এর একেকটির আলাদা নাম রয়েছে। মসজিদ তিনটির নম যথাক্রমে ‘আল্লাহ’, ‘মুহাম্মদ’ ও ‘ফাতেমা’। তবে দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে মসজিদটির ঘরগুলোর প্রত্যেকটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর থেকে একবার এসে পরিদর্শন করে গেলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
ষ মো. আতিকুর রহমান ঝালকাঠি

Loading...
Loading...
ইসলামের আলো- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: