বনের
শেষপ্রান্তে একটা মুরগি বাস করত। তার ছিল একটি সুখী জীবন এবং নিজের সমস্ত
কাজ নিজেই করত। একদিন খুব সকালে সে বনের মধ্যে কেঁচো শিকার করে। সে তার ঘর
পরিষ্কার করে রান্না করল। আরামসে খেয়েদেয়ে বাকি সময়টি শান্তিতে বিশ্রাম
নিল।
মুরগিটির কাছাকাছি তার বৃদ্ধ মায়ের সঙ্গে একটি মধ্যবয়স শিয়াল থাকত।
একদিন শিয়াল ও তার মায়ের বাড়িতে খাওয়ার কিছুই ছিল না। আলসেমির কারণে সে
কয়েকদিন ধরে খাবার শিকারে যেত না। শিয়ালটি ভাবল, খুব বেশি পরিশ্রম না করে
কীভাবে কিছু খাবার ধরে আনা যায়। হঠাৎ তার মুরগিটির কথা মনে হলো।
কিন্তু
যে পাড়ায় শিয়াল এবং মুরগি বাস করত, সেই পাড়ায় সবাই এই নিয়মটি মেনে চলত যে,
খাবারের জন্য প্রতিবেশীরা একে অপরকে শিকার করবে না। এই নিয়ম প্রতিবেশীরা
দীর্ঘদিন ধরে মেনে চলেছে। এখন অবধি শিয়ালটির আদেশ অমান্য করার খুব একটা
প্রয়োজন পড়েনি।
ইদানীং বেশি করে গাছ কাটার সঙ্গে সঙ্গে বনটি কমতে শুরু
করেছিল। এর সঙ্গে প্রাণীগুলোও অদৃশ্য হয়ে যেতে শুরু করেছিল। এর জন্য শিকার
করা অনেক কঠিন ছিল। সঙ্গে সঙ্গে শিয়ালটি অলস প্রকৃতির ছিল।
একদিন সে তার
মাকে বলল, আমি শিকারে যাচ্ছি। শিকার ধরে আমি এই ব্যাগের ভেতরে রাখব।
চুলোতে একটি জলের পাত্র বসাও। আমরা আজ রাতে মুরগি সেদ্ধ খাব।
শিয়ালটি
চুপি চুপি প্রতিবশী মুরগির বাড়িতে উঠে পড়ল। মুরগি চুলা জ্বালানোর কাঠ তুলতে
বেরিয়ে দরজাটি খোলা রেখে দিয়েছিল। শিয়ালটি মুরগির বাড়ির দরজার পেছনে
লুকিয়ে রইল। মুরগি কাঠ নিয়ে ঘরে ঢুকে দরজাটি বন্ধ করে দেয়। শিয়ালকে সে
দেখতে পেল না। শিয়াল তাকে পেছন থেকে ধরে জোর করে ব্যাগের মধ্যে ভরে ফেলল।
ব্যাগের মুখ বেঁধে মুখে হাসিখুশি ভাব নিয়ে সে বনের গলিতে হাঁটতে শুরু করল।
মুরগি
খাওয়ার আশায় সে এতটাই খুশি যে, বস্তায় কোনো মনোযোগ দিল না। ইতোমধ্যে মুরগি
পকেট থেকে তার ধারালো ছোট ছুরিটি বের করে নিল। সে ব্যাগের ভেতর থেকে একটি
গর্ত কাটল এবং লাফিয়ে পড়ে একটি পাথর তুলে ব্যাগে ফেলে দিল।
শিয়াল যখন
তার গর্তে পৌঁছল, তখন তার মুখ থেকে মুরগি খাবার আশায় লালা পড়ছিল। সে বললÑ
মা মা, পাত্রের পানি কি ফুটছে? এতে সিদ্ধ করার জন্য আমি পুরো একটি মুরগি
এনেছি।
হ্যাঁ বাবা, গরম পানি ফুটছে। মুরগির জন্য ঠিক ঠিক। মা উত্তর দিল।
তারপর
শিয়াল ফুটন্ত পানির ওপর ব্যাগটি ধরল। মুরগির বদলে ভারী পাথরটি গরম পানির
পাত্রে ধপাস করে পড়ল। পাত্র থেকে ফুটন্ত পানি লাফিয়ে উঠল। গরম পানি শিয়াল
এবং তার মায়ের শরীরে ছড়িয়ে পড়ল। দুজনই পুড়ে গেল।
এরপর থেকে ছোট্ট মুরগিটিকে তার ছোট্ট বাড়িতে কেউ বিরক্ত করেনি।