ড. মুহাম্মদ আকরাম নদভী। ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই আলেম যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ ইসলামিক কলেজের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইসলামিক স্টাডিজের গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন। ইউরোপে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘আস-সালাম ইনস্টিটিউট’।
‘আল ওয়াফা বি আসমাইন নিসা’ নামে নারী মুহাদ্দিসদের জীবনীসংক্রান্ত ৪৩ খণ্ডের বিশাল গ্রন্থ রচনা করে বিশ্বব্যাপী আলোচনায় আসেন তিনি। বিশ্বখ্যাত এই ইসলামিক স্কলার সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেছেন। কর্মব্যস্ত রুটিনের ফাঁকে সময়ের আলোর সঙ্গে নানা বিষয়ে দীর্ঘ আলাপ করেছেন। সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও গ্রন্থনা করেছেন আমিন ইকবাল, আশরাফ আলম কাসেমী নদভী ও আরিফ খান সাদ
সময়ের আলো : শুরুতেই আপনার জন্ম ও পড়াশোনা সম্পর্কে জানতে চাই।
ড. আকরাম নদভী : আমার জন্ম ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে; ভারতের উত্তর প্রদেশে জৌনপুর জেলায়। প্রাথমিক পড়াশোনা করি এলাকার মাদরাসায়। তারপর লখনৌয়ের দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় ছয় বছর পড়াশোনা করি। নদওয়া থেকে আলিমিয়াত (মাওলানা) কোর্স শেষ করি। উলুমুল হাদিসে তাখাসসুস করি। সেখানেই শিক্ষকতার পাশাপাশি লখনৌ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক এবং আরবি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করি। এ ছাড়া সৌদি আরবের কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সেও অংশগ্রহণ করি।
সময়ের আলো : ইউরোপে কীভাবে গেলেন?
ড. আকরাম নদভী : ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে মুফাক্কিরে ইসলাম সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.)-এর কাছে ইউরোপের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইসলামিক স্টাডিজে গবেষক চাওয়া হলে তিনি আমাকে সেখানে পাঠান। তার অনুরোধে আমি রিসার্চ ফেলো হিসেবে যোগদান করি এবং সেখানে ২৫ বছর কাজ করি। এরপর ক্যামব্রিজ ইসলামিক কলেজ প্রতিষ্ঠা করি। সেখানেই বর্তমানে ডিন হিসেবে কর্মরত। তা ছাড়া ‘আস-সালাম ইনস্টিটিউট’ নামে একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানও রয়েছে আমাদের।
সময়ের আলো : ইউরোপে ইসলাম চর্চা ও প্রচার প্রসারের কেমন সুযোগ আছে?
ড. আকরাম নদভী : সেখানে দ্বীনের অবস্থা খুবই ইতিবাচক। ইসলাম প্রচার-প্রসারের উর্বর পরিবেশ আছে। ইসলামিক স্কলার দাঈরা স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছেন। মুসলমানদের আখলাক ও চরিত্র-মাধুর্য দেখে হাজার হাজার মানুষ ইসলাম গ্রহণ করছেন। আমাদের সঙ্গে শুধু খাবার খেয়েও মানুষ ইসলাম সম্পর্কে আগ্রহী হয়েছে। একবার একজন আমাদের বিরিয়ানি খেয়ে, খাদ্যবিন্যাস ও খাবারের আমল দেখে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। অনেকে মুসলমানদের চালচলন, ওঠাবসা দেখে ইসলাম গ্রহণ করছেন। তর্ক-বিতর্কের আশ্রয় ছাড়াই ইসলাম প্রসার হচ্ছে। আসলে ব্যবহার ও চরিত্র মাধুর্য দিয়ে মানুষকে মুগ্ধ করা অনেক সহজ। আমাদের এই উপমাদেশে ধর্মীয় অঙ্গনে একটা বিতর্কের পরিবেশ চালু রয়েছে। এই জায়গা থেকে বের হয়ে দ্বীনের ভাষ্যকার হয়ে যাওয়া ভালো মনে করি। শত্রুর সঙ্গেও হৃদ্যতার সম্পর্ক স্থাপন করা। যেমনটা সাহাবিদের মধ্যে ছিল। হাসিমুখে কথা বলা, ইসলামের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা। এই কাজটি করলে ইউরোপসহ সব দেশেই ধর্মচর্চা করা সহজ। মনে রাখবেন, যার চরিত্র সুন্দর, তার কাছে মানুষ ভিড়ে এবং তার কথার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে।
সময়ের আলো : নারীদের জ্ঞানচর্চার বিষয়ে আপনি বেশ সোচ্চার। ইসলামে নারীদের কাজের ক্ষেত্র কতটা প্রশস্ত?
ড. আকরাম নদভী : আসলে মুসলিম নারীদের জ্ঞানচর্চা ও কাজের ক্ষেত্র সব যুগেই উৎকর্ষপূর্ণ ছিল। মুসলিম নারীরা তাদের জায়গায় ও ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। আল্লাহ তায়ালা কুরআনেও মুসলিম নারীদের সেখানেই উপস্থাপন করেছেন। সুরা আহজাবে মুমিন পুরুষ ও নারীকে পাশাপাশি বসিয়ে আল্লাহ সেদিকেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। আরও বিভিন্ন আয়াতে ‘নাহি আনিল মুনকার’ অর্থাৎ, সৎকাজে আদেশ করা, উত্তম নসিহত করা, ছেলে-মেয়ের তারবিয়াত করা-এসব ক্ষেত্রে মুসলিম নারীরা কোনো কালেই পিছিয়ে ছিল না। এ কাজের প্রয়োজনেই তালিম ছিল দেড় হাজার বছরের ধারাবাহিকতা। কিন্তু বিপরীত চিত্র দেখা যায় ইউরোপে। ইউরোপের নারীদের জ্ঞান-গবেষণায় অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল না। খোদ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়েও আটশ বছরের ইতিহাসে দেখা যায়, নারীদের পিছিয়ে রাখা হয়েছিল। নিকট অতীতে অল্প কিছুদিন আগে নারীদের পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে নারীরা পড়তে পারত না। তাদের কোনো অবস্থান ছিল না। ইসলাম সর্বযুগেই নারীদের সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছে, সুযোগ দিয়ে এসেছে জ্ঞান অর্জন ও প্রসারের।
সময়ের আলো : হাদিস বর্ণনাকারী ১৫ হাজার নারী মুহাদ্দিসের জীবনী সংক্রান্ত গ্রন্থ রচনার প্রেক্ষাপট কী?
ড. আকরাম নদভী : এ পর্যন্ত আমার ৭৫টি রচনা প্রকাশ হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘আল ওয়াফা বি-আসমাইন নিসা’, যা ৪৩ খণ্ডে প্রকাশ হয়েছে। এতে প্রায় ১৫ হাজার নারী মুহাদ্দিসের জীবন বৃত্তান্ত রয়েছে। এর রচনার প্রেক্ষাপট হচ্ছে, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইসলামিক স্টাডিজের রিসার্চ ফেলো হিসেবে যোগ দেওয়ার পর একদিন টাইম ম্যাগাজিনে ইসলাম নারীদের শিক্ষায় বাধা দেয় বলে একটি প্রবন্ধ পড়ে খুব আহত হই। সে প্রবন্ধে লেখক দাবি করেন, ইসলামে শিক্ষা ও জ্ঞান-গবেষণার ক্ষেত্রে নারীদের কোনো অবস্থান নেই। কেউ যদি পাঁচজন নারীকে দেখাতে পারে, যারা জ্ঞান অর্জন করেছে তাহলে তিনি তার বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন। আমি হাদিস বর্ণনাকারী অনেক নারীদের জীবনী সম্পর্কে অবগত ছিলাম। আমি তাদের জীবনী সংকলন শুরু করি। এত বড় মিথ্যাচার রোধে এক-দুই খণ্ডে তা শেষ করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু সৌদি, সিরিয়া, মরক্কো, ভারত ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে গিয়ে এ বিষয়ে অগণিত প্রাচীন পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে জানতে পারি। তাই ভাবলাম এ বিষয়ে আরও ব্যাপক পরিসরে কাজ করা জরুরি। ১৫ বছর লিখতে লিখতে দেখি ৪৩ খণ্ডের বিশাল ভলিউম হয়ে দাঁড়িয়েছে। আরবি ভাষায় লিখিত বিশাল কিতাবটি মুদ্রণ হয়েছে এবং সারা বিশে^ বিপুল সমাদৃত। আমার উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে আরও আছে ‘তারিখে নাদওয়াতুল উলামা’, ২ খণ্ডে প্রকাশ হয়েছে। ২৫ খণ্ডে সহিহ মুসলিমের ব্যাখ্যা প্রকাশ হবে কিছুদিনের মধ্যে। এতে ইমাম মুসলিমে বর্ণিত রিজালদের সনদ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। আরেকটা হলো আমি এক হাজারের অধিক শায়খ থেকে হাদিসের জ্ঞান অর্জন করেছি, তাদের বৃত্তান্ত। সেটাও হবে সাত খণ্ডে।
সময়ের আলো : আপনার ক্লাসে ফ্রি মিক্সিং লক্ষ করা যায়, এতে কি পর্দার খেলাফ হয় না?
ড. আকরাম নদভী : আসলে আমার ক্লাসগুলো সামগ্রিকভাবে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে। এখানে মুসলিম যুবকরা যেমন অংশগ্রহণ করে, তেমনি অমুসলিম যুবকরাও অংশগ্রহণ করে। মুসলিম নারীরাও আসে, অমুসলিম নারীরাও আসে। এমনকি অনেক ইহুদি-খ্রিস্টান ছেলেমেয়েও আসে। তারা তো আসলে পর্দার ‘মুকাল্লাফ’ না। তারা তাদের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। কিন্তু জ্ঞান-গবেষণায় একজন ছাত্র বা ছাত্রী হিসেবে আমার ক্লাসেও আসতে পারে, বসতে পারে। এতে কোনো প্রকার বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই। তারা তাদের বেশভূষা ও অবস্থান অনুযায়ী অংশগ্রহণ করে। আর আমাদের ক্লাসে আসার-বসার সুযোগ পেয়ে অনেকেই আমাদের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে, ইসলামের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে। ইসলামের ভালো ও সুন্দর বার্তার সঙ্গে তারা পরিচিত হচ্ছে। অনেক সময় মুসলিম নারীদের মধ্যে যারা মুক্তচিন্তায় অভ্যস্ত, তারাও প্রাথমিকভাবে পর্দা করা ছাড়াই ক্লাসে অংশগ্রহণ করে। পরে ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে পরিবর্তন আসে, তারা ইসলামের মূল প্র্যাক্টিসের সঙ্গে যুক্ত হয়। তাই আমাদের পক্ষে তাদের নিষেধ করা বা বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই।
সময়ের আলো : অনেকে বলে আপনি ফেমিনিজম (নারীবাদ) নিয়ে কাজ করছেন। এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী?
ড. আকরাম নদভী : আসলে আমি কখনো ফেমিনিজমের পক্ষে ছিলাম না, মানুষ মনে করে। আমি ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের পক্ষে। ঘটনা হচ্ছে, একবার মালয়েশিয়ায় ফেমিনিজমের পক্ষের একটি প্রোগ্রামে আমাকে দাওয়াত করা হয়। সেখানে গিয়ে আমি ইসলামের স্বাভাবিক ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান তুলে ধরেছি। আয়োজকরা ধারণা করেছিলেন, আমি ফেমিনিজমের পক্ষে বক্তব্য দিব। কিন্তু আমার বক্তব্যের পর তারা খুব আশাহত হয়। তারপর আমি ফেমিনিজমের বাস্তবতা নিয়ে একটি বই লিখেছি। এরপর তারা আর আমাকে ডাকেনি।
সময়ের আলো : শুনেছি হাদিসে আপনার উচ্চতর সনদ রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাই।
ড. আকরাম নদভী : আমি প্রায় এক হাজার মুহাদ্দিস থেকে হাদিসের ইজাজত পেয়েছি। তাদের জীবনীও প্রকাশ হতে যাচ্ছে সাত খণ্ডে, মাজমুআতুশ শুয়ুখ নামে। আমার শিক্ষকদের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে রাখব শ্রদ্ধেয় শিক্ষক দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামার মরহুম আবু হাসান আলী নদভী। আরবি ভাষা ও সামগ্রিক বিষয় শিখেছি মুহাম্মদ রাবে হাসানি নদভী এবং তার ছোট ভাই ওয়াজেহ নদভীর কাছে। হাদিসে আমার সর্বোচ্চ সনদ হচ্ছে মুহাম্মদ বিন আবদুর রাজ্জাক আল খতিব, একশর ওপরে ছিল তার বয়স। তার সনদ অনেক উঁচু। মাত্র ১৪ জনের মাধ্যমে ১২শ বছর আগে ইমাম বুখারি পর্যন্ত আমার সনদ। ইমাম বুখারি ইন্তেকাল করেন ২৫৬ হিজরিতে। আর বর্তমান ১৪৪৪ হিজরি চলছে। এ ছাড়াও ভারত-পাকিস্তান ও আরবের উচ্চ সনদধারী সবার থেকে ইজাজত নেওয়ার সুযোগ হয়েছে।
সময়ের আলো : ইমাম মাহদি সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? অনেক বলে আপনি ইমাম মাহদিকে অস্বীকার করেন!
ড. আকরাম নদভী : আসলে সেটা একটা প্রোপাগান্ডা। আমার বিভিন্ন বক্তব্যের কাটছাঁট অংশ প্রকাশ করেছেন কেউ। এ ব্যাপারে আমার বক্তব্য সেটাই, যা দেড় হাজার বছর ধরে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের উলামায়ে কেরাম বলে আসছেন। আসলে শাব্দিক অর্থে মাহদি মানে তো হেদায়েতপ্রাপ্ত। সে হিসেবে সব আম্বিয়া মাহদি ও সাহাবি মাহদি। তারা নিজেরাও হেদায়েতপ্রাপ্ত ছিলেন এবং অন্যদের হেদায়েতপ্রাপ্তির কারণ ছিলেন। শেষ যুগেও একজন মাহদি আসবেন, যার মাধ্যমে সংস্কারের কাজ হবে। শাব্দিক অর্থে অনেক মানুষ মাহদি হতে পারেন আর হাদিসে বর্ণিত শেষ যুগের ব্যক্তি মাহদিও আসবেন।
সময়ের আলো : বাংলাদেশ সফর করে কেমন লাগল?
ড. আকরাম নদভী : আসলে আমি সত্যিই অনেক অভিভূত। বাংলাদেশ অনেক সুন্দর, সবুজ-শ্যামল, এখানকার মানুষ খুব আন্তরিক, সবার আচার-ব্যবহার অমায়িক। ইসলাম ধর্মের প্রকাশ সর্বত্রই বিরাজমান। বাংলাদেশ সেই বরকতপূর্ণ ভূমি, যেখানে ভারতবর্ষের প্রথম দারুল হাদিস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শায়খ শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামা। সোনারগাঁয়ে তার কবর জিয়ারত করেছি। বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে প্রোগ্রামে নারীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখেছি, হল ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। চট্টগ্রাম ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতেও সুন্দর অভিজ্ঞতা হয়েছে। আর বাংলাদেশের সঙ্গে আমার সম্পর্ক আরও গভীর ও নিবিড় হওয়ার কারণ হচ্ছে, সম্প্রতি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক ছেলের সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে হয়েছে। আমাদের ‘আস-সালাম ইনস্টিটিউট’ তিনিই পরিচালনা করছেন। বাংলাদেশে এটা আমার দ্বিতীয় সফর। ৩৭ বছর আগে একবার বাংলাদেশ সফর করেছিলাম।
সময়ের আলো : সফরের ব্যস্ত রুটিনের ফাঁকে আমাদের সময় দেওয়ায় আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
ড. আকরাম নদভী : আপনাদেরও ধন্যবাদ জানাই।