ই-পেপার বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত কবিতা
প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২০, ১১:২২ পিএম আপডেট: ১৯.০৩.২০২০ ১১:২৩ পিএম  (ভিজিট : ২১৯৯)
শ্রদ্ধাঞ্জলি ২০২০
আসাদ মান্নান

আলোর নদীর স্রোতে দ্যাখো আজ সেই আততায়ী অমাবস্যা
ভেসে যাচ্ছে; যে-নগর ব্যর্থ হলো পিতাকে বাঁচাতে, সে-নগর
নতুন দিনের ব্রতে আগুনের জামা গায়ে উঠে দাঁড়িয়েছে :
বেঁচেও মৃতের মতো ভয়ে ভয়ে যারা তেত্রিশ বছর ধরে    
‘স^^াধীনতা’ এই প্রিয় শব্দটিকে লুকিয়ে রেখেছে, অই দ্যাখো
দ্বিধা ভয় জয় করে তারা আজ দাঁড়িয়েছে মুক্তি-মোহনায়;     
সূর্যকে আঁচলে নিয়ে কুয়াশার জাল ছিঁড়ে পিতার মতন
এ মাটিকে ভালোবেসে যে এসে দাঁড়াল রবীন্দ্রনাথের গানে,
    
তাঁর প্রাণে কে জ্বালায় অবিনাশী আলো?... হে উড়ন্ত স্বপ্নপাখি!
তুমি আজ নিচে নেমে অই মৃত নদীকে জাগাও; অভিশপ্ত
নগরীর অই কলঙ্কের দাগ মুছতে শিশুপার্ক ছেড়ে আজ
শিশুরা এসেছে ইট-পাথরের নিচে চাপা গৌরবের মাঠেÑ
নতুন শপথে তারা উজ্জীবিত হবে; পতাকার রঙ দিয়ে     
পিতাকে উদ্ধার করে তুলে রাখবে হৃদয়ের অথই নিবাসে।


মুজিবের নামে
ফারুক মাহমুদ

এ হলো এমন গল্পÑ পর্বত সমান
এ হলো এমন গল্পÑ সাগরের গান

এ হলো এমন গল্পÑ ঘুমপাড়ানিয়া
এ হলো এমন গল্পÑ ঘুমতাড়ানিয়া

এ গল্পে দাঁড়িয়ে আছে মানুষের ক্রোধ
এ গল্পে ছড়িয়ে আছে ন্যায় প্রতিশোধ

এ গল্পে স্বাধীনতাÑ কেনা রক্তদামে
এ গল্পে শত গল্প মুজিবের নামে


ভ‚মিপুত্র
আশরাফ রোকন

আমাদের ছিলো না একটা কোনো নিজস্ব আকাশ
আকাশের গায়ে ছিলো না নিজস্ব সূর্য কোনো,
ছিলো না জোছনাময় কোনো চাঁদও আমাদের
ছিলো না তারাদেরও নিজস্ব আলোক বিকিরণ
আর নিজের বলতে ছিলো যে-টুকু ভ‚মিষ্ঠচিহ্ন
চৌদ্দগোষ্ঠীর বসতভিটা পায়ের তলের মাটি
তাও ছিলো এক খচ্চরের পরিচয়ে পরিচিত
অথচ ইতিহাস কিন্তু কখনো এমন বলে নি
আর কে না জানে এ বঙ্গ ললনার অতীতগাথা
সুবর্ণ যে নাম পৃথিবীজুড়েই সুবিদিত চিরকাল!
মূলত বিষম কাঁটার মতোই বিঁধেছিলো
পরাধীনতা সে-দিন প্রকৃতই আমাদের গলায়Ñ
ছিলাম সকলে বন্দী নিষ্ঠুর হায়েনার খাঁচায়
দুঃসময়ের হাতে প’ড়ে নষ্ট হবার মুহূর্তে অস্তিত্ব
আমাদের চেতনার অবশিষ্ট অংশটুকু এক করে
তুমি এলে একটা উদার সার্বজনীন আহŸান
আমাদের সকলের মাথার উপর দীপ্যমান
হে ভ‚মিপুত্র হে চেতনার আকাশ আমাদের।


বংশীবাদক
আদিত্য নজরুল

জার্মানির একটি ছোট্ট শহরের নাম হ্যামিলন :
সেই শহরে
ইঁদুরের এতোই উপদ্রব ছিলো যে
এক কথায় নগরবাসী
পরাধীন ছিলো।

নিরুপায় হ্যামিলনবাসীকে উদ্ধার করতে
একজন বংশীবাদক এসেছিলেন।
সম্মোহনী বাঁশির সুরে
ইঁদুরগুলো ওয়েজার নদীতে ফেলে
শহরকে মুক্ত করেছিলেন।

এই দেশেও সেই বংশীবাদক এসে
পাকিস্তানিদের কাছ থেকে
বাঙালি জাতিকে মুক্ত করেছিলেন।
আমরাও হ্যামিলনবাসীর মতো
বংশীবাদককে পারিশ্রমিক না দিয়ে হত্যা করেছি।


মধুমতী
শাহীন রেজা 

জেগেছে জলের তৃষা; জল নয়
তাই তুমি এঁকে গেছ করুণা জলের
ভেসেছ জলের দেহে; জলজ আত্মায়।

নাম তার মধুমতী আবাল্য সখা
ডুব দিয়ে সেই জলে মিটেছে তৃষা
জেনে গেছ ভালোবাসা সেও বুঝি তৃষা এক
সাঁঝে ও সকালে,
তাই তার ধ্যানে বসে থেকেছ একাকী
গভীর জ্যোতির ধ্যান জ্ঞানে অজ্ঞানে।
এই মাটি এই দেশ সোনার মানুষ
কাবিনের মতো যেন বেঁধেছে তোমাকে।

মধুমতী ছাড়ে ডাক নিরন্নের কালে
তোমার ধূসর হাতে ফসলের স্বাদ।


বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবি বাংলার মানচিত্র আফিফ জাহাঙ্গীর আলি

প্রত্যুষের সূর্য দীপ্তিমান
হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
দোয়েলের শিসে বাংলার জনক অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুর জয়গান
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আকাশে দীপ্ত-বাতাসে বহমান একটি নাম
অবিস্মরণীয় বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি রোমন্থন বাঙালির প্রতিক্ষণ
টুঙ্গিপাড়ার মাটিতে জন্মে খোকার সোনার বাংলাকে
করেছেন ফুলেল উর্বর খাঁটি
অকুতোভয় বলীয়ান মহান নেতা-জাতির পিতার জন্ম
বাংলাকে করেছে বিশ^^ দরবারে ধন্য
স্বাধীনতার মহানায়ক কালজয়ী বঙ্গবন্ধুর লোমহর্ষক শোকগাথা প্রস্থান
শোকের সাগরে বাংলা ভাসমান বাঙালির হৃদয়ে রক্তক্ষরণ প্রবহমান
বাংলার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিচ্ছবি বাংলার মানচিত্র
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব
জন্মশতবার্ষিকীর শ্রদ্ধাবনত নিযুত কোটি ভালোবাসা।


জাতির পিতার প্রতি
বদরুল হায়দার

হাজার বছর জুড়ে বিজাতীয় অধীনতা থেকে
বাঙালি জাতির পিতা তুমি দিয়েছো মুক্তির মন্ত্র
ঘোষণা করেছো বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

কোটি বাঙালির পিতা হয়ে
জেল জুলুম সংগ্রাম পরাধীনতায় তোমার
বজ্রকণ্ঠে বেজে উঠেছিলো স্বাধীনতা ও মুক্তির সংগ্রাম।
তোমার মহান মানবতা প্রীতি অহিংস স¤প্রীতি
হৃদয় জোয়ারে বহে চলে ভালোবাসার
পদ্মা মেঘনা যমুনা মধুমতী।

বঙ্গবন্ধু তুমি অমর কবিতা গান
তোমার মহান আহŸান চিরজাগ্রত প্রাণ
মানব হৃদয় জুড়ে স্বাধীনতা উদ্যান।

পিতা তুমিহীন সব বাধ্যতা আমার কাছে
অবাধ্যতা মনে হয়। তোমার অভাবে চলে
সমুদ্রে সিগন্যাল। নগর হৃদয়ে ভ‚মিকম্প।

বৃক্ষ ফুল মাছ ও পাখিরা দুঃখ পেয়ে
ডাক দিয়ে ওঠে তোমার প্রতিবাদের ভাষা।

বঙ্গবন্ধু তুমিই জাতির জনক
মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ঘোষক।
তুমিহীন স্তব্ধতার অবসাদ দুঃখ দরিয়া জুড়ে
শুরু হয় হতাশা। স্বাধীন বাংলার মানুষের
ভেঙে যায় স্বপ্ন আশা।

পিতা তোমাকে যারা হত্যা করেছে
তারা কাপুরুষ, ঘৃণ্য সিমার পাষাণ।

বঙ্গবন্ধুর নাম
প্রণব মজুমদার

বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে কত লেখা কত গান
মনকাড়া অমর বাণী
চেয়ে দেখো তোমরা, রক্তাক্ত সিঁড়িতে
কী তাঁর মূর্ত মুখখানি!

শত্রæ মিত্র ভালোবেসে বিশ^বন্ধু দিয়ে গেলেন প্রাণ
এমন মানুষ আর পাবে না, শোক হবে না অবসান।

ইতিহাসের খলনায়কেরা না হয় দিলো তাঁকে দাম
বিশ^ সরব হয় আজ পুষ্পশোভিত শেখ মুজিবের নাম।


সাতই মার্চ
আহমেদ শরীফ শুভ

কবি আসে কবি যায়
ভোরের শিউলি ফোটে শুধু এক কবিতায়
শিশিরে দূর্বা ভিজে, কিশোরী যুবতী সাজে এক লহমায়
শুধু একজন কবি এলে
মরা নদী ঢেউয়ে জাগে স্রোতের উজান
একটি অমোঘ বাণী
ঠোঁটে ঠোঁটে ভেসে আসে ফুল পাখি মানুষের প্রসবের গান

কবি আসে কবি যায়
মুজিবর একজনই
মুক্তির পয়ার আনে এই বাংলায়
কবিতার তর্জনী সেøাগানের সুরে সুরে
লেলিহান শিখা হয়ে যায়
একটি কবিতা তার
ফাগুনে আগুন জ্বালে রক্তে, শিরায়।

মৈনাক চ‚ড়ায়
নিলয় রফিক

মৈনাক চ‚ড়ায় সূর্য, প্রজ্বলিত পথ
স্বপ্নের মিছিলে মুখ, ছয় দফা লিপি
তীব্রঢেউ শব্দমাঠে কৃষ্ণচ‚ড়া লাল
গুহায় পাহাড়ে বন্দি আগুন মানুষ।
উত্তাল হৃদয় ভেঙে পড়ে শক্তইট
সমারোহ দৃশ্যপট অচল আকাশ
রক্তভাষা মহাকালে অঝর কাহিনি
পিতাকণ্ঠে অগ্নিঝরা মুক্তির বিজয়।

দলবেঁধে প্রাণখুলে সবাই বাঙালি
মিশে যায় সৃষ্টিজীবী শান্তির আলয়
সাহসে উদারচিত্তে সমুদ্রের মন
মানচিত্র রক্তমাখা জনকের ঘুম
এতো লজ্জা ইতিহাসে শোকের বিরল
নক্ষত্রের জয়গান আলোর মুজিব।

নদী থেকে যাবে আপন নামের ঢোলে
মোস্তফা হায়দার

সেদিন নদীর পাড়ে দাঁড়াতেই
বিশাল আকাশের সুতো দেখতে পাই
গাঙচিলগুলো উড়ছিল ঠিক নিজের মতো করে
হঠাৎ বায়বীয় চিৎকারের ঢঙে
পাখিদের বুলিগুলো বা ডানা ঝাপটানো দৃশ্য
পরিবর্তন হতে হতে নদীর স্রোতই ভুলে গেছে!

আশ্চর্য এক শিহরনে পাখাগুলো কাঁপছিল থরথরে
পাখিদের ইচ্ছে ডানায় সুতো জড়ানো হয়েছে
পাখিরা পারছে না উড়তে! পারছে না নিজস্বতায় চলতে!
এক নতুন সমীরণের ছোঁয়ায় তাদের পালক খসতে বসেছে
তাদের বুলি পরিবর্তন হতে হতে
একেকটা চেতনার ফেরিওয়ালা হয়েই
সম্মুখের পথ পাড়ি দেয়ার ব্যর্থচেষ্টা করছে!

গাঙচিলগুলো গাঙ বা গাঙের পাড় ভোলে না কখনো
তবে বেতাল সঙ্গীদের সাথে হারিয়ে যায় বেপথে
গতিহীন গন্তব্যে তারা হয়ে ওঠে একেকটা যাযাবর।

স্রোত হারিয়ে যাবে মোহনার চাপে
পাখিগুলো চেতনায় দিকভ্রান্ত হবে
হয়ত নদীও ভরাট হবে আবর্জনার স্ত‚পে আর ঘ্রাণে
নদী থেকে যাবে আপন নামের ঢোলে
জন্ম থেকে প্রজন্মের হাত ধরে ইতিহাস হয়ে।


শ্রাবণ সন্ধ্যায়
বঙ্গ রাখাল
ঘরফেরত মানুষের পিঠে ক্লান্তির ছোপ ছোপ দুঃখÑ নদীর তীরে উড়ে আসা কৈতরের নিবিড় প্রতীক্ষায়Ñ কাৎলা চিতলের সে কি এক উচ্ছ¡াস, কাশবনে ছেয়ে গেছে জোছনার শাদামেঘ। হাটের মাঝে সরকারের গান ভেসে আসে কানেÑ
আমার বুকের মধ্যে তুমি বন্ধু
   আমি তোমার কোথায়
বুক ভেঙেছে অন্তর জ¦ালায়
   মন ভেঙেছে খোটায়।
শ্রাবণসন্ধ্যায় তুমিও গানের আসরে... শুভ্র পাঞ্জাবি পরনে তাঁতের লুঙ্গি, চোখে কালো ফ্রেমের চশমা। তোলপাড় করে বুকের মধ্যে সরকারের গানÑ চোখে তোমার সোনা ঝরা জল... কৃষকের ঘরে নাই চালÑ পাঞ্জাবির পকেট থেকে সব দিলে তারেÑ মগ্নতার জোয়ার তোমাকে বড্ড শ^াসরুদ্ধ করে।

শুভ্রতার পরশ হাজার হাজার মানুষের বুকের মধ্যে তোমার প্রাণ-স্বপ্নময় বটবৃক্ষ ছাপ্পান্ন হাজার পতিত ভ‚মিপুত্রকে দিয়েছো আলোকিত শৈশব।

স্বাধীনতা মানেই মুজিবশারমিন সুলতানা রীনা

এক মুজিবের রক্ত থেকে
লক্ষ মুজিব ফোটে
স্বাধীনতার গান গেয়ে ওই
ভোরের সূর্য ওঠে।

সেই সুরেতে বাবুই পাখির
ঘরখানি খায় দোল
মায়ের কোলে শিশুর প্রথম
মুজিব মুজিব বোল।

তাঁরই নামে ফুল পাখিদের
মিষ্টি কলতান
নদীর বুকে ঢেউয়ে ঢেউয়ে
তিনি বহমান।

দূর দিগন্ত জুড়ে কেবল
শেখ মুজিবের মুখ
স্বাধীনতা মানেই মুজিব
গর্বে ভরা এই বুক।

বিজয় এলে গাই সকলে
স্বাধীনতারই গান
বঙ্গবন্ধু আর বাঙালি
দুই দেহে এক প্রাণ।


শুভ জন্ম পিতা
অতনু তিয়াস

হে মহান প্রিয় নেতা, মুক্তির প্রণেতা
শুভ জন্ম বঙ্গবন্ধু, শুভ জন্ম পিতা।
বাংলার হৃদয় তুমি বাঙালির প্রাণ
সংগ্রামে সাহস তুমি ঘুরে দাঁড়ানোর গান
তুমি স¤প্রীতি তুমি শান্তি বিশ^^মানবতা।
শুভ জন্ম বঙ্গবন্ধু, শুভ জন্ম পিতা।।

তুমি আছ দোআঁশ-পলির রন্ধ্রে মিশে
তুমি আছ ফুল-ফসলের গন্ধে মিশে
তুমি আছ মুক্ত হাওয়ায়, পাখির ডানায়
সবুজ ডাঙায়, ভরা নদীর কানায় কানায়
মহাকালের মর্মে লেখা মহাকাব্যগাথা।
শুভ জন্ম বঙ্গবন্ধু, শুভ জন্ম পিতা।।

তুমি আসো হাতের মুঠোয় সূর্য নিয়ে
দিয়ে যাও চেতনহীনের ঘুম ভাঙিয়ে
সাম্যের প্রতীক তুমি স্বপ্ন-রূপকার
বজ্রকণ্ঠে ডাক দিয়ে যাও সুষম অধিকার
তর্জনী উঁচিয়ে দেখাও চিন্তার স্বাধীনতা।
শুভ জন্ম বঙ্গবন্ধু, শুভ জন্ম পিতা।।



সতেরই মার্চ
সুপান্থ মিজান

সুনীল আকাশ মেঘাচ্ছন্ন অত্যাচারে,
এর সমাধান চাইলো সবাই নির্বিকারে।
মায়ের কোলে চাঁদ উঠেছে মিষ্টি হেসে,
আকাশ যেনো প্রশান্তি পায় বৃষ্টি শেষে।
চলার পথে বাবা পেল আলোর দিশা,
কাটলো এবার মনের কোণে অমানিশা।
কোকিলেরা ডাকে আজি মধুর সুরে,
মাঝির কণ্ঠে গান শোনা যায় বহু দূরে।
মনময়ূরী নাচে তারই পেখম খোলে,
কৃষক শ্রমিক সুখে হাসে কষ্ট ভুলে।
সূর্য আজই দিচ্ছে আলো ঝলমলে খুব,
ভয়ে সকল আঁধার কালো দিচ্ছেরে ডুব।
এমন দিনে ক্যানো বাজে সুখের বীণ,
জাতির পিতার জন্মক্ষণের এলো রে দিন।


জাতির জনকের হাত ধরে
ফারুক আহমেদ

কীভাবে একটি তর্জনি জাতির জেগে ওঠার প্রতিভ‚ হয়ে ওঠে!
একটি পাঞ্জাবি হয়ে ওঠে সকালের মতো শুভ্র প্রেরণার প্রাত্যহিকতা
কীভাবে তাঁর উচ্চারিত শব্দে ভর করে ভাষা পায় ফুল-পাখি-প্রকৃতি;
ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল বলে ওঠেÑ জয় বাংলা; সে পরম আশ্চর্য!

দেখতে পাচ্ছি, তাঁর পেছন পেছন বাংলাদেশ হাঁটছে;
তাঁর পেছন পেছন হাঁটছে একটি জাতির স্বপ্ন-স্বাধীনতা।
তিনি রেসকোর্স বলা মাত্র, লাঙ্গল, লাঠি, কাস্তে, বল্লম
এসে হাজির হচ্ছে রেসকোর্সে;
হাজির হচ্ছে তুলি, কণ্ঠ, কলম
হাজির হচ্ছে দুইশত বছর ধরে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা স্বাধীনতা।
এইভাবে বাংলাদেশ এসে দাঁড়ালো তাঁর পেছনে;
দাঁড়ালো একটি নদী, সব নদী, সুন্দরবন, রয়েল বেঙ্গল টাইগার
স্বপ্নমাখানো একটি বাংলাদেশের সমান হাসি নিয়ে
লাল-নীল-বেগুনি-সবুজ কত রকমের বাংলার মানুষ;
এবং একটি বিস্ফোরিত দিন।
যে দিনটির নাম ২৬ মার্চ
যে দিনটি পিতার কনিষ্ঠ আঙুল ধরে হেঁটে হেঁটে
রক্ত, কান্না, নুয়ে পড়া দিনের পর দিন পেরিয়ে
এসে এই বাংলায় হয়ে গেল ১৬ ডিসেম্বর।



বিশ^^াসঘাতকের পদধ্বনি
আরিফ মঈনুদ্দীন

অবিস্মরণীয় আনন্দ-বাধ্য খইয়ের মতো ফুটতে ফুটতে
এক সময় স্থিত হয়। জনান্তিকে কেউ-একজন বলে ওঠে,
           ‘বিশ^^াসঘাতকের পদধ্বনি ওই শোনা যায়’
এই আপ্তবাক্যকে পাত্তা না দিয়ে জনকের তর্জনী বাতাসে লিখে
দিলেনÑএই বঙ্গে কে আমাকে বুক থেকে ঠেলে দেবে?
          তোরা সব জয়ধ্বনি কর
          অনন্তকালের জয়ধ্বনি;
একটি দেশ পেয়েছি
তাকে এক-জীবন আদরে ভরিয়ে দেবো
শিশুর প্রতি স্নেহের মতো
প্রকৃতির নিখাদ মমতার মতো

অতঃপর রাত্রিকে আলিঙ্গন করে সব দুঃখ-ব্যথা-বেদনা ভুলে
শঙ্কাহীন এক বিছানায় শুয়ে পড়ে বাংলাদেশ
শান্ত সমাহিত এক জনপদ পাখির ডাকের নিশ্চিন্ত অপেক্ষায় থেকে
যখন বন্দুকের ডাকে জেগে উঠলোÑকী চমৎকার
এক স্বপ্নের করুণ মৃত্যু তাকে হামাগুড়ি দিয়ে বুকে তুলে নিল

বিশ^^াস ভঙ্গের আহাজারি বাতাসে মিলিয়ে যেতে যেতে
বলে গেলো শেষ কথাÑ
পলাশীর আম্রকাননে যে জারজ ভ্রƒণ রোপিত ছিল
তাহাই হঠাৎ বৃক্ষ হয়ে হেঁটে এলো ধানমন্ডির বত্রিশ নম্বরে,
মনের জ্বালা মিটিয়ে আবারও বিশ^^াসঘাতক অভিধায় চুমু দিয়ে
রক্তের ভাষায় বলে গেলোÑপিতার নাম
        মীর জাফর আলী খান
        অন্ধকার সাকিন তার
        পেশায় বেইমান।



বঙ্গবন্ধু তুমি
এস,এম, মাসুদ রানা (রবি)

দিন যায় রাত আসে,
তবু তুমি আস না ফিরে, হে বঙ্গবন্ধু।
তোমাকে খুন করেছে যারা,
ওরা মানুষ নাকি জানোয়ার অথবা জন্তু।
সব কটা জানালা খুলে দিয়েছি
তুমি আসবে চুপি চুপি বলে,
কিন্তু তুমি এক সাগরের রক্তের বিনিময়ে
স্বাধীনতা দিয়ে চলে গেলে।
তুমি বাংলার সূর্য সন্তান,
কোটি বাঙালির হৃদয়ে তোমার স্মৃতি অমøান।
বাংলার মাটি, গাছ, আলো, বাতাস, নদী,
চায় বঙ্গবন্ধু ফিরে আসতে তুমি যদি!


উত্থিত আঙুলে তুমি
ফরিদ ভ‚ঁইয়া

নেতা
তোমার উত্থিত এক আঙুলের নিচে এসে
দাঁড়ালো যখন নিপীড়িত-শোষিত সকল
দ্রোহে জ্বলা প্রত্যেকের আগুন দু’চোখ
সম্মোহিত হলো, পেলো শোষণমুক্তির ডাক...

উত্থিত আঙুল ইশারায়
সৌর পরিক্রমার এখানে ষড়ঋতু
একীভূত হলো, ঘনীভূত হলো
সহসায় বয়ে এলো বসন্ত বাতাস...

তারপর, তারপর
দিক ইশারার সেই আঙুলের ডগা ফেটে
রক্ত চুঁয়ে চুঁয়ে ভিজে গেছে দেহ থেকে দেশ
ভিজে গেছে পূর্বাপর একটি জাতির পটভ‚মি

সংরক্ষিত হৃদয়ে তুমি
বিভাজিত সময়ের পথে পথে প্রজন্ম পথিক;
কেউবা শোনায় বঙ্গবন্ধু, জাতি বাঙালির পিতা
কেউবা আবার ইতিহাসের পাতায় হাত রাখে
পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে দেখায় পথের পরিক্রমা...
অব্যাহত সংগ্রামের তুমি পরম্পরা
দেশ স্বাধিকার পথে অবিভাজ্য
স্বাধীন দেশের সার্থক স্থপতি
মথিত সত্যের সবটুকু বুকে নিয়ে
নিভৃত পাঠক, পাঠ করি তোমার জীবন খাতা
পাঠ করি, আসমানি আয়াতের মতো
মর্মভাষা তোমার উত্থিত আঙুলের

উত্থিত আঙুলে তুমি
শোষিতের সেই আগুন দু’চোখ দেখি
সম্মোহিত হতে চায়, জীবন বাজির
বিশ^^াসের অগাধ আবেগে...
সময় এখনো হায়! বিভাজিত...
কীসে ভ‚ল ছিলো জান তো?
 
আমাদের খুব প্রয়োজন মানস গড়ন
সেই কণ্ঠহার
যার সাধন সুতোয় গাঁথা
পরম সৌহার্দ্য মতি হিরের ঝলক
শত মত ও পথের বৈচিত্র্য বৈভব...




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫ | ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com
close