প্রতিবছর ১২ রবিউল আউয়াল চট্টগ্রামে ঈদ-এ মিলাদুন্নবী (সা.)-এর জশনে জুলুস পালন করা হয় আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায়। আগামীকাল রোববার অনুষ্ঠিত হবে ৫০তম জুলুস। সকাল ৮টায় নগরীর ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা থেকে শুরু হবে এই জুলুস।
আর এই জশনে জুলুস পর্যবেক্ষণে আসছে গিনেজ বুক অফ ওয়াল্ড রেকর্ডের ম্যানেজমেন্ট টিম। গিনেজ বুক ওয়ার্ল্ডে এই জশনে জুলুসকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জুলুস হিসেবে রেকর্ডের আবেদনের প্রেক্ষিতে গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের ম্যানেজমেন্ট টিম চট্টগ্রামে আসছে।
শনিবার (৮ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।
তিনি বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জন্মদিন তথা ঈদ-এ মিলাদুন্নবী উপলক্ষে পৃথিবীতে যত জুলুস আয়োজিত হয়, তার মধ্যে চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আয়োজিত হওয়া জুলুসটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় জুলুস। এবারের জুলুসেও বিগত বছরের চেয়ে লোক সমাগম বেশি হবে।
এ সময় কারও হাতে পতাকা, কারও মাথায় থাকবে বিশেষায়িত টুপি। তাদের বেশির ভাগই পরে আসবেন পাঞ্জাবি-পায়জামা। ইয়া নবি সালাম আলাইকা স্লোগানে দলবেঁধে এদের কেউ আসবেন পায়ে হেঁটে, আবার কেউ ট্রাকযোগে। সবার গন্তব্য হবে নগরের ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা।
তবে এবারের জুলুস শুরু আগে চট্টগ্রামে আয়োজিত জশনে জুলুসকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জুলুস হিসেবে রেকর্ড বইয়ে নাম তুলতে গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছে জুলুস আয়োজনকারী সংস্থা আনজুমান-এর রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট।
এ বছর লোক সমাগম বেশি হতে পারার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এবারের জুলুসে নেতৃত্ব দেবেন আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ। শুক্রবার রাতেই তিনি চট্টগ্রামে এসে পৌছেছেন। জুলুসে ভক্তরা ওনাকে দেখতে আসবেন। একইসঙ্গে জুলুসে আরও অংশ নেবেন আল্লামা পীর সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ ও আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ। তিন হুজুরের কারণে এবার জুলুসে অন্তত অর্ধকোটি মানুষের অংশগ্রহণ হবে বলে মনে করছি।
সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, জুলুসের অর্ধশত বর্ষকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে বাড়তি আয়োজন। গত এক মাস আগে থেকেই জুলুস সুষ্ঠুভাবে শেষ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি নিরাপত্তার জন্য আনজুমানের নিজস্ব সিকিউরিটি ফোর্স ও গাউসিয়া কমিটির অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবক কাজ করবে।
তিনি বলেন, রোববার (৯ অক্টোবর) সকাল ৮টায় নগরের ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা সংলগ্ন আলমগীর খানকাহ-এ কাদেরিয়া সৈয়দিয়া তৈয়্যবিয়া থেকে এ জুলুস শুরু হবে। জুলুস শুরুর পর বিবির হাট থেকে মুরাদপুর হয়ে মির্জারপুল, কাতালগঞ্জ হয়ে অলিখাঁ মসজিদ চকবাজার, কেয়ারি মোড়, প্যারেড ময়দানের পশ্চিম পাশ হয়ে চট্টগ্রাম কলেজ, গণি বেকারি (ডানে মোড়), খাস্তগীর স্কুল (ডানে মোড়), শহীদ সাইফুদ্দিন খালেদ রোড হয়ে আসকার দিঘী, কাজীর দেউরি (বামে মোড়), আলমাস (বামে মোড়), ওয়াসা (ডানে মোড়), জিইসি, দুই নম্বর গেট হয়ে পুনরায় মুরাদপুর (ডানে মোড়) গিয়ে বিবিরহাট জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা সংলগ্ন জুলুস ময়দানে দুপুর ১২টায় মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। একই ময়দানে জোহরের নামাজ এবং নামাজ শেষে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালে চট্টগ্রামে বলুয়ারদিঘী খানকা-এ কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া থেকে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম জুলুসটি বের করে আঞ্জুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট। ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত এ জুলুসে নেতৃত্ব দেন পাকিস্তানের ছিরিকোট দরবার শরীফের পীর সৈয়দ মোহাম্মদ তৈয়ব শাহ (রা.)। ১৯৭৬ সালের পর থেকেই ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ১২ রবিউল আওয়াল চট্টগ্রামের জুলুসের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে, যা ক্রমান্বয়ে দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান, দরবার, সংগঠন ও সংস্থাগুলোও আয়োজন করতে শুরু করে। সৈয়দ মোহাম্মদ তৈয়ব শাহের পর ১৯৮৬ সালের পর থেকে তার সন্তান সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ এ জুলুসে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।
/জেডও