প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ জুন, ২০২৩, ৫:২২ এএম
সিপিডির ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, দেশে নির্বাচনি ডামাঢোল চলছে। কিন্তু বাজেট নির্বাচনমুখী হয়নি। গাম্ভীর্য হারিয়ে বাজেট এখন হয়ে গেছে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী। বাজেটের ভেতর দিয়ে গত ১৫ বছরের সরকারের অর্জনগুলো ছিল ওই শত শত পৃষ্ঠার ভেতর মনে দাগ কাটেনি। প্রস্তাবিত বাজেট তৈরিতে রাজনীতিবিদ ও নাগরিকদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। এ ছাড়া নির্বাচনের আগে বাজেটে জনতুষ্টি অর্জনের মতো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বুধবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ও সিপিডি আয়োজিত এক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
আলোচনার বিষয় ছিল, জাতীয় বাজেট ২০২৩-২৪ : অসুবিধাগ্রস্ত মানুষগুলো কি পেল?
আলোচনা সভায় অংশ গ্রহণ করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান ও রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান।
ড. দেবপ্রিয় আরও বলেন, রাজস্ব আহরণের মরিয়া চেষ্টার ফলে যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া হচ্ছে এ গুলো রাজনৈতিক বিবেচনায় মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে মনে হয় না। এটা যে নির্বাচনি বাজেট না তাও লক্ষণীয়। রাজনৈতিক সরকারের বিবেচনায় মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে মনে হয় না। এই বাজেট আমলাতান্ত্রিকভাবে রাজস্ব আহরণের প্রয়োজনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকারের হাতে খরচ করার মতো টাকাও নেই। ডলারও নেই। তাই খরচ করার টাকা সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এই বাজেট যে নির্বাচনি বাজেট নয় তা স্পষ্ট বোঝা যায়। ওই পদক্ষেপগুলো একটি রাজনৈতিক সরকারের বিবেচনায় কতখানি গ্রহণযোগ্য তা যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। রাজস্ব আহরণের জন্য যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে তার অনেক পদক্ষেপ দরিদ্র মানুষকে প্রভাবিত করবে। আর তা নেতিবাচকভাবে প্রভাব ফেলবে।
তিনি বলেন, বহু আগে একজন প্রয়াত অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, প্রত্যেক বাজেট নির্বাচনি বাজেট। নির্বাচনি বাজেটে থাকবে জনতুষ্টিমূলক কর্মসূচি। রাজনীতি যদি থাকত তা হলে জনপ্রতিনিধিরা টাকা দেওয়ার জন্য কথা বলত। আমার প্রশ্ন এই বাজেট তৈরিতে কতজন জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সম্পৃক্ত ছিলেন। কিন্তু এবারের বাজেট তৈরি করার আগে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সঙ্গে কোনো বৈঠকই করা হলো না। অথচ এর আগে যারা ছিলেন তারা অন্তত একবার বৈঠক করতেন। সেই বৈঠকে আলোচনা যাই হোক না কেন একটা মর্মবাণী পাওয়া যেত।