ঢাকায় যানজটে বছরে ২৭৬ ঘণ্টা অপচয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী

যানজটে নগরীতে পরিণত হচ্ছে ঢাকা। প্রতিদিন গড়ে একজন ব্যক্তির ২ ঘণ্টার যাত্রাপথের ৪৬ মিনিট যানজটে বসে থাকতে হয়। আর বছর

2023-09-27T20:24:22+00:00
2023-09-27T20:26:39+00:00
 
  রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬,
২৪ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
রাজধানী
ঢাকায় যানজটে বছরে ২৭৬ ঘণ্টা অপচয়
বায়ু ও প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে সিপিডির জরিপ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, ৮:২৪ পিএম  আপডেট: ২৭.০৯.২০২৩ ৮:২৬ পিএম
যানজটে নগরীতে পরিণত হচ্ছে ঢাকা।  প্রতিদিন গড়ে একজন ব্যক্তির ২ ঘণ্টার যাত্রাপথের ৪৬ মিনিট যানজটে বসে থাকতে হয়। আর বছর শেষে জনপ্রতি যানজটে নষ্ট হয় ২৭৬ ঘণ্টা বা ১১ দিন অর্ধবেলা। যানজট বেশি থাকার কারণে পুড়তে হচ্ছে বেশি জ্বালানি ,অপচয় হচ্ছে সময় । সর্বোপরি উৎপাদনশীলতা নষ্ট হচ্ছে। আর বায়ুদূষণের ফলে মানুষ স্বাস্থ্যের যে ক্ষতি হচ্ছে, তার চিকিৎসায় একজন মানুষকে বছরে চার হাজার টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টর ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘রিডিউসিং পলিউশন ফর  গ্রিন সিটি’ শীর্ষক এক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

মূলত সংস্থাটি চলতি বছরের মে - জুন মাসে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকার ৫০০ পরিবারের উপর জরিপ করে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির রিসার্চ ফেলো সৈয়দ ইউসুফ সাদাত।


সিপিডি বলছে, চরিপে অংশগ্রহণ করা ৭৬ শতাংশ পরিবার মনে করছে বায়ু দূষণের পরিমাণ  গত ২-৩ বছরের তুলনায় আরো বেড়েছে। আর ৭৩ শতাংশ মনে করছে ২ থেকে ৩ বছর তুলনায় প্লাস্টিক দূষণের পরিমাণ বেড়েছে। ৪৩ শতাংশ পরিবার মনে করেন সরাসরি রাস্তায় প্লাস্টিক ফেলার কারনে এ দূষণ বাড়ছে। আর জরিপে অংশগ্রহণ করা ৫৭ শতাংশ খানা মনে করছে তাদের প্রতিবেশির ময়লা যেখানে সেখানে ফেলার কারণে পরিবেশ দূষণ বাড়ছে।

জরিপে অংশগ্রহণকারীরা দূষণের চার কারণকে দায়ী মনে করছেন। জরিপে অংশ নেয়া ৭৭ শতাংশ পরিবার মনে করে যানবাহনের কালো ধোয়া বেশি বায়ু দূষণ ঘটাচ্ছে। ১০ শতাংশ মনে করছে নির্মাধীন রাস্তা বা ভবনের ধুলা বায়ু দূষণ বাড়াচ্ছে। এছাড়া ৯ শতাংশ পরিবার মনে করে ময়লা আবর্জনা পোড়ানোর কারণে বায়ু দূষণ বাড়ছে, আর ৪ শতাংশ পরিবার মনে করছে ইটভাটার কালো ধোয়া পরিবেশের দূষণ ঘটাচ্ছে। 

তারা আরো বলছে, শুধু যে ঘরের বাইরে গিয়ে মানুষ বায়ু দূষণের শিকার হচ্ছে তা নয়। এর পাশাপাশি ঘরের ভেতরে নানা কারণে মানুষ বায়ু দূষণের শিকার হচ্ছে। সে কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সিগারেট, ই- সিগারেটের ধোয়া, চুলার ধোয়া অন্যতম। বায়ু দূষণের কারনে যে সব রোগ বেশি হচ্ছে তার মধ্যে অন্যতম হলো, শ্বাস কষ্ট, গলাব্যাথা, বুকের ব্যাথা, চোখে ঝাপসা দেখা।

প্রধানমন্ত্রীকে ধোকা দিয়ে সড়কের গাছ কাটা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার। 
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আমাদের প্রকৌশলীরা বড় সড়ক নির্মাণ প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিয়ে গেছেন। তিনি অনুমতিও দিয়েছেন। এরপর দেখা গেছে প্রকল্প এলাকার গাছ কেটে ফেলা হয়। পরিবেশের ওপর এর বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত থাকা সত্ত্বেও প্রকল্পের লোকজন নির্বিচারে গাছ কেটে ফেলে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী এটা বুঝেছেন। তাই এখন ভালোভাবে খোঁজ নিয়ে অনুমতি দিচ্ছেন। গাছ কাটার প্রয়োজন হয় এমন অনেক প্রকল্প তিনি ফিরিয়ে দিচ্ছেন।

সেমিনারে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক উন্নতি হয়েছে বটে, কিন্তু তা হচ্ছে পরিবেশকে ধ্বংস করে। পরিবেশ না বাঁচিয়ে উন্নয়ন করলে সে উন্নয়ন টেকসই হবে না। 

তিনি আরো বলেন, ২০০২ সালে আইন করে আমরা প্লাস্টিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছি কিন্তু কার্যত আমরা তা বন্ধ করতে পরিনি। সরকার কাজ করছে কিন্তু জনগণ তা জানতে পারছে না। সরকার কী কাজ করছে এটা জনগণের জানার দরকার আছে।

সেমিনারে পরিবেশ দূষণ রক্ষায় মোটা দাগে ১১টি সুপারিশ দিয়েছে সিপিডি। এরমধ্যে ইটের ভাটা ও কয়লাচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রের পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেওয়া। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ইটের ভাটা তুলে দেওয়া। সরকার ১০টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়ার কথা ভাবছে, সেগুলো নতুন করে চালু না করা। কয়লা থেকে সরে এসে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রণোদনা দেওয়া। যারা প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদন ও বিক্রি করছে, তাদের শাস্তির আওতায় আনা। প্লাস্টিক পণ্য বাদ দিয়ে বিকল্প পরিবেশসম্মত কাগজ বা কাপড়ের পণ্য উৎপাদন করতে চাইলে তাদের প্রয়োজনীয় প্রণোদনা দেওয়া। প্রয়োজনে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া। পরিবেশের দূষণ কারীকে আর্থিকসহ আরও যেসব শাস্তির অধীনে আনা যায়, সেগুলো নিশ্চিত করা।

এছাড়া পরিবেশ সহায়ক নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ভর্তুকি বাড়ানো।  এ সম্পর্কিত আইন ও নীতিমালাগুলো হালনাগাদ করা। আইন প্রয়োগ করতে যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেগুলোকে শক্তিশালী করা; জবাবদিহি সৃষ্টি করা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা, যাতে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ চলে না যায়। জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে সরকারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।

সময়ের আলো/এম

Advertisement
Loading...
Loading...
রাজধানী- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: